নুসরাত হত্যা মামলার রায় আগামীকাল


Published: 2019-10-23 18:04:52 BdST, Updated: 2019-11-18 22:55:40 BdST

লাইভ প্রতিবেদকঃ ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার রায় আগামীকাল। বৃহস্পতিবার সকালে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশীদ এ রায় প্রদান করবেন।

রায় প্রকাশের সময় সকল আসামি আদালতে হাজির থাকবেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হাফেজ আহমেদ।

পিপি হাফেজ আহমেদ বলেন, নুসরাত হত্যা মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৪ (১) ও ৩০ ধারায় রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণ করেছে। রাষ্ট্রপক্ষ আশা করছে, রায়ে সব আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত হবে।

অপরদেকে আসামিপক্ষের আইনজীবী এম. শাহজাহান সাজু জানান, মাত্র ৬১ কার্যদিবসে বহুল আলোচিত এ হত্যা মামলার নিষ্পত্তি হতে চলেছে। যা দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন।

নুসরাতের মা বলেন, আমি আমার কলিজার টুকরা মেয়ে হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এমন শাস্তি দেওয়া হোক যেন পৃথিবীর অন্য কোথাও কোনো মায়ের বুক এভাবে আর খালি হয়ে না যায়।

তিনি আরও জানান, আমার একমাত্র মেয়েকে ঘাতকরা যেভাবে হাত-পা বেঁধে পুড়িয়ে হত্যা করেছে, অভিযুক্ত প্রত্যেক আসামিকে যেন তেমন কঠিন সাজা দেওয়া হয়।

আসামিপক্ষ থেকে হুমকি-ধামকির ব্যাপারে জানতে চাইলে নুসরাতের মা জানান, আসামিরা হুমকি দিচ্ছে, তারা নুসরাতের বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে ফেলবে, ঘরে বাতি দেয়ার মত কোনো মানুষ থাকবে না বলেও হুমকি দিচ্ছে।

নিজেদের নিরাপত্তার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ পুলিশ আমাদের পাহারা দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে, রায় কার্যকর হওয়া পর্যন্ত যেন এ নিরাপত্তা থাকে।

সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মঈদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ঘটনার পর থেকেই নুসরাতের বাড়িতে পুলিশী পাহারা রয়েছে। রায়কে কেন্দ্র করে বাড়িতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। সাদা পোষাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও পরিবারের প্রতি নজরদারি করছে।

নুসরাত হত্যা মামলায় অভিযোগপত্রের আসামিরা হচ্ছেন, সোনাগাজীর চরকৃষ্ণজয়ের কলিম উল্যার ছেলে এসএম সিরাজ-উদ-দৌলা (৫৭), চরচান্দিয়া ইউনিয়নের উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের মো. আহসান উল্যাহর ছেলে ও মাদ্রাসা ছাত্রদলের কথিত সভাপতি নুর উদ্দিন (২০),

উপজেলার পূর্ব তুলাতলী গ্রামের আবুল বাশারের ছেলে মোহাম্মদ জোবায়ের (২১), উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের রহমত উল্যাহর ছেলে জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ (১৯), সফরপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে হাফেজ আবদুল কাদের (২৫), সোনাগাজীর ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক আবছার উদ্দিন (৩৩),

চরগণেশ গ্রামের আবদুল আজিজের (পালক বাবা) মেয়ে কামরুন নাহার মনি (১৯), লক্ষীপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে ও মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ-উদ-দৌলার ভাগ্নি উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে তুহিন ওরফে শম্পা ওরফে চম্পা (১৯), পূর্ব চরচান্দিয়া গ্রামের আবদুল শুক্কুরের ছেলে আবদুর রহিম শরীফ (২০),

চরচান্দিয়া ইউনিয়নের ভূঁইয়া বাজার এলাকার মো. আবদুর রাজ্জাকের ছেলে ও মাদ্রাসা ছাত্রলীগের কথিত সভাপতি শাহাদাত হোসেন শামীম (২০), পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর, পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক (সদ্য সাবেক) ও চরগণেশ গ্রামের আহসান উল্যাহর ছেলে মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ আল কাউন্সিলর (৫০),

চরগণেশ গ্রামের জামাল উদ্দিন জামালের ছেলে ইফতেখার উদ্দিন রানা (২২), মফিজুল হকের ছেলে ইমরান হোসেন ওরফে মামুন (২২), তুলাতলী গ্রামের সফি উল্যাহর ছেলে মোহাম্মদ শামীম (২০), সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চরচান্দিয়া গ্রামের ভূঁইয়া বাজার এলাকার কোরবান আলীর ছেলে রুহুল আমিন (৫৫), উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের বোর্ড অফিস সংলগ্ন রুহুল আমিনের ছেলে মহিউদ্দিন শাকিল (২০)।

প্রসঙ্গত, চলতি বছর ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের দায়ে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাকে আটক করে পুলিশ। পরে ৬ এপ্রিল মাদরাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা পরীক্ষা কেন্দ্রের ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়।

মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে করা শ্লীলতাহানির মামলা তুলে না নেয়ায় তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয় বলে মৃত্যুশয্যায় বলে গেছেন নুসরাত। টানা ৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল রাতে সে মারা যায়।

ঢাকা, ২৩ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।