এটাই হলো দেশের শিক্ষার হালচাল...জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার চিঠিতে ২২ বানান ভুল!


Published: 2019-08-03 16:46:15 BdST, Updated: 2019-08-19 20:32:54 BdST

ঝিনাইদহ লাইভঃ আফসোস। জাতি কি চাইলো আর পেয়েছে কি? জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার হালচাল দেখে এলাকাবাসী ক্ষুদ্ধ। তাদের ভাষ্য একজন সরকারী কর্মকর্তা একটি পরিপত্রে এতো বানান ভুল করলেন। একি কি করে হয়। মানতে পারছেন না জেলার শিক্ষিত সমাজ। তাদের সরল ভাষ্য এদের চাকরীতে রাখা ঠিক হয়নি। কিভাবে তারা জেলা পর্যায়ের কতর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পায়।

এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ভালাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা তেমন ইংরেজি জানে না। এ বিষয়টি নজরে আসে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ মো. আক্তারুজ্জামানের। তাই স্কুলের ইংরেজি শিক্ষক নার্গিস সুলতানা ছবিকে বরখাস্ত করেন তিনি। কিন্তু শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করে জারি করা পরিপত্রের ২২ জায়গায় বানান ভুল করেছেন খোদ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ মো. আক্তারুজ্জামান। এনিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলেছেন।

২২ বানান ভুলের বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক মঞ্জুর কাদির বলেন, ছাত্ররা ইংরেজি পড়তে পারে না এ কারণে শিক্ষককে বরখাস্ত করা ঠিক হয়নি। শিক্ষকের দক্ষতার অভাব থাকতে পারে। কিন্তু সেজন্য তাকে সময় দিতে হবে। জেলা শিক্ষা অফিসার যে ভুল করেছেন সেটাও তার অপরাধ এবং অদক্ষতা। বিষয়টি তিনি জেনেছেন। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানিয়েছেন।

সংশ্লিস্ট স্কুল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ জুলাই ওই শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়। এছাড়া শিক্ষক নার্গিস সুলতানা ছবি মল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে পাঠদান করেন না বলেও জানিয়েছেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। তিনি অনেকটাই বিব্রত ওই ২২ ভুলের কারণে। জানাগেছে তিনি যে খানেই চিঠিপত্র দেন সব জায়গাতেই ভুলের মাত্রা একটু বেশী থাকে।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষক নার্গিস সুলতানা ছবির বক্তব্য, ছাত্রদের ভুলে শিক্ষক বরখাস্ত হলে জেলা শিক্ষা অফিসারের ভুলে কে বরখাস্ত হবেন? তিনি আরও জানান আমি তো পড়াশুনা করিয়েছি। ছাত্ররা না পড়লে কি আমার দোষ?

এদিকে সরকারি ওই পরিপত্রে ২২টি বানান ভুল থাকায় সর্বত্রই সমালোচনার ঝড় বইছে। বিষয়টি এখন সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে। এমনকি সরকারি চিঠিতে এমন ভুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষা প্রশাসনের অনেকেই। জেলা শিক্ষা অফিসারদের দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ। বিষয়টি সত্যি জেলা প্রশাসনকে ভাবিয়ে তুলেছে।

২২ বানান ভুলের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা শিক্ষা অফিসার শেখ মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থীও যদি রিডিং পড়তে পারত আমি ক্ষমা করতে পারতাম। একজন ছাত্র-ছাত্রীও রিডিং পড়তে পারেনি। যার রোল নম্বর ২ সেও পারল না। শিক্ষকও রিডিং পড়তে গিয়ে দুটি শব্দ ভুল করেছেন। এমন অবস্থায় কি আর করার ছিল। আমি বাধ্য হয়েই এই পথ বেঁচে নিয়েছি।

নার্গিস সুলতানা ছবি বলেন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ পাওয়ার পরও ভুল করেছেন। তাহলে আমার কী করণীয়? জাতি আর কত সময় দের। আমি বরখাস্ত করেছি। দুই সপ্তাহের মধ্যে বিভাগীয় মামলা রুজু করব। এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এছাড়া কোন বিকল্প কিছু করার ছিলো না।

২২টি ভুল বানানের বিষয়ে নার্গিস সুলতানা ছবি বলেন, আমার বয়স ৫০ এর বেশি। আমার চশমাটা কে বা কারা নিয়ে গেছে। মুখে বলে দিয়েছি, প্রধান সহকারী লিখেছেন। চশমা না থাকার কারণে ঠিকমতো দেখতে পারিনি। খেয়ালও করিনি। সরল বিশ্বাসে স্বাক্ষর করে দিয়েছি। পরে যখন জেনেছি তখন আবার একই স্মারকে সংশোধন করে দিয়েছি। এটা আমার অজানা ভুল।

ঢাকা, ০৩ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।