প্রিয় ক্যাম্পাসে ফিরে যাওয়ার আকুতি!


Published: 2020-04-07 23:45:41 BdST, Updated: 2020-06-06 14:07:05 BdST

হারুন আর হিমুঃ নিস্তব্ধতায় ছেয়ে গেছে প্রিয় ক্যাস্পাস। ক্যাম্পাসের মায়া আর ভালবাসার টান যেন ক্রমেই উতলে উঠে। ছুটে যেতে ইচ্ছে করে সেই জ্ঞান-গরিমার তীর্থ ভূমিতে। প্রতিটি আবাসিক হল যেন আজ ভূতের আড্ডা খানা। ক্যাস্পাসের আনন্দমুখর স্থানগুলোতে আর কেউ ভীড় জমায় না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সকল ক্যাম্পাস কার্যত লকডাউন। মরণঘাতি করোনাভাইরাসের কড়াল গ্রাস যেন সব কিছুকে ম্লান করে দিয়েছে। কিন্তু ক্যাম্পাস পাগল চেনা মুখ গুলো আর আসছে না। দেখা হবে কবে এর নিশ্চয়তাও কেউ দিতে চাইছে না।

টিএসসিতে আড্ডা আর টুকিটাকি কথার কই ফুটে না

 

টিএসসিতে সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জমকালো আড্ডা আর টুকিটাকি কথার কই ফুটে না। টিএসসির চায়ের চুমুকে কপোত-কপোতীরা মনের অভিব্যক্তি ব্যক্ত করেনা। সবই যেন আজ লকডাউনের খাচায় বন্ধি। অডিটোরিয়ামটা জনবিরলে থুবড়ে পড়ে আছে। শত স্বপ্নপূরণের কারখানা লাইব্রেরিতে সীট রাখার জন্যে সাত সকালে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়না।

সেই লাইব্রেরিটাও আজ নিস্তব্ধতার আনন্দ নিচ্ছে। সমাজবিজ্ঞান চত্বরের সামনে আর পুরনো বন্ধুকে নিয়ে সন্ধ্যার পর আড্ডা জমেনা। কার্জন হল চত্ত্বরে আর বিকেলে ভালোবাসার গল্পগুলো চুপিসারে জমে উঠেনা। সেখানকার ঘাসগুলো জোড়া পায়ের স্পর্শ অনুভবে বেড়ে উঠছে না। যেন নিসঙ্গতায় ঢুকরে ঢুকরে কাঁদছে।

হারুন আর হিমু

 

শহিদুল্লাহ হল ও পুকুর পাড়ে আর সন্ধ্যার পর ভালোবাসার জমে থাকা গল্পের ফুলজুড়ি শুনছে না কেউ। একাকীত্বের ভারে যেন জীবন হারানোর পথে। মলচত্বরে ব্যস্ততার বিকেলগুলো প্রিয়তমার সাথে অতিবাহিত করা হয়না। হাকিম চত্বরের হালিম মুখে দিয়ে চুকিয়ে চুকিয়ে আড্ডা দেয় হয়না।

দোকানগুলোতে ময়লার স্তুপ জমে আছে। আমতলাতে সন্ধ্যার পর কাঁধে মাথা রেখে দুঃখ সুখের গল্পগুলো বলা হয়না। একে-অপরকে জড়িয়ে ধরে অশ্রুপাত করা হয়না। সুখ আর দু:খের শেয়ার হয়না। বিয়ের শেষ সপ্তাহে প্রিয়তমাকে একটু দেখার জন্যে হলের গেষ্টরুমে বসে সময় কাটানো হয়না। সবই যেন না না না।

প্রচন্ড ঘুম চোখে নিয়ে স্যারের ক্লাসের প্রথম বেঞ্চে মনোযোগী হয়ে নোট করা হয়না, শেষ বেঞ্চে বসে লেকচার শেষে ইয়েস স্যার বলার জন্যে ঘুম ভাঙ্গতে হয়না। এসাইনমেন্ট না করার কারণে ক্লাস ভর্তি বন্ধুদের সামনে স্যার-ম্যামের বকা শুনতে হয়না। শেষ বেঞ্চে বসে এটেন্ডেন্স দিয়ে পেছনের গেট দিয়ে বেড়িয়ে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়া হয়না।

ক্লান্ত দেহে বিকেলে ক্লাস থেকে বের হয়ে ভার্সিটির বাসের জন্যে মল চত্বর, ভিসিচত্বর, টিএসসি কিংবা কার্জনের দিকে দৌড়াতে হয়না। ইচ্ছে হলেই আর গ্রুপ স্টাডির নামে আড্ডা দেয়া হয়না। হঠাৎ করেই সদাপ্রস্তুত ঘুমিয়ে যাওয়ার থেকে উঠে বাইসাইকেল যোগে ক্যাস্পাস চষে বেড়ানো হয়না। বিভিন্ন ইস্যুতে সাংগঠনিক দলগুলো আর বিক্ষোভ প্রতিবাদে অপরাজেয় বাংলা কিংবা রাজু ভার্স্কযে ভিড় জমায় না।

ঘুম থেকে উঠেই ভার্সিটির বাসে করে এসে বটতলায় বন্ধুদের সাথে আড্ডা জমানো হয়না। লাইব্রেরিতে বই রেখে ডাকসু ভবনে আর ক্যারাম খেলা হয়না। ছাত্ররাজনীতির আতুড়ঘর খ্যাত মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রনেতাদের আগমনে মিছিল আর স্লোগানে মুখর হয়না। মধুর ক্যান্টিন যেন দীর্ঘ বিরতিতে হাঁফ ছেড়ে বাচঁলো।

মধুর ক্যান্টিন, মিছিল আর স্লোগানে মুখর হয়না

 

ক্যাস্পাসটা যেন একাকীত্ব বোধ করছে প্রচন্ড রকমের। চারদিকে নিস্তব্ধতায় সন্ধ্যার ক্যাস্পাসটা ভুতোরে অবস্থার রূপ নিচ্ছে। ক্যাস্পাস আমাকে দেয় আধ্যাত্মিক প্রশান্তি। এই মহামারী থেকে নিজেকে সুস্থ রাখতেই এই প্রস্থান। সবাই সুস্থ ভাবে ফিরে আসুক এই ক্যাস্পাসের বুকে। আবার জমে উঠবে সকাল সন্ধ্যার আড্ডা।

শিক্ষার্থী:
পপুলেশন সায়েন্সেস
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

ঢাকা, ০৭ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমএম//এজেড

 

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।