রাজনীতি ভিত্তিক ধর্ম নিষিদ্ধ করবে কে?


Published: 2019-10-03 16:12:53 BdST, Updated: 2019-10-20 22:08:44 BdST

মোহাম্মদ আবদুল্লাহ মজুমদারঃ কোনটি চালু হবে, আর কোনটি নিষিদ্ধ হবে। সেটা নির্ধারণের দায়িত্ব তো ডাকসু বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে দেয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় হলো শিক্ষা ও মুক্তবুদ্ধি চর্চার অঙ্গন। যতো জ্ঞান আর মতবাদ আছে তার চর্চা হবে, গবেষণা হবে।

তর্ক-বিতর্ক, সেমিনারের মাধ্যমে ভবিষ্যত প্রজন্ম সেখান থেকে তাদের পথ খুঁজে নিবে। ডাকসুর দাবি হওয়া উচিত ছিলো, এখানে সকল রাজনীতি ও মত-পথ উম্মুক্ত থাকতে হবে। স্বাধীন ভাবে সবাই সবার নীতি চর্চা করবে। কেউ কারও ওপর জোর খাটাবে না।

একে অপরের স্বাধীনতা ও মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে। কেউ কারও বিরোধিতা করলে তাতে যুক্তি ও ভক্তির নির্যাস থাকবে।

ধর্মীয় রাজনীতি একটি বিশেষ প্রক্রিয়া। সাধারনত ধর্মপ্রাণ, যারা ধর্মের আচার আচরণে প্রতিশ্রুতিশীল তারাই ধর্মীয় সংগঠনে সম্পৃক্ত হয়। এটি যার যার ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগই বিশেষায়িত। যারা পদার্থ পড়তে চান তারা কেবল সে বিভাগে ভর্তি হবেন। একই রকম ভাবে যিনি আরবি, ইসলামিক স্টাডিজ বা পালি, সংস্কৃতি পড়তে চান তিনি নিজ নিজ পছন্দসই বিভাগে যোগ্যতানুযায়ী ভর্তি হয়ে অধ্যয়ন করবেন।

এমন বিশেষ জ্ঞানচর্চা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৌলিক নীতি। আবার সকল শিক্ষার্থীর জন্য সামগ্রিক কিছু প্ল্যাটফরম আছে যা সবার জন্য উম্মুক্ত। যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রক্টরিয়াল বিভাগ, সিনেট, সিন্ডিকেট, গ্রন্থাগার, খেলার মাঠ, জিমনেসিয়াম, ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তন ইত্যাদি।

ছাত্র সংসদ তো তেমন একটি সামগ্রিক জায়গা। তাই ডাকসুর উচিত সকলের স্বার্থ নিয়ে কথা বলা ও সংরক্ষণ করা। মনে রাখতে হবে যার যার ধর্ম পালন করা যেমনি একটি মৌলিক অধিকার তেমনি নিজ ধর্ম অনুযায়ী রাজনীতি করাও একটি মৌলিক অধিকার।

ধর্মীয় রাজনীতি যতোটা সমস্যা তার চাইতে বেশি সমস্যা আমাদের বুদ্ধি, বোধ, আচরণ ও ধর্ম সম্পর্কে সঠিক উপলব্ধির। কারণ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটিকে সামগ্রিকভাবে হাজির করা যায়না। একটি ধর্মীয় রাজনৈতিক সংগঠন যতক্ষণ বিশেষ থাকে ততক্ষণ ঠিক আছে।

যখনই সে সামগ্রিক হতে চায় তখন ধর্মীয় নীতির সাথে তার কর্মসূচির বিরোধ তৈরি হয়। একটি ধর্মীয় রাজনৈতিক দল তখন খেলার মাঠে জায়েজ-নাজায়েজ দ্বন্ধে পড়ে। লাইব্রেরিতে, অডিটরিয়ামে, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের মত সামগ্রিক জায়গায় তাকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। বিষয়গুলো হৃদয় দিয়ে বোঝার বিষয়। আবেগ বা ফতোয়ার মতো পেশীশক্তি প্রয়োগের বিষয় নয়।

আর ইসলামি রাজনীতির কথা বলছেন, বিষয়টি আরো হাস্যোকর। এটি কি ধর্মীয় রাজনীতি। ইসলাম একটি ধর্মের নাম অবশ্যই। তবে একটি রাজনৈতিক মতবাদের নামও কিন্তু ইসলাম। ইসলামি রাজনীতির প্রাণপুরুষ মোহাম্মদ একজন রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন।

পৃথিবীর প্রথম লিখিত সংবিধান তিনিই তৈরি করেছিলেন। ইসলামি রাজনীতি ধর্ম থেকে আলাদা। এর চর্চার জায়গাও ভিন্ন। অমুসলিম হয়েও ইসলামি রাজনৈতিক মতবাদকে ধারণ করে, মোহাম্মদকে আদর্শিক নেতা হিসেবে গ্রহন করে আপনি রাজনীতি করতে পারেন। এখানে কে কি রাজনীতি করবে যার যার বিষয়।

আমরা যা চাই তা হলো, আমাদের অর্থনৈতিক মুক্তি, দারিদ্র বিমোচন, রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুষম বন্টন, ক্যাম্পাসগুলোতে শিক্ষার পরিবেশ, বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি,হলগুলোতে দলীয় প্রভুত্ব কায়েম বন্ধ করা, মানুষ গড়ার মতো একটি শিক্ষাব্যবস্থা, সকল স্তরের শিক্ষার্থীর সমান অধিকার, এসবকিছু।

যেখানকার সবকিছু আপাদমস্তক দুর্নীতি, লুটপাট ও পেশীশক্তির ছায়ায় অবনমিত সেখানে রাজনীতি নিয়ে বিশদ বিশ্লেষন তো খুবই অবান্তর।

ইসলামে শুকরের মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ। এটি ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞা, রাজনৈতিক নয়। রাজনীতির সময় আপনি শুকরের মাংস খেয়েও ইসলামকে রাজনৈতিক আদর্শ হিসেবে গ্রহন করতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে ইসলামের রাজনৈতিক মতবাদ গুলোর কোনটিতে কারো আপত্তি থাকলে তা আলোচনা করা যেতে পারে।

তবে ইসলামেও রাজনীতি আর ধর্ম সম্পূর্ণ আলাদা। এখন বিষয়টি উপলব্ধি করার ক্ষমতা থাকাটাই বিষয়।

পৃথিবীর কোথাও ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নেই। বরং আমাদের দেশে রাজনীতি ভিত্তিক যে ধর্মচর্চা হয় সেটি বন্ধ করা দরকার। যখন ধর্মকে ব্যবহার করে মূমুর্ষূ রাজনীতিতে প্রাণের সঞ্চার করা হয় এসব মানুষকে সবচেয়ে বেশি ধর্মীয় বিভ্রান্তিতে ফেলে।

প্রতিশ্রুতির ঝুলি নিয়ে মসজিদ, মন্দির, গীর্জা ও প্যাগোডা গুলোকে পদদলিত করা হয়, নির্বাচনের আগের মসজিদ, মন্দির, টুপি, হিজাব, সিদুর কোন কিছু অনুশীলন করতে আমাদের বাকি থাকে না সেটি বন্ধ করা দরকার। উদ্যোগ নেয়া দরকার সে ব্যপারে। ডাকসু বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কি রাজনীতি ভিত্তিক ধর্মচর্চা বন্ধ করতে পারে?

ঢাকা, ০৩ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।