সাহরীর খাবার গ্রহণের সুযোগও দেয়নি দুর্বৃত্তরানজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে সাহরীর সময় কুপিয়ে হত্যা


Published: 2020-05-01 16:13:08 BdST, Updated: 2020-06-07 08:11:57 BdST

ময়মনসিংহ লাইভ: পিতা-মাতা সাহরী খেতে উঠেছেন কি না তা জানতে শেষ কথা হয়েছিল তার বাবার সঙ্গে। অনেক্ষক মোবাইল ফোনে কথাও হয়েছে। কিন্তু কে জানতো দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাত তার প্রাণ কেড়ে নিয়ে। ময়মনসিংহ মহানগরীর তিনকোনা পুকুরপাড় এলাকার ছাত্রদের মেসে ঢুকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হতভাগা ওই শিক্ষার্থীর নাম তৌহিদুল ইসলাম। তিনি ত্রিশালের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

মেসের সদস্যরা জানান তৌহিদ তার সাহরীর খাবার নিয়ে টেবিলে রেখেছিলেন। রোজা রাখবেন বলে। কিন্তু দুর্বৃত্তরা তাকে সে খাবার গ্রহনের সময়ও দেয়নি। এরি মধ্যে হামলে পড়ে তার ওপর। একথা বলে তার এক সহকর্মী কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

নিহতদের স্বজন ও মেসের সূত্রে জানাগেছে শুক্রবার (১ মে) ভোরে সাহরী খাওয়ার পর মেসে কয়েকজন দুর্বৃত্তরা ঢুকে পড়ে। মূহুর্তেই তৌহিদুল ইসলামকে ছুরিকাঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার পর ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। নিহত তৌহিদুল ইসলাম খান নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া থানার রামেশ্বর এলাকার সাইদুল ইসলাম খানের ছেলে। তিনি তিনকোনা পুকুর পাড় এলাকায় মেসে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাশুনা করতেন। অত্যন্ত মেধাবী ও সৎ হিসেবেই তাকে ক্যাম্পাসে সকলে চিনতো।

তৌহিদের শেষ খাবার ছিলো এই টেবিলে

 

সংশ্লিস্টরা আরো জানান, ময়মনসিংহ নগরীর তিনকোনা পুকুরপাড় এলাকায় জনৈক আদিলের বাসায় ভাড়া থাকতেন ওই শিক্ষার্থী। ভোরে কক্ষে ঢুকে দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে শিক্ষার্থীর ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে নেয়ার পর ভোর সাড়ে চারটার দিকে ওই শিক্ষার্থী মারা যান।

মৃত্যুর আগে তৌহিদুল জবানবন্দি দিয়ে গেছে। তাকে কে কে হত্যা করেছে তাদের নামও বলেছেন বলে জানা গেছে। কি কারণে তারা তাকে হত্যা করলো তাও বলে গেছে তৌহিদুল ইসলাম। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাশ ঘরে রাখা হয়েছে।

এদিকে তৌহিদের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার পরিবারে। তার স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছেন। ওই এলাকা মানুষও শোকে মুহ্যমান।। তার পিতা-মাতা সন্তানের এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।

ওদিকে নিহতের ছোট ভাই শহিদুল ইসলাম খান ও চাচা সায়েদ আহমেদ খান জানান, রাত আড়াইটার দিকে সে বাড়িতে ফোন দিয়ে তার বাবার সাথে কথা বলেছে। কিছুক্ষণ পরেই সে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে খবর পেয়ে এসে দেখি মারা গেছে। তার হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান তারা।

নিহত শিক্ষার্থীর মেসের সহপাঠী হামিদুর রহমান সুমন বলেন, ওকে হত্যা করার মতো কোনো শত্রু থাকতে পারে তা আমাদের কখনো মনে হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সবার সাথে তার সুসম্পর্ক ছিল। আগে সে ত্রিশালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের একটি মেসে থাকতো।

হামিদ আরো জানান, মাস খানেক আগে ময়মনসিংহে এসেছে তৌহিদ। হত্যাকারীদের দ্রুত খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি জানাই। পুলিশ জানিয়েছে আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আজ কালের মধ্যেই তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পূলিশ সুপার হুমায়ুন কবীর জানান, মৃত্যুর আগে তৌহিদ জবানবন্দি দিয়ে গেছেন। সে অনুযায়ী কাজ চলছে। হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। শিগগিরই জড়িতরা ধরা পড়বে।

ত্রিশালের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান বলেন, ইতোমধ্যে এ ঘটনায় ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত করে এবং সন্ত্রাসীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হয় সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

ঢাকা, ০১ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআইটি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।