করোনা পরিস্থিতি, মানসিক স্বাস্থ্য এবং অভিজ্ঞতা


Published: 2020-05-09 21:37:04 BdST, Updated: 2020-06-03 23:54:22 BdST

সৈয়দ নোমান-আল-শাহারিয়ার: প্রথমেই বলে রাখা ভালো আমি কোনো ভাইরলোজিস্ট কিংবা এ সংক্রান্ত রিসার্চার নই। আমি করোনার প্রাথমিক এবং বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করার চেষ্টা করেছি মাত্র। করোনা-পূর্ববর্তী সময়ে আমার জীবন ছিলো বাউন্ডুলে,যা ইচ্ছে হতো তাই করতাম।ঘরের বাইরেই সময় কাটতো বেশি,পুরো অগোছালো এবং লাগামহীন রুটিন। হঠাৎ বাংলাদেশে করোনার প্রথম সংক্রমন ৮ই মার্চ। এর কয়েকদিন পরে ঘোষিত হলো লকডাউন। বেশ কিছুদিন রুটিনমাফিক চললাম,কিছুক্ষন পরপর করোনা আপডেট দেখতে লাগলাম।

বিভিন্ন দেশে লাশের বন্যা,করোনায় সুস্থ হয়ে আসা রোগীর নির্মম অভিজ্ঞতার বর্ণনা। সাথে ঘরবন্দী জীবন হয়ে উঠলো তিক্ততায় পরিপূর্ণ।শুরু হলো মানসিক অবস্থার লক্ষনীয় পরিবর্তন,সারাক্ষন মাথায় ঘুরপাক করতে লাগলো করোনা সংক্রান্ত বিষয়। আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এর শিক্ষা ও গবেষণা অনুষদের ছাত্র,আমার একাডেমিক কোর্স ব্যবসায় শিক্ষার অধীনে। তবুও চেষ্টা করি বিজ্ঞান এর অবাক করা তথ্যগুলো ঘাঁটাঘাঁটি করতে। মানুষ যখন কোনো কিছু নিয়ে দুশ্চিন্তা করে,তা নাকি মস্তিষ্ক সত্যি সত্যি রিফ্লেক্ট করার চেষ্টা করে। যেমন এই বুঝি জ্বর আসলো,সাথে সাথে শরীর গরম হতে শুরু করলো,গলায় কিছু একটার উপস্থিতি টের পেলাম।

দুয়ে-দুয়ে চার মেলাতে লাগলাম,তার পরিপ্রেক্ষিতে মিলতে শুরু করলো সিম্পটম।আমি আরেক জায়গায় পড়েছিলাম,যখন একটা মানুষ কোনো কিছু নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করে,তখন তার মস্তিস্কে অক্সিজেনের পরিমান কমতে থাকে;যার ফলস্বরুপ তার মৃদু শ্বাসকষ্ট অনুভূত হয়। কি সাংঘাতিক! করোনাতেও শ্বাসকষ্টের সিম্পটম আছে। এসব সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা না থাকলে যে কেউ ধরে নেবে সে করোনা আক্রান্ত। আর এসব চিন্তা সবসময় মাথায় ঘুরলে ইম্যুনিটি সিস্টেম স্বাভাবিক ভাবেই দূর্বল হয়ে পড়বে সেই ব্যক্তির।

তাই শুরু থেকেই চেয়েছিলাম যাতে করোনায় কেউ যেন কোনো ধরনের আতঙ্কিত না হয়।চারিদিকে দেখেছি করোনার নেগেটিভ নিউজে সোশ্যাল মিডিয়ার নিউজফিড সয়লাব।মানুষকে যতটুক পেরেছি সচেতন করতে এবং অনর্থক বাইরে ঘোরাঘুরি করা থেকে বিরত রাখতে চেয়েছি। এখন আমাদের দেশের দিকে তাকানো যাক। বাংলাদেশ আয়তনের বিচারে জনসংখ্যার ঘনত্ব অত্যধিক।

তাছাড়া আমাদের দেশ অর্থনীতি ও শিক্ষার হারের দিক দিয়েও উন্নত রাষ্ট্র থেকে পিছিয়ে আছে। তবুও ঘোষিত হয়েছে অনির্দিষ্টকালের লকডাউন।প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে দেশের অস্বচ্ছল অংশ যেন খাদ্যবঞ্চিত না হয় তার জন্য এগিয়ে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী এবং দেশের বিত্তবান ব্যক্তিবর্গ। অনেক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন মানুষকে ঘরে রাখতে। আমি মনে করি ত্রিশ শতাংশ হলেও নিজেকে ঘরবন্দী রেখেছে মানুষ।

কিন্তু বিভিন্ন এলাকার ঘটনা যেখানে লক্ষ-লক্ষ মানুষ কোয়ারান্টাইন ভেঙে একত্রিত হয়েছিলো,সেখানে মৃত্যুর হারও নিশ্চয় এতোদিনে সর্বোচ্চ দেখার কথা।এরকম প্রশ্ন আসতেই পারে। বাংলাদেশের মানুষ স্থানীয় আবহাওয়া,খাদ্যে ভেজাল,দূষিত বাতাস,খাদ্যাভাস সব কিছুর সাথে খাপ খাইয়ে এক ধরনের ইম্যুনিটি সিস্টেম ধরে রেখেছে।যার কারণে ধারণা করা যেতেই পারে মৃত্যুর হার অনেকটা কম।

তবে সংক্রমণের হার অত্যধিক তা সহজেই বোধগম্য হচ্ছে জনসংখ্যার ঘনত্ব,সচেতনতার অভাব ইত্যাদির কারনে। তবে এ কথা অনস্বীকার্য যে,লকডাউন সামান্য হলেও কাজে লেগেছে এক্ষেত্রে। করোনা মানেই মৃত্যু নয়। স্বাস্থ্যগত জটিলতা না থাকলে অতিসত্বর সুস্থ হওয়ার উদাহারন অহরহ। সামাজিক-শারীরিক দুরত্ব,স্বাস্থ্য-সচেতনতা এবং পজিটিভিটিই পারে করোনা-সংক্রমণ ব্যাহত করতে। স্বাস্থ্যবিধি পালন এবং রোগ প্রতিরোধ সম্পর্কে সতর্ক করা একজন সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব,এখন তা মানবিক দায়িত্বে পরিণত হয়েছে। যদি একান্ত সতর্ক করার প্রয়োজন হয় তবে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যার পাশাপাশি একটি পজেটিভ খবর ভাগাভাগি করতে পারি,যাতে মানুষ মনোবল না হারায়।

আসুন করোনাভীতি না দেখিয়ে এটি রুখতে মনোবল ও সাহস দিই এবং উদ্ভুত পরিস্থিতির দ্রুত উত্তরনে ধর্মীয় প্রার্থনা,স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি নিজের মনোবলও শক্ত রাখি এবং অপরকে যথাসাধ্য সহযোগীতা করি। অচিরেই আমরা করোনা মুক্ত পৃথিবী পাবো ইনশাআল্লাহ।

লেখক: শিক্ষার্থী
শিক্ষা ও গবেষণা অনুষদ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

ঢাকা, ০৯ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।