প্রাইভেট ভার্সিটির শিক্ষার গুনগত মান নিয়ে যা বললেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসান মাহমুদ রেজা‘‘ফার্মাসিস্টদের দক্ষতায় ওষুধ শিল্পের বিকাশ ঘটবে’’


Published: 2020-03-05 00:08:12 BdST, Updated: 2020-07-10 17:55:49 BdST

দেশে অনেক প্রাইভেট বিশ্বিবিদ্যালয় গড়ে উঠেছে। এটা আশার দিক। আমাদের দেশের জন্য খুবই ভালো সংবাদ। কিন্তু যত্রতত্র প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কারণে শিক্ষার গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না। মনিটরিং হচ্ছে না বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান, পরিবেশ ও গবেষণার বিষয়টি। এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে লুফে নিচ্ছে টাকা। তাদের মাথায় মান রক্ষায় কোনো চিন্তা নেই। যেনতেনভাবে সার্টিফিকেট বিক্রি করাই তাদের ধান্দা। ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে সমাজে। এসব ব্যবসায়ীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করলেও নেই মানসম্মত গবেষণা, নৈতিকতা, দেশপ্রেম, বিশেষ করে মাতৃভূমির প্রতি কোন দায়বদ্ধতা নিতে তারা রাজি নন। সার্টিফিকেট বাণিজ্যই হচ্ছে মূখ্য উদ্দেশ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের নানান অসংগতি, দূর্বলতা, সমস্যা, গবেষণা, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ সর্বপরি দেশ ও মানুষের জন্য দরদ এবং নৈতিকতা সম্পন্ন মানুষ তৈরীর জন্য ক্যাম্পাসলাইভের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসির প্রফেসর ড. হাসান মাহমুদ রেজা। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নর্থ সাউথের আমাদের প্রতিনিধি সাজ্জাদ হোসেন

প্রফেসর ড. হাসান মাহমুদ রেজা বলেছেন, শিক্ষার মান আগের থেকে আরও নিম্নমানের হয়েছে বলে আমার মনে হয়। পজিটিভ দিক হলো, দেশে অনেক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আগে অনেক শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতো, এখন তারা উচ্চ শিক্ষা লাভের সুযোগ পাচ্ছে। আবার অনেক বেশি প্রাইভেট ইউনির্ভাসিটি হয়েছে বলেই শিক্ষার গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না।

কেননা শিক্ষার প্রয়োজনীয় উপকরণ ছাড়াই অনেকটা অনিয়ন্ত্রিতভাবে ফার্মেসী শিক্ষা কার্যক্রম চলছে অনেক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে। খুব কম সংখ্যক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় আছে যারা অভিজ্ঞ শিক্ষকমন্ডলী এবং ল্যাবরেটরী শিক্ষার মাধ্যমে গুণগত শিক্ষা প্রদান করছে এবং দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরী করছে। সুতরাং এখানে আমাদের সামঞ্জস্যতা প্রয়োজন যে শুধুমাত্র গ্র্যাজুয়েট এর সংখ্যা বাড়ালে চলবে না বরং দক্ষ ও গুণগত মান সম্পন্ন গ্র্যাজুয়েট তৈরী করতে হবে। তা না হলে তারা কর্মক্ষেত্রে তারা কোন অবদান রাখতে পারবে না বলে আমি মনে করি।

ক্যাম্পাসলাইভঃ স্যার শৈশব থেকে আপনার পছন্দের সাবজেক্ট কি ছিল?
প্রফেসর ড. হাসান মাহমুদ রেজাঃ শৈশবে আমার পছন্দের সাবজেক্ট ছিল প্রথমে ইংরেজি এবং পরে গণিত এবং জ্যামিতি। সত্যি বলতে বায়োলজি আমার খুব বেশি ভালো লাগতো না। যদিও পরবর্তীতে ফার্মেসী নিয়েই পড়া শুরু করি। এরপর আমি পিএইচডিতে বেছে নেই মলিকুলার এন্ড ডেভেলপমেন্টাল বায়োলজি। সে সময় মলিকুলার বায়োলজি একটি ইর্মাজিং সাবজেক্ট ছিল। সেটাই মূলত আমার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। স্টেম সেল এর প্রতি বিশেষ আকর্ষণ থাকায় পিএইচডি শেষ করে অনেক পরে আমি সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটির অধীনে সিঙ্গাপুর আই রিসার্চ ইনষ্টিটিউটে একজন বিজ্ঞানী হিসেবে গবেষণার কাজ করি। সেখানে কাজ করার মাধ্যমে আমি টিস্যু ইঞ্জিনিয়ারিং এর উপর দক্ষতা অর্জন করি। এ জায়গাতেই আমি আমবিলিক্যাল কর্ড থেকে সংগৃহীত এক ধরনের সেলের ক্যারেকটারাইজেশন করি এবং এটিকে কর্ণিয়া সেলে রূপান্তরিত করে র‌্যাবিটের চোখে প্রতিস্থাপন করি এবং ভালো ফলাফল লক্ষ্য করি।

ক্যাম্পাসলাইভঃ স্যার আপনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র থাকাকালীন কোন ছাত্র আন্দোলনে কি অংশগ্রহণ করেছেন??
প্রফেসর ড. হাসান মাহমুদ রেজাঃ আমি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই তার কিছুদিন পরই জেনারেল এরশাদের পতনের আন্দোলন শুরু হয় এবং ১৯৯০ সালে যখন স্বৈরাচারী এরশাদ পতনের গণআন্দোলন চলে তার পুরো সময়টাতেই আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। আমরা থাকতাম কার্জন হলে, সেখানে আন্দোলন তেমন জোরদার হতো না তাই আমরা চলে আসতাম কলা ভবণের সামনে যেখানে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন আন্দোলন পরিচালনা করত। আমরা সেখানে বিভিন্ন মিটিং মিছিলে অংশগ্রহণ করতাম। আমি দেখেছি সেসময় ছাত্র-জনতা ও সরকারী চাকুরীজীবী কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ কিভাবে এক হয়ে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলে। এর ফলে অতি অল্প সময়ে স্বৈরাচারী এরশাদ ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল। এটা আমার একটি বিশেষ অভিজ্ঞতা, আমি তখন দেখেছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা কতটা সাহসী হয়ে দেশের প্রয়োজনে আত্মনিবেদিত হতে পারে।

ক্যাম্পাসলাইভঃ আপনি পড়ালেখা শেষে ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিতে কাজ শুরু করলেও তা ছেড়ে দিয়ে শিক্ষাকতায় কেন ফিরে আসলেন?
প্রফেসর ড. হাসান মাহমুদ রেজাঃ আমার প্রধান লক্ষ্য ছিল শিক্ষকতা। কিন্তু গ্র্যাজুয়েশন শেষে সবাই চায় একটি ভালো চাকুরি। বেক্সিমকো সেসময়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি ওষুধপ্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান। তাই আমি বেক্সিমকোতে যোগদান করি এবং সফলতার সাথে কিছু সময় প্রোডাক্ট প্রমোশন সেক্টরে কাজ করি। কিন্তু যেহেতু আমার প্রধান ও প্রথম চাওয়া পাওয়ার জায়গা ছিল শিক্ষকতা তাই বেক্সিমকো আমাকে খুব বেশি আকৃষ্ট করতে পারেনি।বছর দেড়েক কাজ করে আমি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মাসি বিভাগে প্রথম ফার্মাসিস্ট শিক্ষক হিসেবে আমার শিক্ষকতার জীবন শুরু করি।

ক্যাম্পাসলাইভঃ আপনি বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছিলেন, কিন্তু সেটি ছেড়ে দেশে ফিরে আসলেন কেন?
প্রফেসর ড. হাসান মাহমুদ রেজাঃ আমি জাপানে গিয়েছিলাম আমার পিএইচডি সম্পন্ন করার জন্য। জাপান সরকারের মনবুশো বৃত্তি নিয়ে। পিএইচডি শেষে আমি Nara Institute of Science & Technology (NAIST) তিন বছর শিক্ষকতা করি। কিন্তু সবসময় আমার মনে হতো নিজ দেশ এবং নিজ মাতৃভূমিতে কিছু করি। দেশের প্রতি টান এবং দেশের মানুষের জন্য কিছু করার তাগিদ থেকেই দেশে ফিরে আসা। এছাড়া মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজনের সাথে এদেশের মাটিতেই জীবন কাটানোর ইচ্ছে আমার মধ্যে সব-সময় কাজ করতো। তাই আমি এবং আমার সহধর্মিনী দুজনের জাপানে চাকুরি করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও দেশে ফিরে আসি এবং এখনও পর্যন্ত কাজ করে যাচ্ছি।

ক্যাম্পাসলাইভঃ গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ডীন’স পুরষ্কার পেয়েছেন। বর্তমানে কোন কোন বিষয়ে গবেষণা করছেন?
প্রফেসর ড. হাসান মাহমুদ রেজাঃ আমি এবং আমার সহযোগী গবেষকগণ ইঁদুরের বিভিন্ন ডিজিজ মডেল তৈরী করে বাজারে বিদ্যমান ওষুধ এবং অন্যান্য ভেষজ উপাদানের নতুন নতুন ওষুধী কার্যকারিতা নিরূপনের চেষ্টা করছি। এক্ষেত্রে কার্ডিওভাস্কুলার এবং নিউরোলজিক্যাল ডিসঅর্ডার মডেল নিয়েই মূলত কাজ করছি। এছাড়া ন্যানোটেকনোলজি ব্যাবহারের মাধ্যমে ওষুধের নতুন ফর্মূলেশন তৈরীর চেষ্টা করছি যা বিদ্যমান ওষুধের চেয়ে বেশি কার্যকারী হবে বলে মনে করি। ব্যাকটেরিয়াল রেজিস্ট্যান্স আমার গবেষণার আরেকটি বিষয়। নিকট ভবিষ্যতে ষ্টেম সেল নিয়ে রিজেনেরিটিভ মেডিসিন বিষয়ক গবেষণার প্রস্তুতি নিচ্ছি। গবেষণার জন্য আমি বর্তমান সরকার এবং এনএসইউ এর কাছ থেকে অনুদানও পেয়েছি।

ক্যাম্পাসলাইভঃ আপনি বাংলাদেশ ন্যাশনাল রিসার্চ ইথিক্স কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখছেন?
প্রফেসর ড. হাসান মাহমুদ রেজাঃ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার দক্ষ লোকদের নিয়েই এ কমিটি গঠিত হয়ে থাকে। বাংলাদেশের যেকোন প্রান্তে যদি কেউ হিউম্যান সাবজেক্ট নিয়ে গবেষণা করতে চায় তাদের এই কমিটি থেকে ইথিক্যাল এপ্রুভাল নিতে নিয়ে হয়। এ কমিটি মূলত গবেষণাপত্র পুঙ্খানুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে দেখে যে গবেষণাটি কোনভাবে গবেষক বা এ দেশের মানুষের কোন ক্ষতি করবে কিনা কিংবা নৈতিকতার বাইরে গিয়ে কিছু করছে কিনা। আমি মনে করি এখানে কাজ করার সুযোগ আছে। এখানে সঠিকভাবে কাজ করতে পারলে আমাদের গবেষণামূলক কর্মকান্ডকে আরও সংগঠিত করা যেতে পারে। এর থেকে জনগণের জন্য কল্যাণকর অনেক গবেষণালব্ধ ফল বের হয়ে আসবে বলে আমি মনে করি।

ক্যাম্পাসলাইভঃ হয়তো দ্রুতই বাংলাদেশ ট্রিপস ল এর আওতা থেকে বের হয়ে আসবে, সেক্ষেত্রে ওষুধ শিল্প কি কি সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে?
প্রফেসর ড. হাসান মাহমুদ রেজাঃ আমাদের দেশের ওষুধ শিল্পের সম্ভাবনা যেমন অনেক, তেমনি এর সমস্যাও অনেক। খুব নির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে আমরা যখন এ ট্রিপস ল এর আওতা থেকে বের হয়ে আসবো তখন যেটি মূল সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে তা হলো প্যাটেন্ট ড্রাগের মূল্য বৃদ্ধি। বাংলাদেশে বর্তমানে ড্রাগ বা মেডিসিনের মূল্য তুলনামূলক ভাবে কম এবং সাশ্রয়ী। যখন ট্রিপস ল এর আওতা থেকে বের হয়ে আসবে তখন এসব ড্রাগ বা মেডিসিনের মূল্য অনেক বেশি হয়ে যাবে। যা সাধারণ মানুষের ক্রয়-ক্ষমতার বাইরে থাকবে। তবে আশার কথা হলো প্রায় ৮০% ড্রাগ বা মেডিসিন বর্তমানে জেনেরিক হয়ে গেছে ,যার কারণে ট্রিপস ল’ থেকে বের হয়ে আসলেও এসব মেডিসিনের দাম বাড়বে না। যদি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো ব্যাবসায়িক চিন্তার সাথে সাথে জনকল্যাণ এর বিষয়টি বিবেচনায় রাখে, তাহলে তেমন সমস্যা হবে না বলে আমি মনে করি।

ক্যাম্পাসলাইভঃ ওষুধের দাম বেড়ে গেলে দেশের ফার্মা কোম্পানিগুলোর কী করণীয় হতে পারে?
প্রফেসর ড. হাসান মাহমুদ রেজাঃ দেশীয় কোম্পানিগুলো বেশি বেশি জেনেরিক মেডিসিন উৎপাদনে মনোযোগী হতে পারে। বর্তমানে এদেশের মানুষের ওষুধের যে চাহিদা তা স্থানীয়ভাবে প্রায় পুরোটাই দেশীয় কোম্পানিগুলো মেটাতে সক্ষম। সুতরাং আমাদের বেশি বেশি জেনেরিক মেডিসিন তৈরী করতে হবে এবং ওষুধের কাঁচামাল উৎপাদন করতে হবে। আমাদের দেশে এপিআই প্ল্যান তৈরীর কথা বেশ কিছুদিন ধরে চলছে যদিও খুব বেশি অগ্রগতি এখনো হয়নি। এ ব্যাপারে ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি ও অন্যান্য সফল শিল্প উদ্যোক্তারা আরও আন্তরিক হয়ে এগিয়ে আসতে পারে। এভাবে ফার্মাসিউটিক্যালের সকল কাঁচামাল আমাদের দেশেই উৎপাদন করা যায়। তাতে করে আমাদের দেশে ওষুধের উপাদন ব্যয় এবং ভোক্তা পর্যায়ে দাম সহনীয় রাখা সম্ভব হবে।

ক্যাম্পাসলাইভঃ বিশ্বের প্রায় ১২০ টি দেশে ওষুধ রপ্তানি করা সত্ত্বেও আমাদের স্বাস্থ্যখাত অনেক পিছিয়ে আছে। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে একজন ফার্মাসিস্ট কি ভূমিকা পালন করতে পারে?
প্রফেসর ড. হাসান মাহমুদ রেজাঃ যদি আমরা উন্নত বিশ্বের মত বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবাকে উন্নত করতে চাই তবে এ খাতে আরও বেশি বেশি ফার্মাসিস্ট নিয়োগ করা প্রয়োজন। দুভার্গ্যজনক হলেও সত্য যে, সরকারি ভাবে স্বাস্থ্যখাতে ফার্মাসিস্টদের অন্তর্ভূক্তি নেই বললেই চলে। অথচ উন্নত দেশের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই ড্রাগ বা মেডিসিন ডিসপেন্সিং কেবল মাত্র রেজিস্ট্রার্ড ফার্মাসিস্ট দ্বারাই হয়ে থাকে। ড্রাগ বা মেডিসিন ডিসপেন্সিং মানে ওষুধ বিক্রয় শুধু নয় বরং একজন ডাক্তার যখন রোগ নির্ণয় করে এবং যে প্রেসক্রিপসন করে তা সঠিক হয়েছে কিনা কিংবা প্রয়োজনের অতিরিক্ত মেডিসিন দিয়ে দিয়েছে কিনা তা দেখার দায়িত্ব পড়ে যায় একজন ফার্মাসিস্টের উপর। এছাড়াও পেসেন্ট যারা ড্রাগ / মেডিসিন ক্রয় করছে তারা সবাই মেডিসিন সম্পর্কে সঠিক ধারণা নিয়ে আসে না। সুতরাং প্রত্যেক পেসেন্টকে বুঝিয়ে দেওয়া দরকার যে কোন মেডিসিন কেন ব্যবহার হচ্ছে। কিভাবে ব্যবহার করতে হবে। এর সঠিক সংরক্ষণ পদ্ধতি কি। এতে একজন পেসেন্ট সহজে বুঝতে পারবে কিভাবে ওষুধ ব্যবহার করলে তার রোগমুক্তি হবে এবং কিভাবে খেলে তা কার্যকর হবে। যদি বাংলাদেশের প্রতিটি হাসপাতালে এবং ফার্মেসীতে রেজিস্ট্রার ফার্মাসিস্ট (এ গ্রেড) এর উপস্থিতি নিশ্চিত করা যেত তাহলে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা এবং স্বাস্থ্যখাত তার কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারতো বলে আমি মনে করি।

ক্যাম্পাসলাইভঃ তরুণ ফার্মাসিস্ট এবং যারা ফার্মেসী নিয়ে পড়তে আগ্রহী তাদের উদ্দেশ্যে আপনার পরামর্শ কি?
প্রফেসর ড. হাসান মাহমুদ রেজাঃ বেশি বেশি জানার আগ্রহ নিয়ে লেখাপড়া করতে হবে। আসলে পড়ালেখার কোন বিকল্প নেই। শুধু ক্লাসরুমের লেখাপড়া দিয়ে সবকিছু জানা সম্ভব নয়। ক্রিটিক্যাল থিংকিং অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ফার্মেসী একটি মাল্টি ডিসিপ্লিনারি সাবজেক্ট। সুতরাং শিক্ষার্থীদের আনুষাঙ্গিক সকল বিষয়ে সম্যক জ্ঞান অর্জন করতে হবে। আর এভাবেই দক্ষতা অর্জন করে একজন ফার্মাসিস্ট স্বাস্থ্যখাতের সার্বিক উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে।

ঢাকা, ০৪ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।