শতদল ফুটতে দিন


Published: 2019-10-28 20:09:43 BdST, Updated: 2019-11-14 03:54:29 BdST

নূরে আলমঃ স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক অবস্থা আর এখনকার বাংলাদেশের অবস্থা এক নয়। এই অভাবনীয় পরিবর্তনের অনুঘটক নিয়ে আলোচনা, গবেষণা চলমান রয়েছে। যা দেশে বিদেশে বাংলাদেশ প্যারাডক্স নামে পরিচিত হচ্ছে।

বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতিবিদ ড. আকবর আলী খান সম্প্রতি এক টিভি অনুষ্ঠানে এক খ্যাতনামা সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশের এ তাক লাগানো উন্নয়নের পিছনে এদেশের সাধারণ মানুষের অবদানের কথা উল্লেখ করেছেন। সাথে সাথে সতর্ক করে দিয়েছেন এই বলে যে, এ উন্নয়ন সাধারণ মানুষের প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও কঠিন পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে। তিনি এই বলেও সতর্ক করে দিয়েছেন যে, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হলে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

দেশের উন্নয়নের সুফল সকলের কাছে পৌছে দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। দলমত নির্বিশেষে সবাইকে উন্নয়নের মূলস্রোতে নিয়ে আসতে হবে। সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুসারে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিতের ব্যবস্থা রাষ্ট্রকেই করতে হবে। সরকারি নিয়োগ থেকে শুরু করে ব্যবসা বানিজ্যসহ সকল ক্ষেত্রে ভিন্ন মতাবলম্বীরা যেন কোন ভাবেই সরকার বা সরকার সমর্থকদের দ্বারা বৈষম্যের শিকার না হন, সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

আর তা করতে হবে দেশ ও দশের কল্যানের জন্য। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হচ্ছে দেশের মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক বিভেদ ও অর্থনৈতিক শ্রেণীবিভাজন আজ ভয়ংকর পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা কোন মাপকাঠিতেই গ্রহণযোগ্য নয়।

একটি গণতান্ত্রিক দেশে বিভিন্ন দল থাকে,থাকে ভিন্ন ভিন্ন মত। আর তখনই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য প্রকাশিত হয় এবং এর মাধ্যমে নিশ্চিত হয় ক্ষমতার ভারসাম্য যা অতি ক্ষমতাধর হয়ে উঠা একটি সরকারকে স্বৈরশাসকে পরিণত হওয়ার পথকে সংকুচিত করে।

তাই প্রশ্নটি যখন বিভিন্ন মতের সহাবস্থানের, প্রশ্নটি যখন সদ্য এলডিসির গন্ডি থেকে বের হওয়া একটি দেশের যার জনগণ নিম্নমধ্যম, মধ্যম আয়ের তকমা পেরিয়ে উচ্চ মধ্যম ও উন্নত দেশের কাতারে শামিল হওয়ার স্বপ্নে বিভোর। তাই বিরোধী দল ও মতের প্রতি যেকোন ধরনের অসহিষ্ণুতা বা বৈষম্য বড় বেমানান শুধু নয় বরং আত্মঘাতি। বৃহত্তর স্বার্থে স্থানীয় ও জাতীয় জীবনের সকল পর্যায়ে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কমীদের প্রতি সরকার প্রধানের উদাত্ত আহবান জানানো উচিৎ যেন তারাও দেশ মাতৃকার উন্নয়নের কাজে আত্মনিয়োগ করে।

আর সে পরিবেশ সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে। স্থানীয় ও জাতীয় জীবনের সকল স্তরে বিভক্তির যে বিষবৃক্ষ ক্রমেই মহীরুহ হয়ে উঠছে তার কণ্ঠরোধ করার এখনই সময়। কিন্তু সরকার সে দিকটিকে যথাযথভাবে আমলে নিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না। যদি আন্তরিক হতো,তাহলে আবরার হত্যাকান্ডের মতো জঘন্য ঘটনাটি ঘটত না।

তাই দেশের স্বার্থে ভিন্ন মতের প্রতি উদারতা প্রদর্শন এখন সময়ের প্রধান দাবি। আর এর ব্যত্যয় হওয়ার ফলে ভিন্নমতের রুদ্ধ কণ্ঠগুলি এক মহা বিস্ফোরনের দিকে ক্রমেই ধাবিত হচ্ছে ও হবে। যা এই ক্রমঅগ্রসর অর্থনীতির দেশটি অভিষ্ট লক্ষ্যের সাথে খুবই সাংঘর্ষিক। আমার সুপরিচিত ব্যাক্তিদের মধ্যে থকে একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি হচ্ছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী মোঃ আব্দুর সালাম।

তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির অঙ্গ সংগঠন ছাত্রদলের ঢাকা কলেজ শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল সেক্রেটারি (এজিএস) ছিলেন। তিনি বলেন, তিনিসহ তার দলের অসংখ্য মানুষ সে দেশে রয়েছে। যারা দেশে আসতে চাইলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে আসতে পারছেন না। তাই দেশের ধারাবাহিক উন্নয়নের স্বার্থে ভিন্নমতের প্রতি সহিষ্ণুতার সংস্কৃতি গড়ে তোলা এখন সময়ের প্রধান দাবি।

লেখকঃ ফ্রিল্যান্স কন্ট্রিবিউটর


ঢাকা, ২৮ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।