মেডিকেল কলেজ শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীরা অপেক্ষার প্রহর গুনছে...


Published: 2020-06-27 13:25:59 BdST, Updated: 2020-08-14 19:18:02 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: অপেক্ষার প্রহর গুনছেন শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীরা। কি হবে ভবিষ্যত এনিয়ে ভাবনা তাদের। প্রাণঘাতি করোনার প্রভাব পড়েছে এসব মেডিকেল শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের মাঝে। এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি মেডিকেল শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষার ব্যাপারে। করোনা ও নানান কারণে ৮ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সবকিছুই থমকে আছে। একই কারণে আড়াই হাজার ইন্টার্ন চিকিৎসক যোগ দেয়ার প্রক্রিয়াও বন্ধ রয়েছে।

জানাগেছে পরিবর্তিত পরিস্থিতি সামাল দিতেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা অনুষ্ঠানের সুপারিশ করেছেন শিক্ষক ও চিকিৎসক নেতারা। তবে চিকিৎসা অনুষদের ডিনরা বলছেন, তারা এখনই প্রস্তুত নন। সংশ্লিস্টরা বলছেন ৫ বছরের শিক্ষা জীবনের শেষ পরীক্ষার একটিতে নির্ধারিত নম্বর অর্জন করতে পারেননি মেডিকেল শিক্ষার্থী তমা। এরপর ৮ মাস ধরে ঝুলে আছে তার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন। কবে নাগাদ এই জট খুলবে এটা কেউ জানেননা।

আরো জানাগেছে শেষ বর্ষে সার্জারি, গাইনি ও মেডিসিন এ তিন বিষয়ে পরীক্ষা পাসের পরই ইন্টার্নশিপের সুযোগ পান তরুণ চিকিৎসকরা। আর মেডিকেল কলেজগুলোতে বছরে দুই বার পরীক্ষা হয়। নভেম্বর সেশনে কোনো কারণে অংশ না নেয়া বা অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা যোগ্যতা অর্জন সাপেক্ষে পরীক্ষা দিতে পারেন মে সেশনে। কিন্তু করোনার কারণে এই সুযোগেও নানান বাঁধা পড়েছে।

এসব বিষয়ে একজন মেডিকেল শিক্ষার্থী বলেন, পাস করতে পারছি না পরীক্ষা না হওয়া পর্যন্ত। ইন্টার্ন করতে পারছি না পাস না করা পর্যন্ত। কিন্তু কোভিডের মতো সংক্রামক রোগের বিস্তারের প্রেক্ষাপটে এমন একটি পরীক্ষা অনুষ্ঠান কতটা সম্ভব?

এ সব বিষয়ে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ বলেন, এটা যৌক্তিক দাবি, কারণ একটা সাবজেক্টের জন্য ওরা কতদিন অপেক্ষা করবে? ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ বলেন, ইন্টার্নি তো এক বছরের জন্য। এরপর ওদের ডিউটি শেষ। স্বাভাবিক সংকট তো হবেই। কিন্তু অনুষদের প্রধানদের রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

বিইউপি ডিন বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, যত তাড়াতাড়ি নেয়া সম্ভব নেয়ার চিন্তা করছি। চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদ ডিন অধ্যাপক ডা. সেলিম বলেন, মেডিকেল সাইন্সের পরীক্ষা হলে তো আগে কলেজ খুলতে হবে। ছাত্রদের রোগীদের কাছে যেতে হবে। এখন তো কলেজই খুলতে পারছি না। তাই একটু সময় লাগছে।

এ সব বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদ ডিন ডা. শাহরিয়ার নবী শাকিল বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। সরকার মেডিকেল কলেজগুলো খুলে দেবে। তারপর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। দেশের সরকারি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পেশাদার চিকিৎসকদের পাশাপাশি প্রতিবছর দায়িত্ব পালন করেন প্রায় ৮ হাজার ইন্টার্ন চিকিৎসক। কিন্তু করোনার কারণে এখন সেই কাজটি হচ্ছে না। সংশ্লিস্টরা আশা করছেন অচিরেই এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

ঢাকা, ২৭ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআইটি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।