cw৬৫০ আইসিটি শিক্ষক এমপিওর জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন


Published: 2020-08-08 20:48:09 BdST, Updated: 2020-09-22 23:10:41 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েও এমপিওভুক্ত হতে পারছেন না সাড়ে ছয়শ' আইসিটি শিক্ষক। প্রায় দেড় বছর ধরে তারা এমপিওভুক্তির জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। জানা গেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) কার্যালয়ে ঘুরে ঘুরে সময় কাটাচ্ছেন তারা।

এ ব্যাপারে এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান বলেন, 'আমি নতুন এ পদে এসেছি কয়েকদিন হলো। নথিপত্র দেখে তারপর বলতে হবে।' অন্যদিকে মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক বলেছেন, '২০১৬ সালের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া এ শিক্ষকরা এমপিওভুক্ত হতে পারবেন। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে হয়ে গেছে।

অন্যদিকে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৬ সালে এনটিআরসিএর জারি করা বিজ্ঞপ্তির আলোকে পরীক্ষা দিয়ে নিয়োগ পাওয়া ৬৫০ জন আইসিটি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক টানা ১৮ মাস ধরে এমপিওভুক্ত হতে পারছেন না। তাদের এমপিওভুক্তি বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাউশি কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেয়নি। দীর্ঘ এ সময় বেতন-ভাতা না পেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছে ৬৫০টি পরিবার।

এনটিআরসিএ গত বছরের ১০ জানুয়ারি ১ হাজার ৪৮টি পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশপত্র ইস্যু করে যোগদানের সময়সীমা এক মাস নির্ধারণ করে দেয়। সুপারিশপত্র ইস্যুর সঙ্গে ১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ত্রুটিপূর্ণ চাহিদা এনসিটিবিতে পাঠানোয় ওইসব প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করে একটি নোটিশও দেয় এনটিআরসিএ।

এ নোটিশে আরও বলা হয়, হাইকোর্টের রিট পিটিশন ২০২৫/২০১৬ এবং ২৯২৬/২০১৬ এর রায় অনুসরণে ২০১৬ সালের গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশকালীন বিধি মোতাবেক সহকারী শিক্ষক, কম্পিউটার (বর্তমানে সহকারী শিক্ষক, আইসিটি) পদে নিয়োগের জন্য ১০৪৮টি শূন্য পদের বিপরীতে সুপারিশ করা হলো।

নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের বিষয়ে সংশ্নিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের মোবাইলে খুদে বার্তা পাঠিয়ে এনটিআরসিএ নিয়োগের তথ্য জানিয়ে দেয়। সুপারিশপত্র পাওয়ার পর একমাসের মধ্যেই অর্থাৎ গত বছরের ৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শিক্ষকরা সবাই সংশ্নিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান- গুলোতে যোগদান করেন।

এনটিআরসিএ নোটিশে ২০১৬ সালের গণবিজ্ঞপ্তিকালীন সময়ে বিধিবিধান মোতাবেক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বলা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৩৪৪ জন এবং দ্বিতীয় দফায় ৫২২ জন শিক্ষক যোগদান করেন। এনটিআরসিএ নিয়োগ দিলেও মাউশির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা ২০১৮ সালের এমপিও নীতিমালার অজুহাতে এই শিক্ষকদের এমপিওভুক্তিতে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন বলে শিক্ষকদের অভিযোগ। তারা বলেন, এমপিওভুক্তির জন্য অনলাইনে একাধিকার আবেদন করা হলেও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা না থাকার কথা বলে মাউশির আঞ্চলিক অফিসের কর্মকর্তারা তাদের আবেদন অগ্রায়ন করছেন না।

ভুক্তভোগী এই শিক্ষকদের কথা ভেবে এনটিআরসিএ ২০১৯ সালের ১৮ এপ্রিল নিয়োগপ্রাপ্তদের এমপিওভুক্ত করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাউশিতে নিয়োগ বিষয়ে স্পষ্টকরণ চিঠিও দেয়। তবুও কোনো কাজ হয়নি। এই শিক্ষকদের বিষয়ে এ বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি মাউশি এবং ২৩ মার্চ মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে পৃথক চিঠি দিয়ে শিক্ষকদের তালিকা সংগ্রহ করা হয় জেলা ও উপজেলা পর্যায় থেকে।

এনটিআরসিএ থেকেও এ তালিকা সংগ্রহ করে মাউশি এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। স্কুল ও মাদ্রাসা মিলে সর্বমোট ৬৫০ জন শিক্ষকের তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাউশিতে জমা হয়। গত ৯ জুন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের এক ভার্চুয়াল সভায় আইসিটি বিষয়ের শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির সমস্যাটি দ্রুত সমাধানের সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সভায় কষ্টে থাকা এসব শিক্ষকের গত অর্থবছর থেকে এমপিওভুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের এ নির্দেশের এক মাস পেরিয়ে গেলেও বিষয়টির সুরাহার উদ্যোগ নিচ্ছে না মাউশির কর্মকর্তারা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৬ সালে এনটিআরসিএ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের জন্য ই-রিকুইজিশনের মাধ্যমে নিবন্ধনধারীদের কাছ থেকে আবেদন নেয়।

সহকারী শিক্ষক কম্পিউটার শিক্ষার জন্য যোগ্যতা চাওয়া হয়েছিল স্নাতকসহ ছয় মাস মেয়াদি ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণ। এ যোগ্যতায় আবেদন প্রক্রিয়া দু'দিন চলার পর হঠাৎ করেই কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই এ যোগ্যতা বাতিল করে আবেদন প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয় এনটিআরসিএ।

কয়েকজন নিয়োগপ্রত্যাশী মো. কাজী সাইফ উদ্দিন মোস্তাকের নেতৃত্বে তাৎক্ষণিক এ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ চেয়ে উচ্চ আদালতে দুটি রিট পিটিশন দাখিল করেন (রিট নং ৯৭৭৭/২০১৬ এবং ৯৭৯০/২০১৬)। আদালতের আদেশে শুধুমাত্র কম্পিউটার শিক্ষা বিষয়ের আবেদনের জন্য অতিরিক্ত ছয় দিন সময় বৃদ্ধি করে এনটিআরসিএ।

রিট পিটশনটি আদালতে চলমান থাকায় শুধু কম্পিউটার বিষয়ের নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ রেখে অন্যান্য বিষয়ের সব নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। আবেদন প্রক্রিয়ায় অযোগ্য ঘোষিত হলে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেন সিলেটের এক আবেদন প্রত্যাশী। এ রিট পিটিশনটি আদালত শুনানি শেষে এনটিআরসিএকে নিয়োগ প্রত্যাশীদের আবেদন করার সুযোগ দিতে নির্দেশ দেন।

আদালতের নির্দেশে এনটিআরসিএ শুধু সহকারী শিক্ষক (আইসিটি) পদের আবেদন করার সুযোগ দেয় এবং স্বাভাবিক সময়সীমার শেষেও ছয় দিন সময় বৃদ্ধি করে। অন্য বিষয়ের ফল প্রকাশ করা হলেও রিট পিটিশন চলমান থাকায় সহকারী শিক্ষক (আইসিটি) পদের ফল তখন প্রকাশ করা হয়নি। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত এই পদে নিয়োগ শুরু করার রায় দেন। এ রায়ের বিপক্ষে এনটিআরসিএ আপিল করে।

একাধিক শুনানির পর এনটিআরসিএর আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে আদালত পূর্বের রায় বহাল রাখেন। চূড়ান্ত রায়ের যাবতীয় ডকুমেন্টসহ রায়ের কপি এনটিআরসিএ এবং মাউশিতে পৌঁছলে ২০১৮ সালের ২০ ডিসেম্বর সহকারী শিক্ষক (আইসিটি) পদের নিয়োগের ফল ও মেধাতালিকা প্রকাশ করে এনটিআরসিএ। এখন নিয়োগ পেলেও এমপিও পাচ্ছেন না তারা।

ঢাকা, ০৮ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআইটি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।