‘ধর্ষকরা নিরাপদ মনে করছে নিজেকে’


Published: 2020-01-13 04:06:45 BdST, Updated: 2020-04-03 01:53:14 BdST

‌‌ ‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌লাইভ প্রতিবেদকঃ ২০১৮ সালের চেয়ে ২০১৯ সালে ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। ধর্ষণের ঘটনা কী হঠাৎ করে বেড়ে গেলো, না এটাই সাধারণ চিত্র? এছাড়াও, ধর্ষক বা অপরাধী ধরার পরে কেনো এতো বিভ্রান্তি, সন্দেহ? মানুষ কেনো বিশ্বাস করতে চান না? শুধু সাম্প্রতিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ঘটনার ক্ষেত্রেই নয়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এরকম দেখা যায়। সরকার বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যা বলে মানুষ ভেবে নেয় অন্যকিছু? এমন প্রেক্ষাপট তৈরি হলো কেনো?

এ বিষয়ে আজ (১২ জানুয়ারি) দ্য ডেইলি স্টার অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, ঢাবি সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সাদেকা হালিম এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান।

মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলছিলেন, ধর্ষণের ঘটনা হঠাৎ করে বেড়েছে তা নয়, ২০১৮ সালে ধর্ষণের অনেক ঘটনা ঘটেছে। এ বছর আমরা যে পরিসংখ্যান পেয়েছি তাতে দেখা যাচ্ছে যে ২০১৯ সালে তা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এটি বেড়েছে এ কারণে যে, যারা অপরাধ করছে তাদেরকে কোনো ধরনের জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে না। অপরাধ করার পর অপরাধীর মনে যে ভয় সৃষ্টি হবে, তেমন অবস্থা আমরা সামাজিক-সাংস্কৃতিকভাবে সৃষ্টি করতে পারিনি।

আমাদের সমাজে যদিও নারীর ক্ষমতায়ন কিছু কিছু ক্ষেত্রে হয়েছে, কিন্তু, পারিবারিক প্রেক্ষাপটে নারীর ক্ষমতায়ন সেভাবে হয়নি। আর্থ-সামাজিক-সাংস্কৃতিক কারণে নারী ‘ইজি টার্গেট’ হয়ে গেছে।

আরেকটি ব্যাপার খুবই লক্ষণীয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে এখনো প্রায় ৩৩ শতাংশ যুবক হয় বেকার, নয়তো খণ্ডকালীন কাজে রয়েছে। এতো সংখ্যক জনগোষ্ঠীর হাতে যদি কোনো কাজ না থাকে তাহলে...।

মহল্লায় কোনো লাইব্রেরির কালচার নেই, ক্লাবগুলো ‘করাপ্ট’ হয়ে গেছে, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কোনো সাংগঠনিক চিন্তা নেই। এখন তাদের হাতে শুধু মোবাইল ফোন। এটি তাদেরকে অপরাধপ্রবণ করে তুলছে। সেই প্রবণতা রোধ করতে সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিষয়টির ওপর জোর দিতে চাই। শুধু শাস্তি দিয়ে অপরাধ কমানো যায় না। সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিষয়টির ওপর রাষ্ট্র মনোযোগ দেয়নি।

ধর্ষক বা অপরাধী ধরার পরে কেনো এতো বিভ্রান্তি, সন্দেহ? মানুষ কেনো বিশ্বাস করতে চান না? শুধু এই ঘটনার ক্ষেত্রেই নয়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এরকম দেখা যায়। সরকার বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যা বলে মানুষ ভেবে নেয় অন্যকিছু? এমন প্রেক্ষাপট তৈরি হলো কেনো?

এমন প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে, কারণ- অতীতে আমরা দেখেছি, অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী খুব তড়িঘড়ি করে এমন কিছু করেছে যা তাদের করার কথা নয়। এছাড়াও, বিচারব্যবস্থা খুবই ‘পলিটিসাইইড’ হয়ে গেছে।... মানুষের ‘ফেইথ’ থাকছে না। এর ফলে এমন হয়েছে যে, তারা যখন দাবি করছেন, তারা ঠিক কাজটি করছেন, তখনও মানুষ তা পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছেন না। আমরা জজ মিয়ার কাহিনি দেখেছি। কিছুদিন আগে রাইসার হত্যাকাণ্ডের ঘটনা দেখেছি। আবার অন্যদিকে দেখা যাচ্ছে যে অপরাধীর কোনো বিচারই হচ্ছে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলছিলেন, আসলে ধর্ষণের ঘটনা সবসময়ই ছিলো। তা বেড়েছে না কী কমেছে, তা নির্ভর করছে মিডিয়া এ নিয়ে কীভাবে রিপোর্ট করছে। আমার দৃষ্টিতে ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার তিনটি কারণ রয়েছে।

এক. ধর্ষণের কোনো বিচার হয় না। এটি খুব জটিল প্রক্রিয়া। অনেকে সাহস পান না। লোকলজ্জার ভয়ে থাকেন। আর এসব উৎরিয়ে বিচারের দ্বারস্থ হলেও ধর্ষণের যে বিচার হয় না, তা আমরা সব সময় দেখে আসছি।

দুই. ইন্টারনেট সংযোগের ফলে পর্নোগ্রাফিক সাইটগুলো এতো সহজলভ্য হয়ে গেছে যে স্কুলের বাচ্চারাও সেসব দেখছে। এগুলো স্বাভাবিকভাবে তাদের মধ্যে কুপ্রবৃত্তি উস্কে দিচ্ছে।

তিন. মেয়েদের সুরক্ষা দিতে আমরা ব্যর্থ হচ্ছি। শুধু সরকারই নয়, আমাদের সমাজও তাদের সুরক্ষা দিতে পারেনি। কোনো মেয়েকে যখন অপদস্থ করা হয়, তখন আশেপাশের মানুষরা এর প্রতিবাদ করে না। সবাই প্রতিবাদ করলে, উঠে দাঁড়ালে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না।

এই তিনটিকে আমি প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করছি।

প্রত্যেক সমাজে সামাজিক নিরাপত্তা বলয় থাকে। আমাদের সমাজে তা ভেঙ্গে পড়েছে।

আমি মনে করি, আমরা আইনের শাসন সমাজে প্রতিষ্ঠা করতে পারছি না। কোনো অপরাধী যখন রাজনৈতিক আশ্রয় পায়, তখন সে বেপরোয়া হয়ে উঠে। ধরা-ছোঁয়ার বাইরে চলে যায়। তার অনুপ্রেরণায় আরও অনেকের ভেতর অপরাধপ্রবণতা বেড়ে যায়।

আমিতো দৃষ্টান্তমূলক কোনো শাস্তি দেখি না। যদি অন্তত ১০-১২টা ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হতো তাহলে মানুষ ভয় পেতো।

আরেকটি বিষয় হলো: আমাদের স্কুলগুলোতে বাচ্চাদের শুধু মুখস্থ করানো হয় আর পরীক্ষা নেওয়া হয়। শিশুদের নৈতিকতা শিখানো, তাদেরকে সমাজমনস্ক করা, বয়োবৃদ্ধ, সহপাঠীদের সম্মান করতে শেখানো- এগুলো আর দেখা যাচ্ছে না। আমরা স্কুলজীবনে এগুলো শিখেছি। আমাদের শিক্ষকরা আমাদের আচরণগত শিক্ষা দিতেন। এখনতো আর শিক্ষকরা সেই অবস্থানে নেই। আমি যদি টিউশন বাণিজ্যে নেমে যাই, তাহলে সত্য-মিথ্যার বিচার কীভাবে করি? বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে তো শুধু রাজনীতি আর রাজনীতি!

‘মা-বাবার পরেইতো শিক্ষকদের ভূমিকা আসে’... শিক্ষকরা এখন সমাজে সেই ভূমিকা পালন করছেন না, যা নৈতিকতার পক্ষে যায়। অধিকাংশ মানুষ শিক্ষকতাকে চাকরি হিসেবে নিচ্ছেন, ব্রত হিসেবে নয়। চাকরি টিকিয়ে রাখার জন্যে যা যা করা দরকার তারা তাই করছেন। স্কুল-কলেজে কর্তাদের মন জুগিয়ে চলা, বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্ষমতাসীনদের মন জুগিয়ে চলা- এসব করতে হচ্ছে শিক্ষকদের।

একজন শিক্ষক যখন টিউশনি করতে শুরু করেন তার নৈতিক স্খলন তখনই শুরু হয়ে যায়। তার পক্ষে আর ক্লাসরুমে দাঁড়িয়ে নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা শেয়ার করা সম্ভব হয়ে উঠে না।

কোনো সাংস্কৃতিক কাজে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করছেন না।

বড় সমস্যা হচ্ছে- আমাদের শিক্ষকরা আর শিক্ষক নেই। এখন শিক্ষকতা একটি চাকরি মাত্র।

এছাড়াও, পরিবারে যখন নৈতিকতার স্খলন হয়, অর্থাৎ, বাবা যখন ঘুষ খান তখন সন্তানের সামনে দাঁড়ানোর কোনো উপায় থাকে না। অথবা, মা-বাবা যদি অপরাধী ছেলেকে পুলিশের হাতে তুলে না দিয়ে থানায় গিয়ে তার পক্ষে তদবির করেন, তখন তো আর কোনো নৈতিকতা থাকে না। সেই ছেলে তো বারবার অপরাধ করবে।

ধর্ষক বা অপরাধী ধরার পর বিভ্রান্তি, সন্দেহ সৃষ্টি হচ্ছে। মানুষ কেনো বিশ্বাস করতে চান না? শুধু এই ঘটনার ক্ষেত্রেই নয়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এরকম দেখা যায়। সরকার বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যা বলে মানুষ ভেবে নেয় অন্যকিছু? এমন প্রেক্ষাপট তৈরি হলো কেনো?

সরকারের ভার্সন কেউ কোনোদিন বিশ্বাস করে না। সরকার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থেকে একটা ভার্সন বা ন্যারেটিভ তৈরি করে। সরকারের বয়ান কোনোদিনই জনগণের পক্ষে থাকে না। যখন কোনো অপরাধীকে ধরার পর দেখা যায় যে তার চাল-চুলা নেই, তখন তার বিচার হয়। আর সরকারি দলের কেউ যদি অপরাধ করে ধরা পরে তখন তার বিরুদ্ধে তেমন কিছু হয় না।

নিয়মের অভাবে বা আইনের অভাবের কারণে মানুষের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। আর এই সন্দেহে ঘি ঢালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক। এটি এখন কুচিন্তা, কুতর্কের দোকান হয়ে গেছে। গুজবের একটি চলমান কারখানা হয়ে গেছে বাংলাদেশটা। এর ফলে সত্যটাও মানুষ বিশ্বাস করতে পারছে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সাদেকা হালিম বলছিলেন, একজন নারীর প্রতি ধর্ষণ একটি চরম সহিংসতা। এখন বিভিন্ন পর্যায়ে ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। কেউ তার বেডরুমেও নিরাপদ নন। এই প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে, কারণ, আমি মনে করি, ইমিডিয়েটলি কিছু ধর্ষণের বিচার হওয়া দরকার। একটি ঘটনা নিয়ে কথা শেষ হতে না হতেই আরেকটি ঘটনা ঘটছে।

এছাড়াও, আমরা পুরুষকে নিয়ন্ত্রণ করছি না। নিয়ন্ত্রণ করছি নারীদের। স্কুল থেকেই নৈতিকতা শিক্ষা দেওয়া দরকার। বস্তি, মহল্লায়, রাস্তা-ঘাটে সচেতনতা আরও বাড়াতে হবে।

আমি মনে করি, সিভিল পুলিশিং দরকার। শুধু পুলিশ দিয়ে তা হবে না। তারা ঘটনার তদন্ত করবে। আমরা যাদেরকে আস্থাভাজন মনে করি, তারাও তো ধর্ষকরূপে অবতীর্ণ হচ্ছে।

সিভিল পুলিশিংয়ের বিষয়টি একটু ব্যাখ্যা করবেন?- সিভিল পুলিশিং হলো: আমরা যে যেখানে আছি, আমাদের যে দায়িত্ববোধ রয়েছে তা থেকে আমি অন্যদের বোঝাবো। ধর্ষণ যেহেতু একজন নারীর সম্মানের সঙ্গে জড়িত তাই এটিকে ধর্মীয়, সামাজিক, রাজনৈতিকভাবে ফিল করতে হবে।

ধর্ষক বা অপরাধী ধরার পর বিভ্রান্তি, সন্দেহ সৃষ্টি হচ্ছে। মানুষ কেনো বিশ্বাস করতে চান না? শুধু এই ঘটনার ক্ষেত্রেই নয়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এরকম দেখা যায়। সরকার বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যা বলে মানুষ ভেবে নেয় অন্যকিছু? এমন প্রেক্ষাপট তৈরি হলো কেনো?

আমি এই ঘটনাতেই লোকজনকে সন্দেহ করতে দেখেছি। আগের কোনো ঘটনায় কাউকে সন্দিহান হতে দেখিনি। আমাদের মনে একটা ধারণা তৈরি হয়েছে, যে ধর্ষক হবে সে অবশ্যই রাজনৈতিক কর্মী হবে। শারীরিকভাবে শক্তিশালী হবে। প্রভাবশালী হবে। কোনো ছিন্নমূল, উদভ্রান্ত, মাদকসেবীকে আমরা ধর্ষক হিসেবে ভাবি না।

সাম্প্রতিক ঘটনাটি আমাদের সমাজকে বেশ ধাক্কা দিয়েছে। ধর্ষক সমাজের যেকোনো স্তর থেকে উঠে আসতে পারে।

সাগর-রুনী, তনু, মিতুসহ বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর হত্যার বিচার হয়নি। এগুলোর ফলে সরকারের প্রতি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি আস্থা চলে যায়। তাই এ কারণে এবারের ধর্ষণ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান বলছিলেন, আসলে এতো নেতিবাচক ঘটনার সংবাদ টিভিতে দেখতে হয়... সরকার স্পনসরড রিপোর্ট ছাড়া আর সবই নেতিবাচক খবর। টেলিভিশনের স্ক্রলে প্রচুর সংখ্যক ধর্ষণের সংবাদ দেওয়া হচ্ছে। আমার মনে হয়, ধর্ষণের ঘটনাগুলো বেড়ে গেছে।

কতোগুলো খুবই আলোচিত ধর্ষণ ঘটনার বিচার হয়নি। ফলে ধর্ষকরা নিজেদের খুবই নিরাপদ মনে করছে। এখন একটি ট্রেন্ড হচ্ছে শিশুদের ধর্ষণ করা। নির্বাচনে অন্য প্রার্থীকে ভোট না দিলে ধর্ষণ করা হবে, শিশুর বাবার সঙ্গে বিরোধ তাই শিশুকে ধর্ষণ করা হবে, স্বামীর সঙ্গে গণ্ডগোল, তাই স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণ করা হবে।

সাম্প্রতিক ধর্ষণ ঘটনাটির কথা যদি স্মরণ করি এবং নিজেকে সেই জায়গায় দাঁড় করাই, তাহলে দেখবো- আমার সকালটা শুরু হলো কীভাবে, আর রাতটা হলো কী! মেয়েটির মাথায় তো এমন কোনো চিন্তা ছিলো না যে তার জীবনে এমন ঘটনা ঘটবে। আমরা এমন রাষ্ট্রে বসবাস করবো কেনো যেখানে আমার দিনটা ভালোভাবে শুরু হবে আর রাতে একটা পশু আমার জীবনটা নষ্ট করে দিবে!

ধর্ষক বা অপরাধী ধরার পর বিভ্রান্তি, সন্দেহ সৃষ্টি হচ্ছে। মানুষ কেনো বিশ্বাস করতে চান না? শুধু এই ঘটনার ক্ষেত্রেই নয়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এরকম দেখা যায়। সরকার বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যা বলে মানুষ ভেবে নেয় অন্যকিছু? এমন প্রেক্ষাপট তৈরি হলো কেনো?

জজ মিয়া! ‘জজ মিয়া’র কারণে মানুষের মনে এমন সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। ‘জজ মিয়া সংস্কৃতি’ থেকে আমরা বের হতে পারিনি। যথেষ্ট পরিমাণ কনফিডেন্স মানুষকে দিতে পারিনি যে ঐ ঘটনাটিই একমাত্র ছিলো।

এদেশে ক্রস ফায়ার বা প্রতিটি আইন বহির্ভূত হত্যা ঘটনার একই রকম বর্ণনা দেওয়া হয়। তা মানুষকে বিশ্বাস করতে হয়। তখন মানুষ নিজের একটা অবিশ্বাসের জায়গাও খুঁজে নেয়। যেহেতু তাকে জোর করে বিশ্বাস করানো হচ্ছে।

সৌজন্যে: ডেইলি স্টার।

ঢাকা, ১২ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।