কোথায় যাবে মানুষ!যশোর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় পজেটিভ, আইইডিসিআরে নেগেটিভ!


Published: 2020-05-09 13:30:38 BdST, Updated: 2020-09-24 06:57:16 BdST

যবিপ্রবি লাইভ: একি চলছে করোনার রিপোর্ট নিয়ে। এনিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। লোকজন বলছেন আইইডিসিআর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ধরনের রিপোর্ট আমাদের বিষিয়ে তুলেছে। আমরা এখন কোনটা বিশ্বাস করবো। আর যিনি রোগী তারই বা কি হবে। ঝিনাইদহে করোনার নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন আক্রান্তরা।

জানাগেছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নমুনা পরীক্ষায় পজেটিভ হলেও মাত্র চার দিনের ব্যবধানে একই রোগীর নমুনা পরীক্ষায় ঢাকার আইইডিসিআর থেকে নেগেটিভ হওয়ায় চরম উদ্বিগ্ন অন্তত ১৫ জন রোগী। কেন এমন হয়েছে তার কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেন নি সিভিল সার্জন। বলেছেন আমরা বিষয়টি দেখছি। উপরে কথা বলছি।

এদিকে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এই হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীসহ ১০ জন করোনায় আক্রান্ত হন বলে জানা যায়। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো নমুনায় তাদের করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে।

কিন্তু বেশিরভাগেরই কোনো উপসর্গ না থাকায় তাদের নমুনা আবারও সংগ্রহ করে দ্বিতীয় দফায় ঢাকায় আইইডিসিআরে পাঠানো হয়। শুক্রবার আসা সাতজনের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। দুই দিনের ব্যবধানে সংগ্রহ করা নমুনায় রিপোর্ট পাল্টে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন ভুক্তভোগীরা। তাদের ভাষ্য আমরা তাহলে কি করবো। এভাবে যদি ভিন্ন ভিন্ন প্রতিবেদন আসে তাহলে কোথায় যাব আমরা।

অন্যদিকে দুই ল্যাব থেকে দুই প্রকার রিপোর্ট আসার সঠিক কারণ জানাতে পারেননি জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা কোন জবাব দিতে পারেনি। কেবল বলেছেন আমরা উপরে কথা বলে জানাচ্ছি।

ভিন্ন ভিন্ন রিপোর্টের ব্যাপারে জেলার সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম বলেন, এটার অনেক কারণ থাকে। কানেকশন বা ট্রান্সপোর্টে নিয়ে যাওয়া অনেক কিছুর ব্যাপার থাকে। এছাড়া ভাইরোলোজির যারা তারা এ ব্যাপারে ভালো বলতে পারবে। আমি বিষয়টি নিয়ে শীর্ষ
মহলে কথাবার্তা চারিয়ে যাচ্ছি। এখন তাদের মতামত পাওয়ার পর বাকী কথা বলতে পারবো।

এদিকে ২৮ এপ্রিল আক্রান্তদের দ্বিতীয় দফায় নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরে পাঠানো ১৫ টি নমুনার সবগুলোই নেগেটিভ আসে বলে জানান জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা। করোনা রিপোর্টের এই করুণ দশার ব্যাপারে জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ বলেন, ১৫ জনের যাদের জানানো হয়েছিল করোনা পজেটিভ তাদের কেউই করোনায় আক্রান্ত নন। তবে কেন পরবর্তীতে পজেটিভ এলো তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা বলছেন, করোনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের পরীক্ষায় স্বাস্থ্য বিভাগকে আরও সচেতন হতে হবে। সনাক সদস্য আমিনুর রহমান টুকু বলেন, মেশিনের কোনো ত্রুটি থাকতে পারে বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে তাদের ভুল হতে পারে। তবে তাদের সতর্ক হতে হবে।

এদিকে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া তথ্য মতে, এ পর্যন্ত জেলা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৬০৩ টি। যার মধ্যে ফলাফল পাওয়া গেছে ৩১৯ টির। বাকীদের রিপোর্ট খুব শিগগিরিই দেয়া হবে বলে জানাগেছে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র থেকে।

ঢাকা, ০৯ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)/এআইটি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।