মানুষকে বসে খাওয়ানো যায় না, এতে তার আত্মসম্মানে বাঁধে


Published: 2020-05-09 21:09:16 BdST, Updated: 2020-05-26 18:36:48 BdST

শাহাদত হোসেন: মানুষকে বসে খাওয়ানো যায় না, এতে তার মন ভরে না আর আত্মসম্মানেও বাঁধে। আর বসে খেলে রাজার ভাণ্ডারও ফুরিয়ে যায়। বলছিলাম যে জরুরী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আমরা যাচ্ছি তার কথা। আক্রান্ত পৃথিবীর কথা। সরকার চেষ্টা করছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে বাঁচিয়ে রেখে কোভিড-১৯ সংক্রমণের হার নিয়ন্ত্রণে রাখতে। সরকারের ছিদ্র আছে, ছিদ্রান্বেষী আছে, কাজ করতে গেলে ভুল হয়, মানুষের প্রত্যাশাও বেশি। বেটা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছ, রাষ্ট্রের করের টাকায় মজমা কর আর মানুষের মৌলিক অধিকারের দিকে নজর নেই, এসব কথাও আছে। আসলে, উন্নয়নশীল এ দেশটি সবেমাত্র একটু মাথাতুলে দাঁড়াতে শুরু করেছে, আর আমরা নিজেদের তুলনাও করি উন্নত বিশ্বের উন্নত ব্যবস্থার সাথে। ঘটে বিপত্তি, মিথ্যা কথা দিয়ে ভুলিয়ে ভালিয়ে রাখার প্রচেষ্টা চলে সর্বত্র।

আমরা জানি না আমাদের সন্তুষ্টির যায়গা কোনটি। বড়ই বিচিত্র মানুষের মন। নিজে রোজগার করে সামান্যতেও অনেক ভালো থাকে মানুষ, তবে হাত পেতে কিছু নিতে বড়ই সংকোচ বোধ হয় মানুষ জাতির। এজন্যই সে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ্তম জীব। ভালো থাকার আকাঙ্খাশক্তির জন্যই বিকাশ ঘটেছে এই সমাজের। নিজেকে মেলে ধরতে করে চলেছে নানা ধরণের উদ্ভাবনী কাজ। আর এটা যেমন সত্য যে, খুবই অল্পতেও মানুষ বাঁচতে পারে, তেমনি অনেক বেশি পেয়েও এই জাতি স্বস্তি পাই না। সব সময়ই একটি না পাওয়ার জ্বালায় জ্বলতে থাকে।

দেশে সাধারণ ছুটি যত বাড়ছে, মানুষের হাহাকারও তত বাড়ছে। দিনে দিনে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাওয়া মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। অথচ, এই মানুষগুলো আমাদের এই দেশেই কাজ করে খাচ্ছিল, ভালোই ছিল তারা। আজ গৃহবন্দী মানুষ, সভ্যতা। বলা হয়, মানুষের যা কিছু দুর্ভোগ, তা তার হাতের কামাই। অর্থনীতির শিক্ষা মানুষকে বিত্ত বৈভবের পথ দেখিয়েছে সত্য। আজকে জীবনের জন্য এত আয়োজন, তা হয়েছে এই পথ ধরেই। মানুষ কাজ পেয়েছে, নতুন নতুন আবিষ্কার হচ্ছে, বাড়ছে আয়। ভালো থাকছে মানুষ।

কিন্তু সাম্রাজ্যবাদের যে ধারণা পৃথিবীতে বহাল আছে, সেটা যে প্রকারেই হোক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ইত্যাদির মাধ্যমে মানুষকে, রাষ্ট্রকে নিজের করতলগত করার এ ধারণা এসেছে পুঁজির স্বাভাবিক আচরণের কারণেই, বলা হয়। পুঁজি কখনও বসে থাকতে জানে না, বড়ই চঞ্চল এই বস্তুটি। অনেক বেশি পুঁজি পুঞ্জিভুত হবে, তাকে আবার কাজে লাগাতে হবে নতুন পুঁজি গঠনে। পুঁজির ধর্মই এই। আর এতেই বাড়ে জ্বালা। আমরা এর জ্বালায় অতিষ্ট হয়ে ভাবছি, এসব আর না, এবার থিতু হব, এত দৌড় দিয়ে কি হবে। শান্তি চাই। আসলেই কি তাই!!

আমাদের দেশের বর্তমান অবস্থাটা একটু বুঝা দরকার। দেশের মোট বার্ষিক আয় প্রায় ৩১৫ বিলিয়ন ইউএস ডলার। ২০১৯-২০ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ধরা হয়েছিল ৮.১৩% অর্থাৎ এই হারে আয় বাড়লে বছর শেষে আয় দাড়াবে ৩৪০ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু বিশ্ব ব্যাংক, আই এম এফ-এর মতো বিশ্ব অর্থনৈতিক সংস্থার মতে, সেটা এখন নেমে আসতে পারে ২% থেকে ৩% এ। ৩% প্রবৃদ্ধি ধরলে জাতীয় আয় হবে বছর শেষে ৩২৫ বিলিয়ন ডলার। এই আয় হ্রাস সব খাতকেই সংকুচিত করবে। প্রভাব ফেলবে শ্রম বাজারে।

এবার দেশের শ্রম বাজারের অবস্থা বিবেচনা করা যাক। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কর্মসংস্থান স্থিতিস্থাপকতা .৭ [সূত্র: Khan (2007) finds that employment elasticity of GDP growth in developing countries to be 0.7] । এর অর্থ হলো জাতীয় আয় ১% বৃদ্ধি পেলে কর্মসংস্থান .৭% হারে বৃদ্ধি পাবে। শিল্পে ও সেবায় এ বৃদ্ধির হার বেশি, কৃষিতে কম। আমাদের অর্থনীতিতে শিল্প ও সেবার অবদানই সিংগভাগ অর্থাৎ ৮৬% তবে কর্মসংস্থান ধারণ করে ৫৯.৪%। এখন জাতীয় আয়ের প্রবৃদ্ধি ৫.১৩% কমে (৮.১৩%-৩%=৫.১৩%) গেলে কর্মসংস্থান সংকুচিত হবে ৩.৫৯%।

প্রথম আলোর ১৮ আগস্ট ২০১৯ এ প্রকাশিত: “বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো প্রকাশিত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের শ্রমশক্তি জরিপে বলা হয়, দেশে বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ৮০ হাজার। সংস্থাটির পূর্বাভাস ছিল ২০১৯ সালে এই সংখ্যা ৩০ লাখে উঠবে। বাস্তবে বেকারের সংখ্যা হয়ত অনেক বেশি। উল্লেখ্য, প্রতিবছর আমাদের শ্রমবাজারে যে ২১-২২ লাখ তরুণ-তরুণী যুক্ত হয়, যাদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি কাজ পায় না। আবার যারা কাজ পায়, তাদেরও একটা বড় অংশ অর্ধ-বেকার বা ছদ্মবেকারের জীবন যাপন করতে বাধ্য হয়। কেননা, তারা নিজেদের যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী কাজ পায় না। গত ১০ বছরে কৃষি খাত, নির্মাণ ও অবকাঠামো খাতে কর্মসংস্থান কমেছে।” ১০ জানুয়ারী ২০১৭ প্রথম আলো প্রকাশিত রিপোর্ট: সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট রিসার্চের (সিডার) ‘কর্মসংস্থান ও শ্রমবাজার পর্যালোচনা, ২০১৭’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে দেশের ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী প্রায় ২৫ শতাংশ তরুণ নিষ্ক্রিয়। তাঁরা কর্মবাজারে নেই, শিক্ষায় নেই, প্রশিক্ষণও নিচ্ছেন না।

এই পরিস্থিতিতে শ্রম বাজার যদি আরও সংকুচিত হয় তাহলে নতুন শ্রম শক্তি যেমন বাজারে প্রবেশ করবে, তেমনি উৎপাদন কমে যাওয়ার কারনে অনেকেই কাজ হারাবে। বিবিএসের সর্বশেষ ২০১৭ শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, সারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী ৬ কোটি ৩৫ লাখ। এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে কাজ করেন ৬ কোটি ৮ লাখ নারী-পুরুষ। এখন এই কাজে নিযুক্ত মানুষের কাজ যদি ৩.৫৯% সংকুচিত হয় তাহলে কাজ হারাবে আর প্রায় ২৫ লাখ মানুষ। আগামী বছর এই বেকার শ্রমশক্তির পরিমাণ দাঁড়াবে বিদ্যমান ৩০ লাখ, নতুন ঢুকবে ১৩ লাখ (২২ লাখের মধ্যে কাজ পায় ৪০%) এবং কাজ হারাবে ২৫ লাখ সর্বমোট ৬৮ লাখ শ্রমশক্তি। নতুন কাজ হারানো মানুষের আয় রোজগার বন্ধ থাকার কারণে বাজারে পণ্যের চাহিদা কমে যাবে যা আবার উৎপাদন হ্রাস তরান্বিত করবে। একটি দেশে মন্দা আসার পূর্বলক্ষণ মানুষের কাজ হারানো।

আমাদের রপ্তানি আয় ৪০ বিলিয়ন ডলারের ৩৪ বিলিয়ন ডলার আসে রেডিমেড গার্মেন্টস থেকে। এই গার্মেন্টস নানামুখী সমস্যায় পড়ে গেছে। বেশকিছুদিন আগে থেকেই এসব বলা হচ্ছিল, এখন তো সারা বিশ্বেই চাহিদা সংকুচিত হওয়ার কারনে পূর্বের মতো অর্ডার আসবে না। আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ফেব্রুয়ারী ২০২০ এ ছিল ৩২ বিলিয়ন ডলার। বিশ্ব অর্থনীতির একটি চিত্র এখানে দিলে বুঝা যাবে, তাদের নিজেরদের দেশের জিডিপিও সংকুচিত হবে, কর্ম হারাবে মানুষ। ফলে আমাদের শ্রমিকের চাহিদাও কমে যেতে পারে যা বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে দেশের অর্থনীতির উপর। পত্রিকার রিপোর্ট অনুসারে, করোনাভাইরাসের কারণে ২০২০ সালে বিশ্বের বড় অর্থনীতির দেশগুলো ভুগবে বলে মনে করছে আইএমএফ। সংস্থাটির পূর্বাভাস হলো, প্রায় সব দেশের প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হয়ে যাবে।

যেমন যুক্তরাষ্ট্র (মাইনাস ৫ দশমিক ৯ শতাংশ), জার্মানি (মাইনাস ৭ শতাংশ), জাপান (মাইনাস ৫ দশমিক ২ শতাংশ), যুক্তরাজ্য (মাইনাস সাড়ে ৬ শতাংশ), কানাডা (মাইনাস (৬ দশমিক ২ শতাংশ), ব্রাজিল (মাইনাস ৫ দশমিক ৩ শতাংশ) ও রাশিয়া (মাইনাস সাড়ে ৫ শতাংশ)। তবে চীনের ১ দশমিক ২ শতাংশ ও ভারতে ১ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে। ফলে সেখান থেকে চলে আসা মানুষের পুনরায় কর্মসংস্থানের একটি ঝুঁকি থেকেই যায়।

তার মানে সব দিকেই একটি চাপে থাকবে অর্থনীতি। যে ভোগভ্যাস তৈরি হয়েছে, আয় কমে গেলে সেখানে প্রভাব পড়বে। তবে যে বিপুল সংখ্যক মানুষ কাজের বাইরে রয়ে যাবে, তাদের কি হবে? তাদের আবার কাজে সম্পৃক্ত করা খুবই জরুরী। মানে এই শ্রমশক্তিকে উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত করতে হবে, ফলে বাড়বে উৎপাদন আর জাতীয় আয়। সে যায়গাটি অনুধাবন করেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার বা ১২ বিলিয়ন ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজ হাতে নিয়েছে। এর ফলে অর্থনীতিতে আবার গতি আসবে, মানুষ কাজ পাবে। ব্যাংক সুদের হার কমে গেছে, বিনিয়োগ বাড়বে।

আমরা জানি, জিডিপের ১৪% আসে কৃষি থেকে। ২০১৯ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষায় দেখ যায়, দেশের এখনও ৪০.৬% শ্রমশক্তি কৃষির সাথে জড়িত। অর্থাৎ এই পরিমাণটি ২ কোটি ৭৬ লাখ মানুষ। জিডিপিতে এ খাতের অবদান তুলনামূলকভাবে কম, তবে এত ব্যাপক সংখ্যক শ্রমশক্তি এখানে যুক্ত আছে, সেখানে খুব ভালো করে নজর দেয়া জরুরী। বর্তমান বাস্তবতায় সব সেক্টরে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বেশি করে শুরু হয়ে যাবে। ফলে এখান থেকে অনেক শ্রমশক্তি মুক্ত হয়ে যাবে তার চাপ পড়বে শিল্প এবং সেবায়। শিল্প খাতকে আরও বেশি সম্প্রসারণ করা ছাড়া শুধু সেবাখাতে এই শ্রমশক্তিকে নেয়া সম্ভব না। শিল্পে মাত্র ২০.৪% শ্রমশক্তি নিযুক্ত। কৃষির ২০% লেবার এখানে নিতে পারলে সেখানে শিল্পকে আরও প্রসারিত হতে হবে, নিয়ে আসতে হবে বৈচিত্র।

সেই শিল্পের মানুষ বা দক্ষ জনশক্তি পাব কোথায়? সেটার যোগান দিবে দেশের শিক্ষা খাত। আমরা একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কাজ করছিলাম। বিশ্ব প্রযুক্তি সেই যায়গায় আছে করোনা পূর্বে যেখানে ছিল। জীবন থেমে থাকবে না। তবে থেমে আছে শিক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম। আমরা চেয়েছি আমাদের একদল সুশিক্ষত মানবসম্পদ একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারবে।

প্রযুক্তি নির্ভর একটি দক্ষ জনশক্তি আমাদের সৃষ্টি করতে হবে। আমরা শিল্প ও সেবা খাতে উচ্চ পর্যায়ে এমনকি টেকনিক্যাল কাজ করতে বিদেশি শ্রমিকদের উপর নির্ভর করছি। বাজার চাহিদাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। তেমনি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রেখে শ্রমের যোগান প্রাকৃতিকভাবে বৃদ্ধি না করে শ্রমের দক্ষতা বৃদ্ধি করে করতে হবে। এর ফলে বাড়বে উৎপাদন এবং মাথাপিছু আয়।

আচ্ছা, আমরা এই দে দূর্যোগে যদি সবাই নিজে ভোগ সংকুচিত করি, তাহলে নিজের সেভিংস বাড়বে তবে এর ফলে কমবে জাতীয় আয়। Paradox of thrift এর ফলে এমনটি হয়, কারণ মানুষের ভোগ প্রবণতা কমে যাওয়ায় বিনিয়োগ ব্যয় কমে যায়, উৎপাদন কম হয়। এর প্রভাব আবার পড়বে শ্রমবাজারে, মানুষ কাজ হারাবে। সরকার মোট শ্রমশক্তির মাত্র ২.৫ % নিয়াগ দিতে পারে কারন দেশে সরকারি পদ মাত্র ১৬ লাখ ৮০ হাজার। অতএব, শ্রমশক্তির প্রায় ৯৭.৫% কাজ করে বেসরকারি খাতে।

কোনভাবেই এ খাতের সংকোচনের ধাক্কা দেশের অর্থব্যবস্থা সহ্য করতে পারবে না। তাই মিতব্যয়ী আচরণ জরুরী। সামর্থবানের মিতব্যয়ীতার অর্থ দিয়ে সহায়তা করতে হবে প্রান্তজনদের। তারা সেই অর্থ খাবারের পেছনে ব্যয় করবে এবং ব্যয়ের ধারাবাহিকতা রক্ষা হবে। সরকারিভাবে বিভিন্ন পলিসির মাধ্যমে সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধির প্রয়াস অব্যহত রয়েছে। পৃথিবী যেভাবে চলছে সেখান থেকে পেছনে ফিরে যাবার রাস্তা নেই, উন্নয়নচক্রেই মুক্তি মানুষের। এখান থেকেই Simple living শুরু করতে হবে আর পরিবেশ, প্রতিবেশ ঠিক রেখে উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

লেখক:
সহকারী অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ
লালমনিরহাট সরকারি কলেজ, লালমনিরহাট।

ঢাকা, ০৯ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।