জীবনের যবনিকা টানলেন একজন সাহারা খাতুন


Published: 2020-07-10 11:02:29 BdST, Updated: 2020-08-04 11:15:09 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: চলে গেলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আওয়ামী লীগের সভাপতির মণ্ডলীর সদস্য ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন। ইন্নাইলাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। জীবনের ইতি টেনে চলে গেলেন তিনি। একজন নিবেদিত প্রাণ রাজনীতিকের জীবনের অবসান হলো। চলে গেলেন অপারে, সৃস্টি কর্তার ডাকে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টায় ব্যাংককের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।

অবশেষে মৃত্যুর কাছে থেমে যেতে হলো আওয়ামী লীগ নেত্রী সাহারা খাতুনকে৷ দীর্ঘদিন নানান রোগব্যাধির সাথে যুদ্ধে বৃহস্পতিবার রাতে পৃথিবী ছাড়লেন তিনি। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানান জটিলতায় ভুগছিলেন ৭৭ বছর বয়সী এই নারী রাজনীতিক ৷

অ্যালার্জি জনিত সমস্যা নিয়ে ২ জুন রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা তাকে ৷ তারপর থেকেই অবস্থার অবনতি ঘটে তার। কয়েকদফা আইসিইউ'তে চিকিৎসা দেয়ার এক পর্যায়ে গত ৬ জুলাই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ এক শোক বার্তায় সরকার প্রধান বলেন, বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত সহযোদ্ধা হারিয়েছেন তিনি ৷ আর জাতি হারালো এক দক্ষ ও সৎ নারী নেত্রীকে।

ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতি সম্পৃক্ত সাহারা খাতুন সবশেষ নির্বাচনেও ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন ৷ এ আসনে পরপর তিনবার নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি। পরে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন।

১৯৪৩ সালের পহেলা মার্চ ঢাকার কুর্মিটোলায় জন্ম গ্রহণ করেন সাহারা খাতুন। তিনি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এছাড়াও তিনি আন্তর্জাতিক মহিলা আইনজীবী সমিতি ও আন্তর্জাতিক মহিলা জোটের সদস্য ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে একজন আইনজীবী হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন।

অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন তাঁর পুরো জীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রতিষ্ঠায় কাজ করে গেছেন। আওয়ামী লীগের এই নিবেদিত প্রাণ কর্মী ১৯৪৩ সালের ১লা মার্চ ঢাকার কুর্মিটোলায় জন্ম গ্রহণ করেন। পিতা আব্দুল আজিজের হাত ধরেই মূলত তাঁর রাজনীতির হাতেখড়ি।

১৯৬৬ সালে তিনি ছয়দফার আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ৬ দফার বই বিলি করতেন। ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে তিনি আওয়ামী লীগের মহিলা শাখার নেতাকর্মীদের নিয়ে জনসভায় যোগ দেন। ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের দিনও তিনি সরাসরি অংশ গ্রহণ করেছিলেন।

১৯৮১ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে একজন আইনজীবী হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং দলের আইন সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ছিলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য।

দেশের প্রথম নারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ছিলেন সাহারা খাতুন। গত তিন মেয়াদ ধরে ঢাকা-১৮ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। ২০০৮ সালে মহাজোট ক্ষমতায় এলে প্রথমে তাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয়। পরে, মন্ত্রণালয়ে রদবদল করা হলে তাকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়।

জ্বর, অ্যালার্জিসহ বার্ধক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে গত ২ জুন রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হন সাহারা খাতুন। এরপর তাঁর অবস্থার উন্নতি হলে বেডে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আবার অবস্থার অবনতি হলে ১৯ জুন সকালে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। তাঁর করোনা টেস্ট নেগেটিভ এসেছিল।

তিনি ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন অবিবাহিত। পুরো জীবন দেশের মানুষের কল্যাণে এবং আওয়ামী লীগের জন্য উৎসর্গ করে গেছেন। ইতি টানলেন এক বর্ণাঢ্য রাজনীতির জীবনের।

ঢাকা, ১০ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআইটি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।