টেস্টের জন্য বুথ, সেন্টার বাড়াতে হবে, লাইন ঝুকিপূর্ণ


Published: 2020-05-16 12:11:01 BdST, Updated: 2020-06-03 14:40:45 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: মেডিসিন বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. এবিএম আবদুল্লাহ বলেছেন, কোভিড-১৯ এর টেস্ট যেভাবে চলছে সেটা আমাদের জন্যে খুব বেশী ঝুকিপূর্ণ। এতে মানুষ আরো বেশী আক্রান্ত হবেন। ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশ। করোনার টেস্টের জন্য আরো বুথ ও সেন্টার বাড়াতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমানে সেন্টার না থাকলে দেশে এই ভাইরাস আরো ছড়িয়ে পড়বে। দেশে করোনা পরীক্ষা যথেষ্ট পরিমাণে হচ্ছে না বলে মনে করেন করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির উপদেষ্টা ডা. এবিএম আবদুল্লাহ। যে পরিবেশে পরীক্ষা হচ্ছে তাও ঝুঁকিপূর্ণ বলে মত প্রকাশ করেন প্রখ্যাত এই মেডিসিন বিশেষজ্ঞের।

করোনা টেস্টের হার নিয়ে তিনি বলেন, আসলে টেস্ট প্রথমে একটি মাত্র সেন্টারে হয়েছে। এখন কিন্তু ৩৭টি সেন্টারে পরীক্ষা হচ্ছে এটা আরো বাড়াতে হবে। এসব সেন্টারে অনেক ভিড়। গাদাগাদি। লম্বা লাইন। মানুষ একেবারে গায়ের উপর গা ঘেষে দাঁড়াচ্ছে। এটাও ঝুঁকিপূর্ণ। একজন গায়ে গা ঠেকিয়ে দাঁড়াচ্ছে। তার শরীরে ভাইরাস থাকলে আমি সুস্থ অবস্থায় থাকলেও আমার মধ্যে ছড়াতে পারে। সুতরাং খুব ঝুঁকিপূর্ণ।

বিশেষ করে যারা ছোট বাচ্চা, বয়স্ক মানুষ, নারী, রোগী তাদের জন্য এই লাইনে দাঁড়িয়ে টেস্ট করাটা খুব কষ্টদায়ক। এটা যথেষ্ট না। পরীক্ষার জন্য আরো টেস্টের জন্য লাইন ঝুঁকিপূর্ণ। জেলায় জেলায় পরীক্ষা কেন্দ্র করা উচিত। যেন মানুষের ভোগান্তি কম হয়। অধ্যাপক এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, করোনার যেহেতু কোনো ভ্যাকসিন নেই। প্রতিকার এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এক্ষেত্রে আমাদের জনগণের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি।

যেখানে সেখানে থুথু ফেলা যাবে না। হাঁচি-কাশি দিলে টিস্যু, রুমাল ব্যবহার করতে হবে। মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। টিস্যু যেখানে সেখানে ফেলা যাবে না। রুমাল ধুয়ে নিতে হবে। নিজেরা মোটকথা ঘরে অবস্থান করবে।

প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যাবে না। শারীরিক দূরত্ব যতদূর সম্ভব মেইনটেন করবে। ঘরে-বাইরে কমপক্ষে তিন ফিট দূরত্ব মেনে চলতে হবে। ঘরেও ভালো। বাইরে গেলে এটা খুব জরুরি। বাইরে জণসমাগমে গেলে, দোকানে, বাসে, শপিং মলে গেলে অবশ্যই সঙ্গে করে একটি মাস্ক নিয়ে যাবে। এটা বাধ্যতামূলক। হাত ধোয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা এগুলো নরমাল স্বাস্থ্যবিধির মধ্যে পরে। সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে বাইরে গেলে কাজ সেরে দ্রুত ঘরে ফিরতে হবে। হাত না ধুয়ে ঘরে প্রবেশ করবেন না।

শপিং মল খুলে দেয়া সম্পর্কে অধ্যাপক আব্দুল্লাহ বলেন, সরকার আসলে লকডাউন বন্ধ বা বাতিল করেনি। শিথিল করেছে। গার্মেন্টস, দোকান, শপিং মল সীমিত পরিসরে খুলে দিয়েছে। সরকার অনুমতি দিয়েছে। এক্ষেত্রে কেউ চাইলে খুলেত পারে। আবার না-ও খুলতে পারে। তারপরও জনগণ যেটা করছে।

একেবারে হুমড়ি খেয়ে দোকানে যাচ্ছে। গায়ে গা ঘেষে, গাদাগাদি করে দোকানে যাচ্ছে। বাজার করছে। রাস্তাঘাটে-ফুটপাতে লোকজন ভর্তি। এখানেও দূরত্ব বজায় রাখছে না। এ বিষয়টি কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ। জনগণকে লক্ষ্য রাখতে হবে আপনারা মার্কেটে যেতে পারেন। যেহেতু সরকার খুলে দিয়েছে। আর আপনাদেরও দরকার।

জীবন-জীবিকার তাগিদে। কিন্তু চেষ্টা করতে হবে মাস্ক পরে এবং দূরত্ব বজায় রেখে যেন শপিং-এ যান। এটা ঝুঁকিপূর্ণ। তারপরেও মানুষ যাচ্ছে। যাবে। তবে সচেতনতা মেনে। অধ্যাপক আবদুল্লাহ বলেন, গণপরিবহন যদি খুলে দেয় তাহলে কিন্তু ঝুঁকিটা বেশি হবে। কারণ মানুষজন চলাচল করবে। এক স্থান থেকে অন্যত্র যাবে। এতে কিন্তু ছড়িয়ে যাওয়া বা সংক্রমণের ঝুঁকি আরো বাড়বে বলে আমার মনে হয়। এক্ষেত্রে করণীয় সম্পর্কে তিনি বলেন, যেহেতু সরকার অর্থনীতি, জীবন-জীবিকার কারণে লকডাউন একটু শিথিল করেছে।

মানুষকে এখন স্বাস্থ্যবিধিটা মেনে চলা সবচেয়ে জরুরি। তারা যদি সচেতন না হয়। নিজেরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলে তাহলে তো সরকার সবকিছু করতে পারবে না।

ঢাকা, ১৬ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআইটি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।