করোনাতংক বনাম ময়মনসিংহ মেডিকেল ইন্টার্ন চিকিৎসকদের যোগদান!


Published: 2020-04-08 21:19:00 BdST, Updated: 2020-12-05 20:25:11 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ম-৫২ ব্যাচের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের করোনা ভাইরাসের কারণে কাজে যোগ না দেয়া নিয়ে তোলপাড় চলছে। এব্যাপারে পরিচালক বি. জে. নাছির উদ্দিন আহমেদের স্টেটমেন্ট সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ম-৫২ এর ইন্টার্ন ডাক্তারের বক্তব্য শেয়ার করা হল :

"আমাদের ম-৫২ ব্যাচের ফাইনাল প্রফের রেজাল্ট হয় ৯ তারিখ। তারপর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পেপারওয়ার্ক শেষ করে ইন্টার্ন হিসেবে যোগদান করার জন্য আমরা সবাই ময়মনসিংহে পৌঁছাই। কিন্তু ১৮তারিখ হুট করে আমাদের ২৪ঘন্টার মাঝে হল ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়া হয়। ইন্টার্ন হলে সিট বরাদ্দ না থাকায় আমরা সবাই নিজ বাসায় ফিরে আসতে বাধ্য হই। তারপর সরকারিভাবে সারাদেশের সকল অফিস আদালত বন্ধের নির্দেশ আসলে বিএমডিসিও বন্ধ হয়ে যায় এবং আমাদের সবার কাগজপত্র ওখানে আটকা পড়ে।

এরপর শুরু হয় লকডাউন। যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা সবাই নিজ নিজ জেলায় আটকা পড়ি এবং এরমধ্যে জয়েনিং সংক্রান্ত কোনো নোটিশও আমাদের কাছে এসে পৌঁছায়নি। আমরা নিজ উদ্যোগে পরিচালক স্যারের কাছে করোনা মোকাবেলায় আমাদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার বিষয়টি ২০তারিখ মেইল করে তুলে ধরি এবং শ্রদ্ধেয় স্যার এককভাবে সেসব সরবরাহ করার ব্যাপারে কোনো নিশ্চয়তা দিতে অপারগ হন।

উল্লেখ্য, স্যার ২১তারিখ মেইলে আমাদের যে রিপ্লাই পাঠান সেখানে আমাদের জয়েনিং সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা ছিলোনা।

দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা কবে জয়েন করবো এ সংক্রান্ত বিভ্রান্তি মেটাতে আমাদের ম-৫২ ব্যাচের কয়েকজন স্থানীয় শিক্ষার্থী ২ তারিখ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে জয়েনিং এর বিলম্বের কারণ জানিয়ে আমাদের একটি আবেদন করতে বলা হয়। আমরা যথারীতি তাই করি এবং হুট করে ৪তারিখ আমরা জানতে পারি আমাদের শ্রদ্ধেয় পরিচালক স্যার আমাদের ইন্টার্নশিপ বাতিলের জন্য সচিবালয়ে আবেদন করেছেন যেখানে আমাদের জয়েনিং না করার কারণ হিসেবে করোনা ভীতি কে দেখানো হয়েছে। ব্যাপারটায় আমরা সবাই যারপরনাই বিস্মিত হই এবং পরিচালক স্যারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করি। স্যার পরবর্তীতে সচিবালয়ে পাঠানো ওই আবেদনপত্র বাতিল করেন এবং ম-৫২ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা কবে থেকে ইন্টার্ন হিসেবে জয়েন করবে সে সংক্রান্ত একটি নতুন আবেদনপত্র সচিবালয়ে পাঠান। এরকম ভুল বুঝাবুঝির জন্য নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে তিনি দুঃখ প্রকাশও করেন।

কিন্তু ইতোমধ্যে কে বা কারা সচিবালয়ে পাঠানো পরিচালক স্যারের প্রথম আবেদনপত্রটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে এর উপর ভিত্তি করে সবাই সত্যটা না জেনেই একতরফাভাবে ম-৫২ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের দোষারোপ করা শুরু করে এবং ডাক্তার হিসেবে তাদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে। এমন কোনো অনলাইন নিউজ পোর্টাল বা ফেসবুক গ্রুপ নেই যেখানে এই মিথ্যা সংবাদটি ছড়ানো হয়নি। প্রতিনিয়ত আমরা ম-৫২ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা কোনো দোষ না করেই অপমানিত হচ্ছি, সামাজিক এবং মানসিকভাবে প্রতিনিয়ত আমাদের হেনস্তা করা হচ্ছে। আর ব্যাপারটা শুধু ম-৫২তেই সীমাবদ্ধ নেই এখন। একটি ভুল বুঝাবুঝি এবং ভুল সংবাদের কারণে সাধারণ মানুষের চোখে মমেক এবং সমগ্র ডাক্তার গোষ্ঠীর সম্মান ও ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। মানুষ অযথাই আমাদের ভুল বুঝছে এবং এটি কোনোভাবেই আমরা মেনে নিতে পারছি না।

আমাদের তো কোনো দোষ ছিলো না। আমাদের হল বন্ধ আমরা থাকবো কোথায়? যানবাহন বন্ধ আমরা ময়মনসিংহ পৌঁছাবো কীভাবে? ২৫তারিখ জয়েনিং এর কোনো নোটিশও আমরা পাইনি। ফোন অথবা ইমেইল কোনোভাবে আমাদের সাথে কোনো প্রকার যোগাযোগ করা হয়নি। আমাদের সবার নিজেদের এবং আমাদের মা বাবার ফোন নাম্বার, ই মেইল আইডি সবই তো তাদের কাছে আছে। এরকম একটি গুরুত্বপূর্ণ সীদ্ধান্ত নেয়ার আগে সবাইকে না হোক ব্যাচ প্রতিনিধিদের সাথে তো কথা বলে নেয়া উচিৎ ছিল। অফিসিয়াল নোটিশ পাঠানোর আগে শোকজ করে আমাদের কারণগুলো জেনে নেয়া উচিৎ ছিল। কিন্তু আমাদের কিছু না জানিয়ে, আমাদের কোনো কথা না শুনে যে সীদ্ধান্তটা নেয়া হলো তার ফলস্বরূপ আমাদের সাথে যে অন্যায়টা হলো, যেভাবে সবার কাছে আমরা ছোট হলাম এর দায়ভার এখন কে নেবে? শিক্ষানবিশ হিসেবে মানবসেবায় অংশ নেয়ার প্রাক্কালে এমনটা কী আমাদের প্রাপ্য ছিলো?"

ইন্টার্ন ডাক্তার, ম-৫২ ব্যাচ
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ

ঢাকা, ০৮ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।