''কৃষি শিক্ষায় খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দক্ষিণ এশিয়ার একটি সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হবে'' রয়েল বেঙ্গল টাইগার দিয়ে গবেষণা শুরু করলো খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা


Published: 2021-01-23 14:09:07 BdST, Updated: 2021-02-28 16:44:43 BdST

খুকৃবি লাইভ: গবেষণায় মন দিয়েছেন খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুকৃবি) শিক্ষার্থীরা। তারা বেশ কিছু দিন অপেক্ষার প্রহর গুনছিলেন একটি বিশেষ প্রাণীর। অবশেষে পেয়ে গেছেন সেই কাঙ্খিত প্রাণীর মহদেহ। শুরু করেছেন প্রাণী গবেষণার কার্যক্রম। সেই প্রাণী পরিচয় সকলেরই জানা। সেই প্রাণী কোন অপরিচিত কিছু নয়। সেই প্রাণী হলো আমাদের গর্ব। দেশের সম্পদ রয়েল বেঙ্গল টাইগার।

জানাগেছে সুন্দরবনের পাহারাদার ও বাংলাদেশের জাতীয় প্রাণী রয়েল বেঙ্গল টাইগার দিয়েই গবেষণা কার্যক্রম শুরু করেছেন খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার (২০ জানুয়ারি) খুলনার জাহানাবাদ ক্যান্টনমেন্টস্থ বনবিলাস চিড়িয়াখানায় বার্ধক্যজনিত কারণে একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার মারা যায়। মৃত বাঘটিকে মাটি চাপা না দিয়ে ভেটেরিনারি শিক্ষায় সহায়তার ইচ্ছা পোষণ করে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।

রয়েল বেঙ্গল টাইগার দিয়ে গবেষণা শুরু

 

এ খবরটি খুলনা প্রাণিসম্পদ অফিসের মাধ্যমে জানতে পারে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (খুকৃবি) কর্তৃপক্ষ।
বিষয়টি জেনেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকদের পক্ষ থেকে খুকৃবির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. শহীদুর রহমান খানকে জানানো হয় ।

সংশ্লিস্টরা আরো জানান, এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি, অ্যানিম্যাল অ্যান্ড বায়োমেডিকেল সায়েন্সেস অনুষদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একটি মেডিকেল টিম চিড়িয়াখানায় মৃত বাঘটিকে পরিদর্শন করেন। সেসময় খুকৃবির মেডিকেল টিমে উপস্থিত ছিলেন অ্যানিম্যাল নিউট্রিশন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. তসলিম হোসেন, ফিজিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. এম এ হান্নান এবং বিভিন্ন বিভাগের প্রভাষকবৃন্দের মধ্যে ডা. পাপিয়া খাতুন, ডা. জান্নাত হোসেন, ডা. স্বরূপ কুমার কুণ্ডু, ডা. শাহাবুদ্দীন আহমেদ, ডা. মো. শহীদুল্লাহ্, ডা. শারমিন জামান, নাজমুল হক অপুসহ ছাত্র-ছাএীবৃন্দ।

পরে জাহানাবাদ ক্যান্টনমেন্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে বাঘটিকে খুকৃবির ভেটেরিনারি, অ্যানিম্যাল অ্যান্ড বায়োমেডিকেল সায়েন্সেস অনুষদের নিকট হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে বাঘটি দৌলতপুরে অবস্থিত খুকৃবির অস্থায়ী ক্যাম্পাসে আনা হয়। তার পর বাঘটির চামড়া, কঙ্কাল ও অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসমূহকে সংরক্ষণ করা হয়। যা ভবিষ্যতে যা এ অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের ব্যবহারিক পাঠদানে ও গবেষণার কাজে ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

বিষয়টি নিয়ে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. শহীদুর রহমান খান বলেন, মৃত বাঘটির কঙ্কাল ও অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রতঙ্গ বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার কাজে ব্যবহার করা হবে।

রয়েল বেঙ্গল টাইগার দিয়ে গবেষণা শুরু করেছে শিক্ষার্থীরা

 

তিনি আরো বলেন, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে কৃষি শিক্ষায় দক্ষিণ এশিয়ার একটি সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ ব্যাপারে ভেটেরিনারি, অ্যানিম্যাল অ্যান্ড বায়োমেডিকেল সায়েন্সেস অনুষদের শিক্ষার্থী মাহিরুল হল শিলং বলেন, দেশের নবীনতম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হয়ে ব্যবহারিক শিক্ষা ও গবেষণার কাজে রয়েল বেঙ্গল টাইগার ব্যবহারের সুযোগ পাওয়া সত্যিই আনন্দদায়ক ও গর্বের। তিনি আরো বলেন এই আশা আমরা আগে থেকেই করে আসছিলাম। আর অপেক্ষা করছিলাম সেই দিনের। এখন পেয়ে গেছি।

এ বিষয়ে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. এম এ হান্নান জানান, এই ধরনের বিভিন্ন শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে খুকৃবি উচ্চতর কৃষি শিক্ষার সকল স্তরে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।

ড. এম এ হান্নান আরো বলেন, খুকৃবির অ্যানাটমি ও হিস্টোলজি বিভাগের প্রস্তাবিত অ্যানাটমি মিউজিয়াম বাস্তবায়িত হলে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের পুরো দেহের কঙ্কালটিকে সর্বসাধারণের জন্য উন্মোচন করা হবে জানা যায়। আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্যে এটি হবে একটি স্মরণীয় ঘটনা।

ঢাকা, ২৩ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।