সমাজটা কোথায় যাচ্ছে?


Published: 2019-06-30 16:18:00 BdST, Updated: 2019-09-15 18:34:28 BdST

শফিকুল ইসলামঃ বরগুনায় প্রকাশ্যে দিবালোকে ধারালো অস্ত্রে দিয়ে কুপিয়ে রিফাত নামে এক যুবককে হত্যার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদ ও ক্ষোভ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই নৃশংস দৃশ্য চোখের সামনে আসলে এরকম প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিক। গত এক সপ্তাহে প্রায় ২২ টি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।যার মধ্যে নিখোজ হওয়ার পর খুলনায় একযুবকের হাত, পা, মাথা, শরীর সব টুকরো টুকরো করা ছিন্ন বিচ্ছিন্ন পাওয়া গেছে।

বর্তমান বাংলাদেশের দিকে তাকালে দেখতে পাই পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং শিক্ষাঙ্গনসহ সর্বক্ষেত্রে এক অস্থিরতা।পত্রিকা পাতা খুললেই চোখে পড়ে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন, স্ত্রীর গরম তেল নিক্ষেপে স্বামী নিহত, ছেলে-মেয়ের ঈদের জামা কিনে দিতে না পারায় কৃষকের আত্মহত্যা, প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় স্কুল ছাত্রীকে ছুরিকাঘাত, শিক্ষকের হাতে ছাত্রী ধর্ষন, প্রমিকার হাতে প্রেমিক খুন, প্রেমিকের হাতে প্রেমিকা খুন, ভাইয়ের হাতে ভাই খুন, ছেলের হাতে মা খুন, পুত্রের হাতে পিতা খুন ইত্যাদি ইত্যাদি। বিশেষ করে শিশু ধর্ষণ আর নারী নির্যাতনের খবর শীর্ষে।

কেন এমন হচ্ছে? ঘরে-বাইরে, পথে ঘাটে অফিস, স্কুল-কলেজ কোথাও কেউ নিরাপদ নয়। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও হত্যাকান্ড হচ্ছে, নারীরা নিগ্রহের শিকার হচ্ছে, শিশু ধর্ষন যেন এখন ছোঁয়াচে রোগ হয়ে গেছে। কোন সমাজ বিজ্ঞানী নিবিড় ভাবে সমাজের অবক্ষয়ের এই দূরাবস্থা পর্যবেক্ষন করলে দু’চোখে কেবল অন্ধকারই দেখবেন।

রিফাতের ঘটনায় হাইকোর্ট উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে "সমাজটা কোথায় যাচ্ছে? বাংলাদেশের মানুষতো এমন ছিলনা?" আসলে এই প্রশ্ন শুধু হাইকোর্টের না। প্রতিটা সচেতন নাগরিকের মনের জিজ্ঞাসই যেন হাইকোর্টের কথায় উঠে এসেছে। হঠাৎ করেই যেন অপরাধ প্রবনতা বেড়ে গিয়েছে। কিন্তু এটি একটি বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটও হতে পারে। ভীতসন্ত্রস্ত, অশান্তি ও অস্থিরতা বাড়ছে পুরো পৃথিবী জুড়ে। নৈতিক মূল্যবোধগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। ফলে

পারিবারিক কলহ, নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, খুন, আত্মহত্যা, অবাধ যৌনাচার, অশ্লীলতা, পরকিয়া ইত্যাদি সমাজকে নিয়ে যাচ্ছে অবক্ষয়ের দ্ধারপ্রান্তে। সোস্যাল মিডিয়া ফেইসবুক, ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়া ও প্রিন্ট

মিডিয়ার খবরের প্রায় ৫০% খবরই সমাজিক অবক্ষয়ের। যেখানে নৈতিকতা অনুপস্থিত সেখানে সামাজিক অবক্ষয় সবচেয়ে বেশী। দেশের সর্বাঙ্গে আজ নৈতিকতার অনুপস্থিতির কারণে এ অবক্ষয় দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বর্তমানে দেশের নতুন প্রজন্মের বেশিরভাগই শিক্ষিত ডিগ্রিধারী।বাংলাদেশে শিক্ষার হার ৭০ শতাংসেরও বেশী। সিংহভাগ নাগরিক শিক্ষিত হওয়ার পরে এত সামাজিক অবক্ষয় কেন? আমরা কি শুধুই ডিগ্রিধারী হচ্ছি ? তা নাহলে আমাদের মন, মগজ, চিন্তা, চেতনা, বোধ, বিশ্বাস, সামাজিক আচার- আচরনে শিক্ষার পজিটিভ ফিডব্যাক কোথায়?

বঙ্গবন্ধু স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু সেই সোনার বাংলা বিনির্মানে আগে চাই সোনার মানুষ। কিন্তু সেই মানুষগুলো কোথায়? একটা গল্প আছে, এক লোক দিবালোকে মোমবাতি জ্বালিয়ে ঘুরতো। দিনের বেলা কেন এমন বাতি জ্বালিয়ে ঘুরছো? কেউ জিজ্ঞাস করলে বলতো মানুষ খুঁজছি। তিনি হয়তো এমন সোনার মানুষগুলোকে খুঁজতেন যাদের কর্মফলে পরিবর্ত হবে সমাজ, দেশ ও দশের। শান্তি ফিরে আসবে সর্বত্র। কোথাও কোন অরাজকতা, নৈরাজ্য, খুন, ধর্ষণ, হত্যা, নির্যাতন, নিপীড়ন থাকবে না।

বাংলাদেশের বর্তমান সামাজিক অবক্ষয় থেকে মুক্তির উপায় বের করার জন্য উচ্চতর গবেষণা জরিপ ও পর্যবেক্ষণ করার এখনি সময়। কি কি কারণে সামাজিক অবক্ষয় ঘটছে? কারা এর জন্য দায়ী? কি উপায়ে এর প্রতিকার সম্ভব? এ বিষয়ে প্রথমে রাষ্ট্রের কর্ণধাদের এগিয়ে আসতে হবে, পাশাপাশি সচেতন নাগরিকদেরও এগিয়ে আসতে হবে।

আমাদের জনসংখ্যার সিংহভাগই তরুণ। তাদের চিন্তা, চেতনা, মূল্যবোধে দেশপ্রেম ও সম-অধিকারবোধ প্রচ্ছন্নভাবে নিহিত।তবে সচেতনভাবে প্রায়ই তা বিকশিত হয় না। ভিন্নভাবে সামাজিকীকরণের কারণে কতিপয় পথভ্রষ্ট সন্ত্রাসী তরুণ যাতে তাদের সাম্যবোধ ও অন্তর্নিহিত বিশ্বাসকে ধূলিসাৎ না করতে পারে, এ জন্য তরুণ সমাজকে তৎপর, উদ্যমী ও সংগঠিত হতে হবে।

লেখক,
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষার্থী,রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা, ৩০ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//অরএইচ

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।