করোনাকালে সামাজিক সম্প্রীতি ও দূরত্ব


Published: 2020-05-22 23:02:02 BdST, Updated: 2020-11-26 21:33:26 BdST

জিসান তাসফিক: করোনাভাইরাস অন্যান্য ভাইরাসে মতই একটি ভাইরাস। অতিক্ষুদ্রাকায় একটি জীব। ভাইরাসটি দেখতে হলে শক্তিশালী ইলেকট্রনিক অনুবীক্ষন যন্ত্রের প্রয়োজন। কিন্তু কার্যক্ষমতা একটি আস্ত মানুষকে বেদনাদায়ক মৃত্যু দেয়। গড়ে প্রতি দশজনে দুথেকে তিনজনের মৃত্যুর। দেশভেদে আবারও চিকিৎসার সক্ষমতা ভেদে এর পরিসংখ্যান কমবেশি হয়।

এখন পর্যন্ত পৃথিবীর মহারথীরা এই রোগের কোনো ওষুধ কিংবা টিকা আবিষ্কার করতে পারে নি। জাতিসংঘের সুপার ফাইভ ও না। একমাত্র চিকিৎসা হল সামাজিক দুরত্ব। এটি কার্যকর করে ভিয়েতনামের মত দেশ দৃষ্টান্ত স্থাপন করে দেখিয়েছে। অবশ্যই চিন এখন আশঙ্কা মুক্ত।

এবার আসি সামাজিক সম্প্রীতি নিয়ে, সম্প্রীতি হল পারস্পরিক সুসম্পর্ক। আর সামাজিক সম্প্রীতি হল সমাজে বসবাসকারী মানুষদের মধ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক। আমাদের দেশ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ভরপুর একদেশ। প্রাচীনকাল থেকে বিভিন্ন সামাজিক অথবা ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান হয়ে আসছে।

এই অঞ্চলে আচার অনুষ্ঠানের যতটা রীতিনীতি আছে তা পৃথিবীর কোথায়ও অতটা নেই। সনাতন ধর্মের দিক দিয়ে বললে বার মাসে তের পূজা। তারপর ইসলাম ধর্ম সহ নিজস্ব কিংবা স্থানীয় অথবা জাতীয় অনুষ্ঠান আছেই।

আমাদের দেশকে বলা চলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। কিন্তু কালের বিবর্তনে আধুনিকতা এসে এগুলো থেকে আমাদেরকে সরিয়ে নিয়েছে। আমাদেরকে ঘর বন্দি করেছে। একটা সময় ছিল বন্ধু আমার অসুস্থ হলে যেতাম তাহার বাড়ি, এখন আমি ফোন করি, কাছে নাই তাহারই।

এভাবে আসা শুরু হলো সামাজিক দূরত্ব। আসলে করোনা কি আমাদের মাঝে সামাজিক দূরত্ব আসছে নাকি এমনটা হওয়ারই ছিল, করোনা শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতার রূপ নিয়েছে। করোনা পৃথিবীতে এক মাত্ররোগ নয় যেটা ছোয়াছে। আমাদের দেশে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া জনিত এমন অনেক রোগ আছে যা ছোয়াছে । তাহলে আমাদের সামাজিক সম্প্রীতি কোথায় রইল? একটা সময় যৌথ পরিবার আমাদের দেশের ঐতিহ্য ছিল।

কালের বিবর্তনে আসল একক পরিবার, এখন কিছু কিছু মুক্তমনা মানুষ ধর্মীয় দায়বদ্ধতা থেকে মুক্ত হয়ে চায় লিভটুগেদার। পিতামাতা কে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা ছিল আমাদের প্রধান কর্তব্য কিন্তু সেই বৃদ্ধ পিতা মাতাকে আমরা আজ বৃদ্ধাশ্রমে দিয়ে আসি। ঐ যে যুগ আধুনিক হয়েছে। আসলে এটাই কি আধুনিকতা ছিল? আধুনিকতা কি সামাজিক সম্প্রীতি নাকি সামাজিক দূরত্ব।

করোনার ভাইরাসের ফলে সমগ্রহ পৃথিবী জুড়ে যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্য ছিল সবই আজ বন্ধ। সবাইকে আজ গৃহ বন্ধি করা হয়েছে। শুধুমাত্র বর্তমানে যোগাযোগের জন্য ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করা হয়। করোনার ফলে পৃথিবীর যান্ত্রিকতা থেকে সাময়িক সময়ের জন্য মানুষ ঘরে ফিরেছে। পৃথিবীর চলমান যুদ্ধ বন্ধ হয়েছে। বিজ্ঞানশাস্ত্র তার সীমাবদ্ধতা উপলব্ধি করতেছে।

আশা করি করোনা ভাইরাস শীগ্রই চলে যাবে। নতুন এক পৃথিবীর ফিরে আসবে। এই নতুন পৃথিবী পুরোনো রীতিনীতি সব ভূলে এমন এক আধুনিক রীতিনীতি স্থাপন করবে যা আমাদের মধ্যে আমাদের কর্তব্য, আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের ধর্ম এবং শেষে আমাদের সামাজিক সম্প্রীতি এক নতুন অধ্যায় শুরু হবে। এমন অধ্যায় যেন সামাজিক দূরত্ব নয় বরং সামাজিক সম্প্রীতি হয়।

শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা, ২২ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআইটি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।