দেখার কেউ নেই: মদন উপজেলা বাসষ্ট্যান্ডে অরাজকতা চলছে!


Published: 2019-05-04 22:21:39 BdST, Updated: 2019-09-15 18:20:00 BdST

এডভোকেট টিউলিপ রহমানঃ প্রকাশ্যে ঘোষনা দিয়ে দিনের পর দিন নির্বিঘ্নে সন্ত্রাসী কর্ম পরিচালনা করতে পারার একটা মনোরম একটা দৃশ্য এই পথে গেলেই আপনি দেখতে পাবেন। খোদ জেলার এসপি ও জেলা প্রশাসক মহোদয়ও অবগত আছেন বলে অনেকেই মনে করেন। কোন সমধান নাই। আপনি একটি মৃত্যুপথ যাত্রী নিয়ে অথবা খুব একটা জরুরী প্রয়োজনে সি এন অটোরিক্সা করে এই পথে যাবেন? লাঠি হাতে দন্ডায়মান একদল যুবক আপনাদের দিকে তেড়ে আসবে , "এই তোর কত্ত সাহস? তুই জানসনা এই পথে সি এন জি অটোরিক্সা চলা নিষেধ যে?

যাত্রী বেচারা অনুরোধ করলো, "ভাই আমার মা খুব অসুস্থ! আমি ড্রাইভাররে বইলা কইয়া নিয়া আসছি। একটু ছাইরা দেন। ড্রাইভারের কোন দোষ নাই। " বীরের দল এইবার যাত্রীর উপর চড়াও হল "এই মিয়া তুমি কথা কও কেরে? " এরপর শুরু হয় অকথ্য গালাগাল।" কুত্তার বাচ্চা, শুয়ারের বাচ্চা। তোরে জন্মের শিক্ষা দিয়া দেই। কদ্দুচ্ছা কই? রড লইয়া আয়! "আরেক মাস্তান চোখা ধারালো এক রড নিয়ে এসে এক এক করে মুহুর্তেই অসহায় গরীব অটোরিক্সা চালকের শেষ সম্বল অটোগাড়ীর তিন তিনটা চাকাই তার চোখের সামনে ফুটো
করে দিল। ড্রাইভার অসহায় চেয়ে রইলো।

এই রাস্তা দিয়ে সিএন জি চালিত কোন রিক্সা ওরা চলতে দিবে না। সে যেই হোক। রাস্তায় মাঝখানে চেয়ার পেতে বসে আছে অস্ত্রধারী মাস্তান। ওদের ভয়ে কোন সি এন জি চালককে এই রাস্তায় আপনি আনতে পারবেন না। একটা বাসের জন্য আপনাকে তিন ঘন্টা অপেক্ষা করতে হলেও আপনাকে তাতেই যেতে হবে। আপনার প্রিয়জন অসুস্থ? বাড়ীতে আপনার জরুরী প্রয়োজন? আধাঘন্টার পথ, প্রয়োজনে রাস্তায় আপনাকে পাচ ঘন্টা অপেক্ষা করতে হবে কিন্তু বিকল্প কোন যানে আপনাকে ওরা যেতে দেবেনা।

বিকল্প যানে গেলে যদি ওদের বাসের পেসেন্জার কমে যায়? ভূল করেও যদি কোন ড্রাইভার তার গাড়ী নিয়ে মদন রোডে ঢুকে পড়ে তাকে সহ পেসেঞ্জারকে চরম নাজেহাল হয়ে ফিরতে হয়। বেচারা ড্রাইভারদের ওরা কান ধরে উঠবস পর্যন্ত করায়। আপনি একজন স্বাধীন সচেতন মানুষ হিসাবে যদি প্রতিবাদ করেন? যদি বলেন "এই রাজপথ তো জনগনের, জনগনের ট্যাক্সের টাকায়, জনগনের চলাচলের জন্য তৈরী করা হয়েছে।

আপনাদের বাধা দেওয়ার তো অধিকার নাই। " আপনি আপনার ইজ্জত নিয়ে ফিরতে পারবেন না। এমন অরাজক অবস্থা আরো কোথাও আছে কি না জানিনা। জেলা প্রশাসক মহোদয়কে সার্বিক অবস্থা জানিয়ে দরখাস্ত দেওয়া হয়েছে। আমরা চার পাচঁজন আইনজীবী ভুক্তভোগী যাত্রীসাধারনের পক্ষে সার্বিক বিষয়টা তুলে ধরেছি। জেলা প্রশাসক মহোদয়ের
বক্তব্য আমাদের হতাশ করেছে। মনে হল তিনিও অপারগ।

কোথায় যেন বাধাঁ! কিন্তু কার বাধাঁ? প্রভাবশালী বাস মালীকদের? তারাঁ কি এতই প্রভাবশালী? মাসের পর মাস বছরের পর বছর একটা রাজপথ অবরোধ করে রাখবে একটা কায়েমী স্বার্থবাদী গোষ্টীর স্বার্থে? কে দেবে জবাব? নির্যাতিত ড্রাইভার কার কাছে চাইবে তাদের অপমানের বিচার ? কার কাছে চাইবে তার কষ্টার্জিত সম্পদের ক্ষতিপূরন?

এসব এখন কে দেখবে। কে দেবে এর সমাধান।

ঢাকা, ০৪ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।