ওয়ানডেতে মালিঙ্গার যত বিশ্ব রেকর্ড


Published: 2019-07-28 13:18:26 BdST, Updated: 2019-08-19 20:57:39 BdST

স্পোর্টস লাইভ : দেশের মাটিতে ২০০৪ সালে ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেক ঘটেছিল শ্রীলংকার ডান-হাতি পেসার লাসিথ মালিঙ্গার। এরপর দাপটের সাথে পারফরমেন্স প্রদর্শন করে ৫০ ওভারের ক্রিকেটকে মাতিয়েছেন তিনি। ব্যাটসম্যানদের চিন্তার বড় কারণ ছিলেন মালিঙ্গা।

তাকে খেলার আগে পরিকল্পনার ছক নিয়ে ২২ গজে স্ট্রাইকে যেতে হতো ব্যাটসম্যানদের। দুর্দান্ত ইর্য়কার, স্লোয়ার ডেলিভারিগুলো মালিঙ্গার সেরা অস্ত্র। এমন অস্ত্র দিয়ে ২২৬ ম্যাচে শিকার করেছেন ৩৩৮ উইকেট। সেরা বোলিং ৩৮ রানে ৬ উইকেট। ম্যাচে আটবার ৫ বা ততোধিক উইকেট শিকার করেছেন তিনি।

অনেক সাফল্য নিয়েই গতকাল ১৫ বছরের বর্ণাঢ্য ওয়ানডে ক্যারিয়ার ইতি টেনেছেন মালিঙ্গা। এই ১৫ বছরে অনেক রেকর্ডও গড়েছেন তিনি। সেই রেকর্ডগুলোর দিকে এক নজর দেয়া যাক।

৩৩৮ উইকেট : ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিদের মধ্যে নবম স্থানে আছেন মালিঙ্গা। তার শিকার ৩৩৮ উইকেট। তবে শ্রীলংকার পক্ষে তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী। গতকাল ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৩ উইকেটে নিয়ে ভারতীয় লেগ স্পিনার অনিল কুম্বলে টপকে নবম স্থান দখল করেন তিনি।

১৬৩ উইকেট : ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সবচেয়ে কম সময়ে ওয়ানডেতে ১৬৩ উইকেট শিকার করেন মালিঙ্গা। চার বছরের মধ্যে ওয়ানডেতে এত বেশি উইকেট নেওয়ার রেকর্ড নেই কোনো বোলারের। ওয়ানডে অভিষেকের পর থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে ৪৫ ম্যাচে ৬৭ উইকেট, ২০০৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ৩০ ম্যাচে ৪১ উইকেট, ২০১১ থেকে ২০১৪ সালে পর্যন্ত ১০২ ম্যাচে ১৬৩ উইকেট, ২০১৫ থেকে অবসর পর্যন্ত ৪৯ ম্যাচে নেন ৬৭ উইকেট নিয়েছেন মালিঙ্গা।

২৪.৭ গড় : ওয়ানডেতে মালিঙ্গার স্ট্রাইক রেট ২৪.৭। যা অন্তত ১৫০ উইকেট শিকারিদের মধ্যে যা সর্বোচ্চ।

২১২ উইকেট : মালিঙ্গার ২১২ উইকেট এসেছে জয়ী ম্যাচে। পরাজিত ম্যাচে ছিলো ১১২ উইকেট।

৫৬ উইকেট : ২০০৭ সালে প্রথম বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পান মালিঙ্গা। ২০১৯ আসর পর্যন্ত ক্রিকেটের বড় মঞ্চে অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারীর তালিকায় তৃতীয়স্থানে আছেন মালিঙ্গা। ২৯ ম্যাচে অংশ নিয়ে ৫৬ উইকেট শিকার করেছেন তিনি। তার উপরের আছেন অস্ট্রেলিয়ার গ্লেন ম্যাকগ্রা ও মালিঙ্গার সাবেক সতীর্থ মুত্তিয়া মুরালিধরন। ম্যাকগ্রা ৩৯ ম্যাচে ৭১টি ও মুরালিধরন ৪০ ম্যাচে ৬৮ উইকেট নিয়েছেন। (৬৮)।

৩ হ্যাট্টিক : ওয়ানডে ইতিহাসে একমাত্র বোলার হিসেবে তিনবার হ্যাট্রিক করেছেন মালিঙ্গা। ২০০৭ বিশ্বকাপে ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাট্রিক করেন তিনি। ঐ ম্যাচে প্রতিপক্ষ ছিলো দক্ষিণ আফ্রিকার। ক্যারিয়ারে প্রথম হ্যাট্টিকে টানা চার বলে চার উইকেট নেন মালিঙ্গা। তাই ওয়ানডেতে একমাত্র বোলার হিসেবে টানা চার বলে চার উইকেট নেয়ার রেকর্ডও গড়েন তিনি। এরপর ২০১১ বিশ্বকাপে কেনিয়ার বিপক্ষে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হ্যাট্টিক করেন মালিঙ্গা। একই বছর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় হ্যাট্টিক করেন এই ইর্য়কার মাস্টার।

২৯ উইকেট : এশিয়া কাপে ১৪ ম্যাচে অংশ নিয়ে ২৯ উইকেট নিয়েছেন মালিঙ্গা। এশিয়া কাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী। এই তালিকায় তারই সাবেক সতীর্থ স্পিনার মুরালিধরন শীর্ষে রয়েছেন। ২৪ ম্যাচে ৩০ উইকেট নিয়েছেন মুরালি। এশিয়া কাপে মালিঙ্গার সেরা বোলিং ফিগার ৫৬ রানে ৫ উইকেট।

৮বার : ওয়ানডে ক্যারিয়ারে আটবার ৫ বা ততোধিক উইকেট নিয়েছেন মালিঙ্গা। ৫ বা ততোধিক উইকেট শিকারে বিশ্ব ক্রিকেটে পঞ্চম স্থানে আছেন তিনি।

৫৬ সর্বোচ্চ রান: বোলার হিসেবেই অনেক সাফল্য পেয়েছেন মালিঙ্গা। তবে ব্যাট হাতে তার কাছ থেকে ভালো কিছু পাওয়া বোনাস। তারপরও ক্যারিয়ারে একবার ব্যাট হাতে দলকে জয়ের স্বাদ দিয়েছেন তিনি। ২০১০ সালে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয়েছিলো শ্রীলংকা। ম্যাচ জয়ের জন্য ২৪০ রানের টার্গেট পায় লংকানরা।

জবাবে ১০৭ রানেই অষ্টম উইকেট হারিয়ে খাদের মধ্যে পড়ে যায় সফরকারীরা। তবে নবম উইকেটে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজকে নিয়ে ১৩২ রানের জুটি গড়েন মালিঙ্গা। এই জুটির কল্যাণেই ১ উইকেটের অবিস্মরণীয় জয় পায় শ্রীলংকা। ৬টি চার ও ২টি ছক্কায় ৪৮ বলে ৫৬ রান করেন মালিঙ্গা। এটিই তার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস। মালিঙ্গা ফিরলেও, ৮৪ বলে অপরাজিত ৭৭ রান করে দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন ম্যাথুজ।

ঢাকা, ২৮ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।