ঘুমের মাঝেই মারা গেলেন বাকৃবির সেরা ছাত্র, নানা প্রশ্ন


Published: 2019-10-04 14:44:36 BdST, Updated: 2019-10-20 23:23:59 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : মাহমুদুল হাসান মোনায়েম। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্র ক্লাসে সেরাদের তালিকায় ছিলেন। বায়োটেকনোলজিতে মাস্টার্স করছিলেন তিনি। স্বপ্ন ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার। সেভাবেই নিজেকে প্রস্তুত করছিলেন তিনি। তবে স্বপ্ন ছুঁয়ে দেখার আগেই না ফেরার দেশে চলে গেছেন মোনায়েম। গত বুধবার রাতে (০২ অক্টোবর) তিনি মারা যান। তার মৃত্যুটা স্বাভাবিক ছিল না। ঘুমের মাঝেই তিনি না ফেরার দেশে চলে গেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে সেরাদের তালিকায় থাকা মোনায়েম স্ট্রোক করে মারা গেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে। সহপাঠীদের অভিযোগ তার মৃত্যুটা স্বাভাবিক নয়। তার মৃত্যুর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দায়ি করছেন তারা। তাদের অভিমত একটা ছাত্র কতটুকু মানসিক কষ্টে থাকলে এই বয়সে স্ট্রোক করতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

সহপাঠীদের ভাষ্যমতে, মোনায়েম বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। সেভাবেই তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছেন। ক্লাসের সেরা ছাত্রদের মধ্যে তিনি অন্যতম ছিলেন। ছিলেন ডিপার্টমেন্টোর ফার্স্টক্লাস ছাত্র। রেজাল্টের দিক দিয়ে অনার্সে ১৭তম হলেও মাস্টার্সে ছিলেন তার বিভাগের ফার্স্টবয়। তবে তিনি বিভিন্ন সময় শিক্ষকদের রোষাণলের শিকার হয়েছেন। ভালোমনের অধিকারী ওই ছাত্র ভালো রেজাল্ট করলেও তার মন ভালো থাকতো না। মাস্টার্সে পড়াশোনা করা অবস্থায় তিনি অধিকাংশ সময় মনমরা হয়ে থাকতেন। শিক্ষক নিয়োগের সার্কুলার হওয়ার পর লবিং ম্যানেজ করতে না পারায় স্বপ্ন পূরন হয়নি তার। একারণে তিলে তিলে ওই ছাত্র প্রচণ্ড মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছিলেন। সেই যন্ত্রণা থেকেই মোনায়েম মারা যেতে পারেন বলে ধারনা করছেন তার সহপাঠীরা।

মোনায়েমের এক সহপাঠী ফেইসবুকে লিখেছেন, একটা টিচার ক্যান্ডিডেট ছেলেকে আশা দেখিয়ে নিয়ে গিয়ে, বার বার এভাবে আশা ভাঙার কোন মানে হয়না। আপনি পারবেননা শুরুতেই সরাসরি না করে দিতেন। আপনারা তো শুধু বাহির টা দেখে যা তা ব্যবহার করেন একটা স্টুডেন্ট এর সাথে। কারো ভিতরের অবস্থাটা একটুও জানতে চাননা কখনো। একটা ছেলে কতটা ডিপ্রেশন এ ভুগলে, নামাজ শেষে মসজিদে শুয়ে শুয়ে কাঁদে, কতোটুকু প্রেশার দিলে, রাফ বিহেব করলে সুপারভাইজার পাল্টাতে বাধ্য হয়। কতোটা ডিপ্রেশনে থাকলে এই বয়সে একটি ছেলে স্ট্রোক করতে পারে, তা আপনাদের কাছেই প্রশ্ন রয়ে গেল।

একটি স্টুডেন্ট যখন মাস্টার্স এ উঠে তার সবচেয়ে বড় পরিচয় হয় সে অমুক ডিপার্টমেন্টের স্টুডেন্ট। ডিপার্টমেন্টটা হয় তার পরিবার আর সুপারভাইজার হন তার গার্জিয়ান। ওর বাসা তো খুব বেশি দূরে ছিল না। ভার্সিটি থেকে মাত্র ৩০ মি. এর রাস্তা। ডিপার্টমেন্টের একটি টিচার তো দূরের কথা, সুপারভাইজার কেউ তো দেখলামনা দেখতে যেতে। আপনাদের মনুষ্যত্বের গ্রাফটা কোথায় নেমেছে, একটু খেয়াল করে দেখবেন। সবশেষে আমি শুধু এটাই বলবো, এটা কোন স্বাভাবিক মৃত্যু ছিল না, আপনারা অনেকগুলো মানুষ এর সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে জড়িত আছেন।

ঢাকা, ০৪ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।