তথ্যের যুগে তথ্যাভাব এবং একটি প্রস্তাব


Published: 2020-04-28 15:53:19 BdST, Updated: 2020-06-03 01:50:25 BdST

শাহাদত হোসেনঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আজ থেকে প্রায় ৮৫ বছর আগে ১৯২৯ সালের মহামন্দা থেকে বের হতে ডাটাবেইজের গুরুত্ব অনুধাবন করেছিল, তাই তারা আজ বিশ্বের মোড়ল। যেকোন কাজ করার জন্য সবার আগে প্রয়োজন তথ্য। বাংলাদেশ তথ্য প্রযুক্তির মহাসড়কে অবস্থান করছে। বিটিআরসি তার ওয়েবসাইটে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মোবাইল ব্যবহারকারীর মোট সংখ্যা প্রকাশ করেছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশে মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৬ কোটি ৫৫ লাখ ৭২ হাজার। (একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত নিউজ থেকে) 2019 সালের জুন এর তথ্য হিসেবে বাংলাদেশের জনংখ্যা হলো ১৬.৫৬ কোটি। তার মানে প্রায় সকল মানুষই মোবইল ফোন ব্যবহারের আওতায় চলে এসেছে।

মোবাইল ফোনের এই একটি নাম্বার ব্যবহার করে এখন ব্যাংকিং লেনদেন সম্পন্ন হচ্ছে। জাতীয় পরিচয়পত্রের সাথে এই নাম্বারটিই হতে পারে আমাদের ডেটাবেইজের মূল শক্তি। আজ দুর্যোগের সময় খুঁজে বেড়াতে হয়, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী কারা? কিভাবে তাদের সহায়তা করা হবে? আর প্রকৃত চাহিদায় বা কত? বিষয়টি খুব সহজেই সমাধান করে ফেলা যায় এই মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে।

দেশের প্রতিটি উপজেলা কতগুলো ইউনিয়ন, আবার ইউনিয়নগুলো কতগুলো ওয়ার্ডে বিভক্ত। এসব ওয়ার্ডে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি থাকে। পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনেও এরকম ক্ষুদ্র ইউনিট এবং নির্বাচিত প্রতিনিধি আছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে রয়েছে কিছু সমাজ যার একজন প্রধান থাকেন, আমরা তাঁকে সমাজপ্রধান বা সর্দার বা মোড়ল বলে জানি।

এই ওয়ার্ড কমিশনার বা মেম্বার এবং সমাজপ্রধানের কাছে তার ওয়ার্ডের বা সমাজের সকল ব্যক্তির নাম তালিকাভুক্ত থাকে। একই আয়ে কতজন খায় তার উপর ভিত্তি করে পরিবারগুলো ভাগ করা হয়ে থাকে। এই মানুষগুলোর আয়ের উৎস এবং পরিমাণ সম্পর্কে তাঁরা খুব ভালোেভাবেই ওয়াকিবহাল।

শাহাদত হোসেন

 

মুহূর্তের মধ্যে সারাদেশের এই ওয়ার্ডভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ করে তাদের অর্থনৈতিক কাঠামোর উপর আলাদা আলাদা ভাগে ভাগ করা কঠিন কোন কাজ নয়। চলতি কতটাকা আয়ের কম হলে তারা দরিদ্র শ্রেণিভুক্ত হবে তা বের করা যায়। যেমন, বিশ্বব্যাংকের হিসাব মতে, দৈনিক ১.৯ ডলার বা ১৬১ টাকার উপরে আয় হলে সে দারিদ্র্যসীমার উপরে চলে যাবে।

সে হিসাবে ৪ জনের একটি পরিবারকে দারিদ্র্যসীমার উপরে যেতে হলে চলতি মাসিক আয় হতে হবে ১৯,৩৮০ টাকার উপরে।এই তথ্য তাদের কাছে খুব ভালো করে জানা। শুধু প্রয়োজন একটি পরিকল্পনার। এই তথ্য একবার সংগ্রহ হলে প্রতি বছর সেই তথ্য আপডেট করে কমিশনার বা মেম্বার বা সমাজপ্রধান তার উপরে জানিয়ে দিবেন।

একটি কম্পিউটার ব্যবহার করে বা কোন এ্যাপস তৈরি করে এসকল তথ্য রাখা যায়। কাজটি সোজা, কিন্তু এ কাজটি বুঝার জন্য একদল শিক্ষিত বুঝদার মেম্বার, কমিশনার বা সমাজপ্রধান দরকার, না হলে হয়ত বলে বসবে, আমরা মুখে মুখেই সব কাজ করে ফেলতে পারি, ওসব ডেটাবেজ, টেটাবেজের কি দরকার!!!!!! ধুর বলে যখন অত্যান্ত গুরত্বপূর্ণ কোনকিছুকে উড়িয়ে দেয়া হয়, তখন সে সমাজকে ভুগতে হয়, চরম মূল্য দিতে হয়।

শাহাদত হোসেন
অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, অর্থনীতি বিভাগ
লালমনিরহাট সরকারি কলেজ।

ঢাকা, ২৮ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//আরআর//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।