নারী শ্রমিকদের নির্যাতনের প্রতিবাদে গণজমায়েত


Published: 2019-11-01 19:12:30 BdST, Updated: 2019-11-12 03:50:49 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশি নারী শ্রমিকদের ওপর বর্বরোচিত যৌন নির্যাতন, জীবননাশ ও বাংলাদেশ মিশনের দ্বায়িত্বহীনতার প্রতিবাদে গণজমায়েত ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে সচেতন নাগরিক সমাজ। শুক্রবার বিকেল ৩টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে 'বাংলাদেশের সচেতন নাগরিক সমাজ' ব্যানারে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশগ্রহণ করেন।

সমাবেশে বক্তারা বিদেশে বাংলাদেশ মিশন ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা তুলে ধরে সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষে বিশিষ্ট কবি শওকত হোসেন বলেন, ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশ সৌদি আরবে নারী শ্রমিক পাঠানো বন্ধ করে দেওয়া সত্ত্বেও রেমিট্যান্সের আশায় যথাযথ আইন অনুসরণ না করে স্রেফ সমঝোতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ সেখানে শ্রমিক পাঠানো অব্যাহত রেখেছে।

তিনি আরো বলেন, সৌদিতে নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা প্রদানের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার ব্যর্থতা অস্বীকার করতে পারে না। শ্রমিকরা প্রায়ই দেশে ফিরে আসছে। চলতি বছর এ পর্যন্ত ৩৫ হাজার প্রবাসী বিদেশ থেকে ফেরত আসছে।তাদের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের ৬ টি দেশ থেকে আসছে ৩৫ হাজার শ্রমিক। তাদের মধ্যে অনেকেরই কাজের অনুমতি থাকা সত্বেও ফেরত আসছে। আমরা এই লজ্জাজনক পরিস্থিতির অবসান চাই।

মুক্তিযোদ্ধা ও গবেষক শেখ বাতেন বলেন, মানিকগঞ্জের নাজমা দূতাবাসে তিনবার কল করেছে। তারা সাড়া দেয়নি। দূতাবাস ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাজ কী? যদি তাদের লাশ হয়ে দেশে ফিরতে হয়।

নারীপক্ষ সংগঠনের পক্ষ থেকে রওশন আরা বলেন, নারী প্রতি যে সহিংসতা হচ্ছে, তা বন্ধ হওয়া উচিত। বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তারা যে আচরণ করছে, এ বিষয়ে যা বলছে। এতে আমি লজ্জিত, স্তম্ভিত।ফিলিপাইনের এক নারী সেখানে নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর, সে দেশের সরকার কূটনৈতিকভাবে সে দেশ থেকে নারী শ্রমিক নিয়ে এসেছে। আমাদের দেশের নারী শ্রমিকরা লাশ হয়ে ফিরে আসছে। কোনো তদন্ত হয়েছে?

এসময় তিনি সরকারের সচিব সৌমিতা দাসকে লক্ষ্য করে বলেন, আপনি আপনি যেভাবে কথা বলেছেন, এতে প্রধানমন্ত্রীর ইজ্জত যায়। আমরা জানি প্রধানমন্ত্রী চেষ্টা করছেন।কিন্তু আপনারা যারা সরকারের কর্মকর্তা আছেন, আপনারা নিজেদের দ্বায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করুন।

এ সময় বক্তারা সরকারের প্রতি ১০ দফা দাবি পেশ করেন। বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক রাখাল রাহা এ দাবি পাঠ করেন।

দাবিগুলো হলো,

১. যারা নারীদের ধর্ষণ ও মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।একই সাথে নারী শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন ও ধর্ষণের খবর জানা সত্ত্বেও দূতাবাস ও মন্ত্রণালয়ের যেসব কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি এবং অভিযোগকারী নারীদের গালিগালাজ করেছে তাদেরকেও বিচারের আওতায় আনতে হবে।

২. সৌদি মালিকদের দ্বারা ধর্ষিত, নিহত ও আত্মহত্যার শিকার নারীদের প্রত্যেকের পরিবারকে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে ২ কোটি টাকা এবং নির্যাতিতদের জনপ্রতি ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। একইসাথে যেসব নারী শ্রমিক নির্যাতন-নিপীড়নের ঝুঁকির মধ্যে আছে, তাদেরকে সরকারের দ্বায়িত্বে দেশে ফেরত আনতে হবে এবং জনপ্রতি ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

৩. নারী শ্রমিক ধর্ষণ, হত্যা ও আত্মহত্যার দায়ে সৌদি নাগরিকদের বিচারের আওতায় আনতে বাংলাদেশ সরকারকে উদ্যোগী হয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায় করে সৌদি সরকারকে চাপ দিতে হবে এবং প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

৪.নির্যাতিত নারীর মামলা করার প্রক্রিয়া সহজ ও মানবিক করতে সৌদি সরকার চাপ দিতে হবে এবং মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিককে সৌদিতে থাকার বাধ্যবাধকতা বাতিল করতে হবে।

৫. নির্যাতনের মুখে দেশে ফেরার সময় 'নিয়োগ কর্তা তার সাথে কোনো খারাপ আচরণ বা শর্ত ভঙ্গ করেনি' এধরনের লিখিত জবানবন্দী দেওয়ার বাধ্যবাধকতা বাতিল করতে হবে।

৬. নির্যাতিত হয়ে দেশে ফেরত নারীদের পারিবারিক ও সামাজিক নিরাপত্তা ও মান ইজ্জত নিশ্চিত করতে হবে। কোনো পরিবার তাকে জায়গা দিতে না চাইলে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে এবং এজন্য সুর্নিদিষ্ট নীতিমালা ও আইন প্রণয়ন করতে হবে।

৭.অতিরিক্ত মুনাফার জন্য মধ্যস্বত্ত্বভোগী রিক্রুটিং এজেন্সি বা যারা নারী শ্রমিকদের বিদেশে বিক্রি করে দিচ্ছে, তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

৯.রিক্রুটিং এজেন্সি কর্তৃক নারী শ্রমিকদের দায়দায়িত্ব ৩ মাসের পরিবর্তে পুরুষ শ্রমিকদের মতো ২ বছর করতে হবে।

১০. কেনো বালখিল্য সমঝোতা চুক্তির ওপর ভিত্তি করে নয়, আন্তর্জাতিক শ্রমআইন মেনে যথাযথ চুক্তির মাধ্যমে নারীদের বিদেশ পাঠাতে হবে।চুক্তিতে পরিষ্কারভাবে শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তার গ্যারান্টি ক্লজ যুক্ত থাকতে হবে।

প্রতিবাদ সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন কথাসাহিত্যিক জাকির তালুকদার, আইনজীবী হাসনাত কাইয়ুম, সংগঠন চারু হক, কবি ফারিসা মাহমুদ ও ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন প্রমুখ।


ঢাকা, ০১ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।