ডেটিংয়ের নামে হোটেলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণ!


Published: 2019-08-19 01:53:57 BdST, Updated: 2019-09-21 08:27:01 BdST

খুলনা লাইভ : এবার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ডেটিংয়ের নামে হোটেলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। বেশ কয়েকবার এমন ডেটিংয়ে অন্ত:সত্ত্বা হয়ে গেছেন ওই ছাত্রী। এর পর থেকে তাকে হুমকি ধমকি দেয়া হচ্ছে। এতে বাধ্য হয়ে ওই ছাত্রী তার প্রতারক বয়ফ্রেন্ডের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেছেন। ভিকটিম ওই ছাত্রী খুলনা নগরীর নর্থ ওয়েষ্টার্ন ইউনিভার্সিটির বিবিএতে পড়াশোনা করেন।

মামলার এজাহারের সূত্রে জানা যায়, বরগুনা জেলার পূর্ব কেওড়া বুনিয়া গ্রামের গোলাম কবির ও তহমিনা কবিরের ছেলে তানজিল ইসলাম (২৫) বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ’র ছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় ছাত্রী বাদী হয়ে চলতি বছরের ১৯ জুন খুলনা সদর থানায় তানজিলসহ তার বাবা-মাকে আসামি করে মামলা করলেও বিষয়টি নিয়ে আর উচ্চবাচ্চ্য করেননি। সম্প্রতি কর কমিশনারের ছেলের ধর্ষণের ঘটনায় মিডিয়ায় প্রকাশ হওয়ার পর বিবিএ’র ছাত্রী মিডিয়ার স্মরণাপন্ন হয়েছেন।

মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেছেন, তানজিল নৌবাহিনীর সৈনিক পদে কোস্টগার্ড বিসিজি বেইজ মোংলাতে কর্মরত। ২০১৭ সালে তার সঙ্গে বিবিএ’র ওই ছাত্রীর ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয়। বছর খানেক প্রেম করার পর ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে তানজিল বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে খুলনার সাত রাস্তা মোড়ের টাইটান আবাসিক হোটেলে নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। সর্বশেষ চলতি বছরের ২২ এপ্রিল একই হোটেলের চতুর্থ তলার ৪০৯ নম্বর কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করার পর ওই ছাত্রী গর্ভবতী হয়ে যায়। বিষয়টি তানজিলকে জানানো হলে সে বিয়ে করতে পারবে না বলে জানায়। পরবর্তীতে তানজিলের বাবা ও মাকে বিষয়টি জানানো হলে ছাত্রীটির সাথে খারাপ ব্যবহারের পাশাপাশি হুমকিও দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী জানান, তানজিল বিবাহিত এবং কন্যা সন্তানের বাবা। বিষয়টি গোপন করেই তার সাথে মিথ্যা প্রেমের অভিনয় এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে। আমি এখন ৫ মাসের গর্ভবতী। আমার সন্তানের পিতার পরিচয় চাই। বিষয়টি তার বাবা ও মাকে জানানোর পর তারা আমার সাথে খুবই খারাপ ব্যবহার ও হুমকি দিয়েছে। এমনকি টাকার বিনিময়ে বিষয়টি সমাধান করার চেষ্টাও করেছে।

খুলনা সদর থানার এস আই শাহনেওয়াজ বলেন, ছাত্রীটি তিনজনকে আসামী করে মামলা করেছে। মামলার ১নম্বর আসামী বর্তমানে কোষ্টগার্ডে কর্মরত। এ ঘটনায় তাকে ক্লোজড করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নৌ-বাহিনী অভ্যন্তরীণ তদন্ত করছে। আসামির বাবাও একজন সরকারি চাকরিজিবি। সেখানেও অফিশিয়ালভাবে মামলার বিষয়টি জানানো হয়েছে। এখনও কাউকে আটক করা হয়নি।

ঢাকা, ১৯ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।