মেসে ভাড়া মওকুফে ইবি শিক্ষার্থীদের খোলা চিঠি


Published: 2020-04-30 17:21:05 BdST, Updated: 2020-11-30 14:05:23 BdST

ইবি লাইভঃ বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রকোপে লকডাউন গোটা দেশ। গত ১৮ মার্চ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়। আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্তও সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার পরপরই ক্যাম্পাস ত্যাগ করা শুরু করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ে শতভাগ আবাসিক সুবিধা না থাকায় অধিকাংশ শিক্ষার্থীই থাকেন কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ শহর ও ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন মেস, হোস্টেল কিংবা বাসা ভাড়া নিয়ে।

এমন অনেক শিক্ষার্থীই আছেন যারা নিজেরা টিউশনি করে চলেন, বাড়িতেও টাকা পাঠান। এই মহামারী সময়ে তাদের নিজেদের আয় বন্ধ হয়ে গেছে, পরিবার নিয়ে অনেক কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। এমতাবস্থায় তাদের পক্ষে মেস ভাড়া পরিশোধ করা কঠিন হয়ে উঠেছে।

এ বিষয়টি নিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলরের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবর খোলা চিঠি লিখেছেন শিক্ষার্থীরা। পাঠকদের উদ্যেশ্যে চিঠিটি হুবহু তুলে ধরা হলো।

বরাবর,
কুষ্টিয়া- ঝিনাইদহ দুই জেলার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জেলা প্রশাসক মহোদয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সুধীজন।

বিষয়: মেস ভাড়া মওকুফ মর্মে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণকল্পে আবেদন পত্র।

জনাব,
বিনীত শ্রদ্ধার সঙ্গে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, বর্তমান করোনা মহামারী পরিস্থিতিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন যে করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বন্ধ থাকতে পারে। আমরা মেসে থাকা শিক্ষার্থীগণ বিগত ২০/০৩/২০২০ইং তারিখ থেকে নিজ নিজ এলাকায় বাসায় অবস্থান করছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ মেনে।

এমত অবস্থায় মেসে থাকা শিক্ষার্থীদের আরো প্রায় পাঁচ মাসের মতো বাসায় থাকতে হতে পারে। কিন্তু মেস মালিকগণ ভাড়া পরিশোধ করতে তাগিদ দিচ্ছেন, এবং চাপ সৃষ্টি করবেন। বিবেচ্য বিষয় হলো আমাদের অধিকাংশ শিক্ষার্থী গ্রামের দরিদ্র পরিবার থেকে ওঠে আসা এবং মফস্বল এলাকার। আমাদের অধিকাংশই কৃষক পরিবারের সন্তান।

কৃষি কাজ যাদের একমাত্র জীবিকা নির্বাহ করার অবলম্বন। শিক্ষার্থীদের মাঝে কিছু শিক্ষার্থী শহরে এসে টিউশনি করে, দোকানে পার্ট টাইম জব করে, কিছু টা নিজের খরচ বহন করে, সম্ভব হলে পরিবারকে ও সাহায্য করে থাকে। কিন্তু দেশের এই অনাকাঙ্ক্ষিত করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টায় সব কিছু বন্ধ থাকায় আয়ের কোন উৎস নেই।

অতএব, মেস ভাড়া মওকুফ করার জন্য মেস মালিকদের সাথে নেগোসিয়েশনের বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য আপনার সুমহান মর্জি হয়।

এ বিষয়টি ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারীকে অবহিত করলে তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতে শিক্ষার্থীদের দাবি যৌক্তিক। আমি চাইবো জেলা প্রশাসক বিষয়টি সহানুভুতির সাথে দেখবে।’

ঢাকা, ৩০ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআই//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।