শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়তে পারে ঈদ পর্যন্ত


Published: 2020-03-30 14:24:20 BdST, Updated: 2020-05-29 15:11:52 BdST

লাইভ প্রতিবেদকঃ প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস প্রতিরোধের লক্ষে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি বৃদ্ধি করা হতে পারে। চলমান এই ছুটির মেয়াদ বাড়িয়ে ঈদুল ফিতর পর্যন্ত বাড়ানোর চিন্তাভাবনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)। তবে এ নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে কয়েকটি ধাপে আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্বব্যাপী বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াভয়তা বেড়ে যাচ্ছে। ঘরের বাইরে বের হওয়াটা আরও ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।আর তাই এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকির মধ্যে না ঠেলে দিয়ে তাদের নিরাপত্তায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ রাখার চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। বর্তমান ছুটি শেষ হওয়ার পূর্বেই আগামী রমজান ও ঈদের ছুটি পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হতে পারে।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন জানান, ‘সামগ্রিক বিষয়টি বিবেচনা করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। সবার আগে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ের দিকটি বিবেচনা করা হবে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হবে। প্রয়োজনে ঈদুল ফিতরের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলা হতে পারে।’

সচিব আরও জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হলে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে রাখতে বেশ কিছু বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সংসদ টেলিভিশনে শ্রেণি পাঠ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। সেই সাথে ভিন্ন আরও কিছু পন্থা আমরা চিন্তা-ভাবনা করেছি। দীর্ঘসময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে সেসব বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘এমনিতে বছরের অর্ধেক সময় বিভিন্ন কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকে। তাই শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ শিক্ষাজীবনে যাতে কোনোভাবেই ব্যাঘাত না হয়, তাও আমাদের বিবেচনায় আনতে হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে ছুটি বৃদ্ধির বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে’

আরেকদিকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের (ডিপিই) মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহ জানান, সবকিছুর আগে আমাদের কাছে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাটাই গুরুত্বপূর্ণ। এই বিবেচনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যালয়গুলোকে বন্ধ রাখা হবে।

এসময় তিনি আরও জানান, বর্তমান সময়ে আমরা ছুটি বৃদ্ধি করার বিষয়ে ভাবছি। তবে এখনও বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। এ ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও বিকল্প পন্থায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া হবে। চলতি সপ্তাহ থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য অভিজ্ঞ শিক্ষকদের ক্লাস রেকর্ড করে তা টেলিভিশনে সম্প্রচার শুরু করা হবে। বাসায় বসে শিক্ষার্থীরা তাদের সিলেবাস অনুযায়ী পড়ালেখা করার সুযোগ পাবে।

ঢাকা, ৩০ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।