সিলিন্ডার বিস্ফোরণ নিয়ে যা বললেন বেলুন বিক্রেতা


Published: 2019-10-31 18:26:29 BdST, Updated: 2019-11-19 02:59:37 BdST

লাইভ প্রতিবেদকঃ রাজধানীর রূপনগরে বেলুনের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে সাতজন মারা গেছে। উক্ত ঘটনায় আহত ও দগ্ধ হয়ে আরও সাতজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাদের মধ্যে ছয় বছর বয়সী মিজান আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন।

মিজান ছাড়াও হাসপাতালে ভর্তিরত বাকিদের অবস্থাও আশঙ্কমুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন ঢামেক হাসপাতালে আবাসিক সার্জন মোহাম্মদ আলাউদ্দিন। মিজান ছাড়া ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাকিরা হলেন- গ্যাস বেলুন বিক্রেতা আবু সাঈদ (২৯), মোস্তাকিম (৯), স্থানীয় বাসিন্দা জুয়েল (২৫), সিয়াম (১১), জনি (১০) এবং জান্নাত (২৫)।

ঢামেকের অর্থোপেডিক্স বিভাগে পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন বেলুন বিক্রেতা আবু সাঈদ। বিস্ফোরণে তার ডান হাতের আঙুল থেতলে যায়। তাছাড়াও তার পেট ঝলসে গেছে এবং ডান পায়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার ঢামেকে আবু সাঈদ জানান, ‘এটা তো (সিলিন্ডার বিস্ফোরণ) একটা দুর্ঘটনা, আমি তো ইচ্ছা করেই এই দুর্ঘটনা ঘটাইনি। ইচ্ছা করে হলে শাস্তি মাথা পেতে নিতাম। শুনলাম অনেকে মারা গেছে, অনেকে অসুস্থ আছে, আমি চাই সবাই সুস্থ হোক। সবার কাছে আমি ক্ষমা চাই এবং সবাই সুস্থ হয়ে উঠুক।’

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়ালিটি ১০১ নম্বর ওয়ার্ডে পুলিশ পাহারায় ভর্তি রয়েছেন বেলুন বিক্রেতা আবু সাঈদ। কারণ, বুধবার রাতে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছে। মামলার একমাত্র আসামি তিনি। চিকিৎসাধীন আবু সাঈদের হাতে হাত কড়া না থাকলেও একজন পুলিশ সদস্য তাকে পাহারায় রেখেছেন।

বিস্ফোরণের ঘটনা সম্পর্কে বর্ণনা দিতে গিয়ে সাঈদ জানান, ‘সাভারে আমার এক চাচার কাছ থেকে এ ব্যবসা (গ্যাস বেলুন বিক্রি) শিখেছি। ১৫ দিন যাবৎ আমি এই ব্যবসা করছি। স্বাভাবিকভাবেই যেভাবে বেলুনে গ্যাস ভরা হয় কালকেও আমি (বুধবার) একইভাবে ভরেছি। এমন বিস্ফোরণ হবে তা আমি কল্পনাও করতে পারিনি। বিস্ফোরণের পর ৫ মিনিট আমার কোনো জ্ঞান ছিল না।’

সাঈদ আরও জানান, ‘জ্ঞান ফিরলে প্রথমে আমার বাসায় যাই, তারপর ইসলামিয়া হাসপাতালে গিয়ে ব্যান্ডেজ করাই। তারা ভর্তি না নিয়ে আমাকে পঙ্গুতে (পঙ্গু হাসপাতাল) পাঠিয়ে দেন, সেখান থেকে রাতে ঢাকা মেডিকেলে পাঠান।’

গ্যাস বেলুন বিক্রি করার আগে আবু সাঈদ ঢাকার মিরপুরেই একটি টেইলার্সে জামা-কাপড় শেলাইয়ের কাজ করতেন। তিনি জানান, ‘এর আগে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে মিরপুরে একটি টেইলার্সে কাজ করতাম। সেখানে প্রতি পিস বাবদ ৮০ টাকা করে দিত। যে টাকা সেখান থেকে পেতাম তাতে না পোষানোর কারণে এ ব্যবসায় আসি।’

চিকিৎসাধীন আবু সাঈদের বাম হাত ও ডান পা ব্যান্ডেজ করা অবস্থায় রয়েছে। তিনি জানান, ‘শুনেছি আমার বাম হাতের দুটি আঙুল নাকি নেই, পায়েও নাকি মাংস নেই। সবাই দোয়া করবেন যেন আমি সুস্থ হয়ে যাই। যারা আহত হয়েছেন তারা সাবাই যেন সুস্থ হয়ে যান।’

ঢাকা, ৩১ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।