চাকরির বয়সসীমা তুলে দেয়ার বিপক্ষে কোটা আন্দোলনের নেতারা


Published: 2018-12-18 10:52:31 BdST, Updated: 2019-10-18 00:20:04 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্লাটফরম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে বিভিন্ন দাবি দাওয়া সম্বলিত তারুণ্যের ইশতেহার দেয়া হয়। যা ব্যাপক সাড়া ফেলে। সেই আলোকে তারা বেকারমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছেন তরুণরা। সোমবার তরুণদের দাবির বিষয়টি মাথায় রেখে ইশতেহার ঘোষণা করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এতে বলা হয়েছে চাকরিতে প্রবেশের কোন বয়স থাকবে না। এনিয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন কোটা আন্দোলনের নেতারা। তবে ইশতেহাররের অন্যান্য দিক নিয়ে তারা সাধুবাদ জানিয়েছেন। ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার নিয়ে নেতাকর্মীরা যা বলেছেন চলুন শুনে নেয়া যাক :

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, কোটার বিষয়ে ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারের বিষয়ে আমি একমত। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে কোটার বিষয়টি তারা সুন্দরভাবে সুরাহা করবেন- এটাই আমাদের প্রত্যাশা। আমরা তরুণ সমাজের পক্ষ থেকে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের উদ্দেশেই আমাদের ইশতেহার দিয়েছিলাম। ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারে আমরা আমাদের দাবিগুলোর মোটামুটি একটি প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি। এটা আমাদের জন্য খুবই ইতিবাচক। এবং এটাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। তবে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে আমরা কিন্তু অভিন্ন বয়স সীমার কথা বলেছিলাম। বয়স সীমা তুলে দেয়া নয়। সেটা ৩২ থেকে ৩৫ বছর। এই দু’টোর মধ্যে কোনো একটি করলে আমাদের সবার জন্য ভালো হবে। আমাদের ৫ দফা দাবিতে এটা উল্লেখ করেছিলাম।

তিনি অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারেও তাদের দাবি-দাওয়ার প্রতিফলন দেখতে চান। তবে ইশতেহারের মধ্যেই যেন আমাদের দাবিগুলো সীমাবদ্ধ না থাকে সে বিষয়টি তাদের মাথায় রাখতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

কোটা আন্দোলনের আরেক নেতা নূরুল হক নূর বলেন, ঐক্যফ্রন্ট স্পষ্টভাবে বলেছে যে, অনগ্রসর জনগোষ্ঠী এবং প্রতিবন্ধীদের ছাড়া আর কোনো কোটা ব্যবস্থা থাকবে না। এটি আমি মনে করি অত্যন্ত চমৎকার একটি ধারণা তারা আমাদেরকে দিয়েছেন। পুরো ইশতেহারে এই বিষয়গুলো আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে। যদিও কোটা সংস্কারের বিষয়টি সরকার আংশিক মেনে নিলেও সেখানে একটু ফাঁক-ফোকর রয়েছে।

তবে তিনি পুলিশ এবং সামরিক বাহিনী ব্যতীত সরকারি চাকরিতে প্রবেশের জন্য কোনো বয়সসীমা থাকবে না এই বিষয়টির বিরোধীতা করেন। তিনি বলেন, আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে ৩০ থেকে ৩৫ এর মধ্যে সকলের জন্য একটি বয়সসীমা থাকতে হবে। এ বিষয়টি বাদ দিয়ে আমি মনে করি যে আমাদের দাবির অধিকাংশই এখানে প্রতিফলিত হয়েছে।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খান বলেন, আমরা সব সময় কোটা সংস্কার চেয়েছি। সুতরাং যেই ক্ষমতায় আসুক আমরা কোটার যৌক্তিক সংস্কার চাইবো। আর আমরা কখনোই মুক্তিযোদ্ধা কোটারও বিরোধী নই। মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে যারা এখনো পিছিয়ে আছেন তাদের সন্তানদের এগিয়ে নিতে কোটা সুবিধা দেয়া যায়। আর প্রতিবন্ধী কোটা অবশ্যই দরকার। এটা রাখা উচিত। এছাড়া জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্যও কোটা দরকার আছে। সব মিলিয়ে কোটা ব্যবস্থার একটি যৌক্তিক সংস্কার করা একটি সময় উপযোগী সিদ্ধান্ত বলে মনে করি। কোটা পদ্ধতির পুরোপুরি বাতিল কখনোই সর্বজন গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ করা যায়। কিন্তু সরকারি চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো বয়সসীমা থাকবে না- এটা আসলে তারুণ্যের দাবি ছিলো না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

কোটা আন্দোলনের নেতা মশিউর রহমান বলেন, চাকরিতে বয়স সীমা নিয়ে আমরা সম্পূর্ণ বিরোধিতা করছি। তবে অনগ্রসর জনগোষ্ঠী এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য কোটা ছাড়া আর কোনো কোটা থাকবে না- এটাকে আমরা স্বাগত জানাই। অনগ্রসর এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য সব মিলিয়ে ৫% কোটা রাখা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

উল্লেখ্য, সোমবার ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহার প্রদান করা হয়েছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে তারা ক্ষমতায় গেলে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার বয়সসীমা থাকবে না। পুলিশ ও সামরিক বাহিনী বাদে যেকোন বয়সেই সরকারি চাকরি করা যাবে। ৩০ বছরের বেশি শিক্ষিত বেকারদের জন্য বেকার ভাতা চালু করা হবে। অনগ্রসর ও প্রতিবন্ধী ছাড়া আর কারও জন্য কোটা থাকবে না। এছাড়া তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কার্যক্রম চলমান রাখবেন। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদদের তালিকা করবে। ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করবে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে এমন ৩৫ দফা ইশতেহার ঘোষণা করা হয়েছে।

ঢাকা, ১৮ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।