মন্ত্রীর স্বাক্ষর জাল! তারপর...


Published: 2020-01-21 17:17:38 BdST, Updated: 2020-08-12 11:48:06 BdST

রংপুর লাইভ: বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির স্বাক্ষর জাল করে গভর্নিং বডি গঠনের অভিযোগ পাওয়া গেছে মাদরাসার প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে। রংপুরের পীরগাছা উপজেলার চৌধুরাণী ফাতেহিয়া ফাজিল মাদরাসার আরবি বিভাগে লেকচারার মোখলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে মন্ত্রীর স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ উঠেছে।

ভাইস-প্রিন্সিপাল থাকা সত্ত্বেও লেকচারার হিসেবে চাকরির সাড়ে তিন বছরের মাথায় মোখলেছুর রহমান ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপালের দায়িত্ব পান। বিষয়টি জানতে পেরে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে রংপুর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রোকসানা বেগমের নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল চৌধুরাণী ফাতেহিয়া ফাজিল মাদরাসায় তদন্ত কাজ শুরু করেন। এ সময় অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন। ফলে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আগামী দুই দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিলের জন্য নির্দেশ দিয়েছে ওই প্রিন্সিপালকে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মোখলেছুর রহমান চৌধুরাণী ফাতেহিয়া ফাজিল মাদরাসায় ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দে আরব বিভাগের লেকচারার পদে নিয়োগ পান। ওই সময় গভর্নিং বডির সভাপতির যোগসাজশে জালিয়াতির মাধ্যমে মোখলেছুর রহমানকে লেকচারার পদে নিয়োগ দেয়া হয়। পরে প্রিন্সিপালের পদ শূন্য হলে ভাইস-প্রিন্সিপাল থাকা সত্ত্বেও ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দে জালিয়াতির মাধ্যমে তাকে সরাসরি ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপালের দায়িত্ব প্রদান করা হয়।

দায়িত্ব নেয়ার পর নিজের নিয়োগ ও প্রিন্সিপালের দায়িত্ব বৈধ করতে মাদরাসার গভর্নিং বডির সভাপতির জন্য বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির স্বাক্ষর জাল করে ডিও (আধা-সরকারি পত্র) তৈরি করা হয়। পরে মোখলেছুর রহমান আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে ওই ডিও (আধা-সরকারি পত্র) জমা দেন। গত বছর ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপালের পদে নিয়োগ নিয়মিত করতে অনুমোদন চেয়ে আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন।

এবিষয়ে জানতে চাইলে মাদরাসা গভর্নিং বডির সভাপতি আরিফুল হক লিটন বলেন, ‘নিজের নিয়োগ বৈধ করতেই মোখলেছুর রহমান বাণিজ্যমন্ত্রীর সিল ও সই জালিয়াতি করেছিলেন। বাণিজ্যমন্ত্রীর পক্ষে তদন্ত কমিটির সামনে প্রিন্সিপালের অনিয়ম ও জালিয়াতির সকল প্রমাণ উপস্থাপন হয়েছে। কিন্তু প্রিন্সিপাল মোখলেছুর রহমান বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।’

এ বিষয়ে প্রিন্সিপাল মোখলেছুর রহমান জানান, ‘আমি ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দে থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপালের হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। আমার সকল কাগজপত্র বৈধ।’

রংপুর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রোকসানা বেগম বলেন, ‘এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। যথাসময়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।’

ঢাকা, ২১ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।