সংগঠনবিরোধী কর্মকান্ডের অভিযোগে ইবির জিয়া পরিষদের দুই নেতা বহিষ্কার


Published: 2020-10-18 12:08:26 BdST, Updated: 2020-12-04 22:37:20 BdST

ইবি লাইভঃ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) জিয়া পরিষদের সাবেক সভাপতি ও লোক প্রশাসন বিভাগের প্রফেসর ড. মতিনুর রহমান এবং সহ-সভাপতি ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রফেসর ড. এ এস এম শরফরাজ নেওয়াজের পরিষদ থেকে সদস্যপদ বাতিলসহ স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে।

শনিবার জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. ইদ্রিস আলী সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধে সংগঠনের নীতি, আদর্শ বিরোধী কর্মকান্ড এবং সংগঠনের সামগ্রিক ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার অভিযোগ তোলা হয়।

দলীয় সূত্রে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে স্বতন্ত্র প্যানেলে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বহিষ্কৃত দুই শিক্ষক। বিএনপি ও জামায়াত এক প্যানেলে নির্বাচন করার কথা থাকলেও স্বতন্ত্র প্যানেল নিয়ে তাঁরা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনে অংশ নেয়। একইসাথে তাদের আলাদা প্যানেল দেওয়াতে নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতপন্থীরা পূর্ন প্যানেলে জয়লাভ করতে পারেনি বলে অভিযোগ পরিষদের।

এর প্রেক্ষিতে গত ২৮ সেপ্টেম্বর ভার্চুয়াল সাধারণ সভায় সিদ্ধান্তে ওই দুই শিক্ষককে শোকজ করে পরিষদ। এসময় ১৫ দিনের মধ্যে তাদের দুইজনকে কারণ দর্শাতে বলা হয়। পরিষদের গঠনতন্ত্রের ২৬ ধারা অনুযায়ী কারণ দর্শনোর নোটিশের জবাব না দেওয়ায়, তাদের কর্মকান্ড সংগঠনের নীতি ও আদর্শ বিরোধী হওয়ায় এবং সংগঠনের সামগ্রিক ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার অভিযোগ তুলে ১৬ অক্টোবর কার্যর্নিবাহী কমিটির ভার্চুয়াল সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিষদ থেকে তাদের প্রাথমিক সদস্যপদ বাতিলসহ স্থায়ীভাবে বহিস্কার করা হয়েছে।

এদিকে দলীয় সিদ্ধান্ত ভঙ্গ এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার অপরাধে তাদের বহিষ্কার করা হতে পারে এমন আঁচ পেয়ে গত ১৫ অক্টোবর কারণ দর্শানোর সময় শেষ হওয়ার আগেই গত ১২ অক্টোবর পরিষদের দীর্ঘদিন ধরে চরম অনিয়ম, অগণতান্ত্রিক চর্চা, স্বেচ্ছাচারিতা এবং কতিপয় ব্যক্তির স্বার্থে ব্যবহৃত হওয়ার, কেন্দ্রীয় মহাসচিবের বিরুদ্ধে ইবির ডায়েরি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নাম বাদ দেওয়াসহ নানা অভিযোগ তুলে ১৭ সদস্যসহ দল থেকে পদত্যাগ করেন ড. মতিনুর রহমান।

তবে পদত্যাগ করা ১৭ সদস্যের মধ্যে একাধিক শিক্ষক দল থেকে পদত্যাগের বিষয়টি জানেন না এবং তাদের থেকে অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। এনিয়ে সংবাদ মাধ্যমে নাম জালিয়াতির অভিযোগও তোলা হয় ড. মতিনের বিরুদ্ধে।

পরিষদ থেকে সদ্য বহিষ্কার হওয়া প্রফেসর ড. মতিনুর রহমান জানান, ‘আমরা সুনির্দিষ্ট কারন দেখিয়ে, কমিটির প্রতি অনাস্থা এনে গত ১২ অক্টোবর ১৭জন সদস্য পদত্যাগ করেছি। সুতরাং এর পরেও জিয়া পরিষদের আমাদের সম্পর্কে আক্ষরিক অর্থে এবং নৈতিকভাবে কোন সিদ্ধান্ত অর্থহীন, মিনিংলেস।’

প্রফেসর ড. এ এস এম শরফরাজ নেওয়াজ বলেন, ‘আমি বিষয়টি জেনেছি। এ বিষয়ে আমি কোন ধরনের মন্তব্য করব না।’

এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর কতিপয় বিএনপিপন্থী শিক্ষককে নিয়ে ২৬ সদস্য বিশিষ্ট ‘সাদা দল’ আত্মপ্রকাশ করে। এতে প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমানেকে আহবায়ক এবং প্রফেসর ড. এ. এস. এম. শরফরাজ নেওয়াজকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

ঢাকা, ১৮ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআই//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।