ফেসবুকে ফেক একাউন্ট: কিছু পরামর্শ


Published: 2020-04-19 16:31:03 BdST, Updated: 2020-09-24 08:40:38 BdST

ড. মেহযেব রহমান চৌধুরী: সাধারণত ইলেকশন বা কোনো দুর্যোগের সময় (যেমন বর্তমান কালের সর্বনাশা করোনা ) ফেসবুক খুললেই দেখতে পাবেন নানা অনিয়মের অভিযোগ। সত্য মিথ্যা যাচাই হয়তো করতে পারবেন বুদ্ধি বিবেচনা দিয়ে। অনেকে ফেসবুক কমেন্ট সেকশন পড়েও উপলব্ধি করতে চেষ্টা করবেন ঘটনার বস্তুনিষ্ঠতা। কিন্তু কমেন্ট পড়ে আপনি বিভ্রান্ত হতে পারেন, কারণ ফেক একাউন্ট দিয়ে ছেয়ে গেছে সামাজিক মাধ্যম। কোনো খবর প্রকাশিত হবার সাথে সাথে ছুটে আসে এক পাল ফেসবুক একাউন্ট 'গুজব! গুজব!' চিৎকার করতে করতে। আবার গুজবকেও তারা খুব সহজেই সত্য বলে প্রতিষ্ঠা করতে পারে কীবোর্ডের জোরে। কিন্তু কিভাবে বুঝবেন কোনটা আসল আর কোনটা নকল?

ভালো করে লক্ষ্য করলেই দেখবেন প্রায়ই লক করা কিছু একাউন্ট কোনো এক গোষ্ঠীর গুণগান গাচ্ছে। ভালো কাজ করুক আর খারাপ করুক। দল বেঁধে তারা মনের আনন্দে দিনরাত কমেন্ট করছে।

নাম ক্লিক করলে জানতে পারবেন বেশির ভাগই ছাত্র ছাত্রী পরিচয়ে একাউন্ট খুলেছে নয়তো তাদের পেশা 'ওয়ার্কস এ্যট ফেসবুক'। প্রোফাইলে হাতে গোনা দু একটা ছবি। পোস্টে কোনো লাইক নেই বললেই চলে। কিন্তু আপনার পোস্ট বা কোনো পত্রিকা বা নিউজ সাইটে কমেন্ট করছে প্রচুর। নাম পুরুষের কিন্তু ছবি একজন নারীর। উল্টোও হতে পারে। বুঝতে হবে এগুলো ফেক একাউন্ট।

ইদানিং আবার নতুন এক ফেনোমেনা। ফেক পেজ। প্রোফাইল তৈরী না করে তারা বানাচ্ছে পেজ। সেখানে ১০টা বা এরও কম লাইক। পোস্টে কমেন্ট নেই বললেই চলে। কিন্তু পেজের মালিক কীবোর্ড যোদ্ধা। তার প্রিয় দল বা প্রার্থীকে নিয়ে কোনো রিপোর্ট বা পোস্ট হলে কমেন্ট করছে মেশিন এর মতো। এসব পেজ তাও চেষ্টা করে বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে। কিন্তু কিছু আছে যা নামি দামি ব্যক্তিদের সোশ্যাল মিডিয়ার হুবুহু কপি। ছবি, পোস্ট সবই নকল। দেখবেন পোস্ট আছে লাইক নেই। ছবিতে নেই কমেন্ট। থাকলে 'নাইস' বা 'গুড'।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়াতে হয়তো শুনে থাকবেন রাশিয়াকে নিয়ে অভিযোগ। ২০১৬-এর মার্কিন ইলেকশনে রুশ হ্যাকার এবং ফেক নিউজ কমিউনিটি সারা ফেসবুক ও টুইটার ছয়লাব করে ফেলেছিলো মিথ্যা ও বানোয়াট খবর দিয়ে। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। নিউজ এর সঙ্গে ছিল হাজার হাজার কমেন্ট সেই খবরকে রটান করতে। এত মানুষ সমর্থন জানাচ্ছে। বলছে খবর বস্তুনিষ্ঠ। বিশ্বাস না করে কোথায় যাবেন। কিন্তু একটু নজর দিলে বুঝে ফেলবেন সবই মরীচিকা।

রাশিয়ার সেই মেথড এখন বাংলাদেশে। পোস্টে একই ধাঁচের কমেন্ট। কথায় সামান্য পার্থক্য। কোনো ডাটা ফার্ম বা অফিসে বসে কয়েক ডজন নামহীন চেহারাবিহীন লোক একাউন্টগুলোকে কাজে লাগাচ্ছেন তাদের প্রিয় নেতা, নেত্রী বা সংগঠনের স্বার্থ রক্ষা করতে। আইডি ঠিকই বদলায় কিন্তু আইডির চারিত্রিক রূপ একই থাকে। তাই সবাই সতর্ক থাকবেন। এসব একাউন্টই বিভ্রান্তিমূলক খবর ভাইরাল করে। বস্তুনিষ্ঠ খবর মিথ্যা বলে অপবাদ দেয়। কোনো একদিন হয়তো এসব কীবোর্ড যোদ্ধাদের সন্ধান আমরা পাবো। তাদের মুখোশ উন্মোচন হবে। কিন্তু ততদিনে দেশ এর অবস্থা কি হবে তা নিয়েই চিন্তা।

সূত্র: মানবজমিন

লেখক: বৃটেনের নর্থহামব্রিয়া ইউনিভার্সিটির শিক্ষক।

ঢাকা, ১৯ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআইটি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।