কলিং চেপে ছাত্রীদের কক্ষে নিতেন শিক্ষক, ধর্ষণের পর কোরআন শপথ!


Published: 2019-07-07 18:20:05 BdST, Updated: 2019-10-17 21:56:45 BdST

লাইভ প্রতিবেদকঃ তিনি একজন দাওরায়ে হাদীস। একজন বক্তা। একজন ইমাম। জুমার নামাজের খতিব। আবার মাদ্রাসা শিক্ষকও বটে। তার তত্ত্বাবধানে ওই মাদ্রাসার ১৫ ছাত্রীকে রাখা হয়েছে আবাসনে। ছাত্রী নিবাসের রক্ষকের দায়িত্বে থাকা ওই শিক্ষক রাতের আঁধারে ভক্ষকের ভূমিকা পালন করেছেন।

একে একে মাদ্রাসার ৬ ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছেন তিনি। রাতের বেলা হাত-পা টেপার কথা বলে শয়নকক্ষে একে একে ছাত্রীদের ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেছেন তিনি। কলিং বেল চেপে তিনি ছাত্রীদের তার কক্ষে হাজির করতেন। সুযোগ বুঝে ধর্ষণের পর ওই ছাত্রীকে পবিত্র কোরআন শরীফের শপথ করাতেন যাতে ধর্ষণের কথা বাইরে কাউকে না বলে। তবে ওই শিক্ষকের শেষ রক্ষা হয়নি।

সর্বশেষ শুক্রবার এক ছাত্রীকে ধর্ষণের সময় এলাকাবাসীর হাতে ধরা খেয়েছেন তিনি। ধর্ষণের প্রতিবাদ করে ছাত্রীর চিৎকারে এলাকাবাসী ওই শিক্ষককে পিটিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। আলোচিত ওই শিক্ষকের নাম আবুল খায়ের বেলালী। নেত্রকোনার কেন্দুয়ার আঠারোবাড়ি এলাকায় মা হাওয়া (আ:) কওমী মহিলা মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন তিনি।

নেত্রকোনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনি ছাত্রী ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। এর আগে তিনি আরও ৫ ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছেন বলেও পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন তিনি।

ওই ঘটনা নিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) শাহজাহান মিয়া ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আলোড়ন শুরু হয়েছে। তিনি লিখেছেন, কি লিখব আর কিভাবে লিখব, ভাষা পাচ্ছি না।

তিনি একজন দাওরায়ে হাদীস,(সিলেট বালুরচর কওমী মাদ্রাসা হতে) মাওলানা, একজন বক্তা, একজন ইমাম, শুক্রবারে জুমআর নামাজের খতিব। মাওলানা(!!!) আবুল খায়ের বেলালী। শুক্রবারে তার বয়ান শুনার জন্য আধা ঘন্টা আগে মুসল্লীগণ এসে অপেক্ষা করেন মসজিদে। কেন্দুয়ার আঠারবাড়ি এলাকায় মা হাওয়া (আ:) কওমী মহিলা মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক (মুহতামিম) যে মাদ্রাসায় রয়েছে প্রায় ৩৫ জন অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছাত্রী যাদের ১৫ জন আবাসিক। সেখানে তিনিও আবাসিক।

সময় সুযোগ বুঝে তিনি কলিংবেল চাপেন আর ওনার পছন্দমত একজন কোমলমতি ছাত্রীর ডাক পরে তার গা-হাত-পা টিপে দেবার জন্য। আর এক পর্যায়ে তিনি সেই অবুঝ শিশুদের উপর ঝাপিয়ে পড়েন, (. . . . . ) এবং শেষে আবার কোরআন শরীফ হাতে দিয়ে শপথ করান কাউকে কিছু না বলার জন্য, বললে কিন্তু আল্লাহ তোমাকে দোযখের আগুনে পোড়াবেন। ভয়ে কোমলমতি ছাত্রীরা কাউকে কিছু বলেন না।

কিন্তু এক সাহসী বীরাঙ্গনা সেই ভয়ের সঙ্গে যুদ্ধ করে জয়ী হয়, বলে দেয় তার বড় বোন সহ বাড়ির সবাইকে সেই যন্ত্রণার মুহুর্ত গুলোর কথা। স্থানীয় এলাকাবাসীর সহায়তায় আটক হন সেই হুজুররূপী ধর্ষক। থানায় আটক থাকা অবস্থাতেই আরো একজন শিশু শ্রেণির ছাত্রীর অভিযোগ জমা পড়ে। দুইটি ধর্ষণ মামলা হয়েছে তার নামে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাই, গত একবছরে আরো মোট ৬ জন ছাত্রীর সাথে তিনি অনুরূপ কুকর্ম করেছেন যাদের সবারই বয়স ৮ থেকে ১১ এর মধ্যে।

ঢাকা, ০৭ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//আরএইচ

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।