একজন শতবর্ষি শফির মৃত্যু ও নানান আলোচনা হেফাজত প্রধান আহমদ শফী না ফেরার দেশে, রাতেই লাশ চট্রগ্রামে..


Published: 2020-09-18 23:02:49 BdST, Updated: 2020-10-23 05:20:56 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: হেফাজত প্রধান আর নেই। হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল প্রায় ১০৪ বছর। তার দেয়া ফতোয়া, বয়ান আর নানা মুখী বাণী শুনতে আসবেন মানুষ। সরকার বিরোধী অবস্থান ছেড়ে সরকার মুখি যাত্রার যবনিকা টেনে তিনি চলে গেলেন। তার পরিচালিত মাদরাসার মহাপরিচালক পদটি বাধ্য হয়ে ছাড়তে হলো তাকে। আন্দোলন আর নানান সমালোচনা কাঁদে নিয়ে মাদরাসা ছেড়ে গিয়ে ভর্তি হন হাসপাতালে। কিন্তু মাদরাসা কিংবা তার নিজ গৃহে ফিরতে পারলেন না। চলে গেলেন আজরাইলের ডাকে সারা দিয়ে পরপারের শেষ ঠিকানায়।

জানাগেছে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আল্লামা শফীর ভাগনে তাউহীদ ও হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকা আল্লামা আহমদ শফীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিকেলে তাকে ঢাকায় এনে আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দেশের ইতিহাসে নানাভাবে আলোচিত-সমালোচিত শতবর্ষী আল্লামা আহমদ শফী দীর্ঘদিন যাবৎ বার্ধক্যজনিত দুর্বলতার পাশাপাশি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। অসুস্থতার কারণে এর আগেও দফায় দফায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়েছিল।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৯১৬ সালে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানার পাখিয়ারটিলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শাহ আহমদ শফী। তিনি হাটহাজারীর আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম এবং ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদরাসায় শিক্ষালাভ করেন। পরে আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলামে শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। দীর্ঘকাল দায়িত্ব পালনের পর গতকাল ১৭ সেপ্টেম্বর এই মাদরাসার মহাপরিচালক পদ থেকে অব্যাহতি নেন তিনি।

২০০৯ সালে আল্লামা শফী জ্যেষ্ঠ ইসলামী ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে যৌথভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি একটি বিবৃতি প্রদান করেন; যেখানে ইসলামের নামে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদী কার্যক্রমের নিন্দা জ্ঞাপন করা হয়। শাহ আহমদ শফী ২০১০ সালে হেফাজতে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর আমিরের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

আরো জানা যায়, তার লেখা বইয়ের মধ্যে রয়েছে; বাংলা ভাষায়- হক ও বাতিলের চিরন্তন দ্বন্দ্ব, ইসলামী অর্থ ব্যবস্থা, ইসলাম ও রাজনীতি, সত্যের দিকে করুন আহ্বান, সুন্নাত ও বিদ-আতের সঠিক পরিচয় এবং উর্দু ভাষায়- ফয়জুল জারি (বুখারির ব্যাখ্যা), আল-বায়ানুল ফাসিল বাইয়ানুল হক ওয়াল বাতিল, ইসলাম ও ছিয়াছাত এবং ইজহারে হাকিকাত। তবে তাকে ও তার ছেলেকে নানানমুখি আরোচনা - সমালোচনা রয়েছে বিস্তর।

রাতেই লাশ চট্রগ্রামে:

হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর জানাজার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সভায় বসেছে সংগঠনটির শুরা কমিটি। রাতেই ঢাকা থেকে তার মরদেহ চট্টগ্রামে নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাঈনুদ্দীন রুহী।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকা আল্লামা আহমদ শফীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিকেলে তাকে ঢাকায় এনে আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপরই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

ঢাকা, ১৮ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম) //এআইটি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।