বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফোরাম বিবৃতি দিলেন যে কারণে


Published: 2019-08-02 20:20:05 BdST, Updated: 2019-09-22 16:50:27 BdST

লাইভ প্রতিবেদকঃ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়োগ, পদোন্নতি/পদোন্নয়ন ইত্যাদি বিষয়ে নীতিমালা তৈরির জন্য আগামী ৪ আগস্ট বিভিন্ন সচিব ও মন্ত্রীদের নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে একটা মিটং হবে। যেখানে কোনো শিক্ষক প্রতিনিধি রাখা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে, আর কোনো শিক্ষক প্রতিনিধি রাখা হবেনা এটা খুবই দুঃখজনক। বাংলাদেশের শিক্ষাকে ধ্বংস করার একটা পরিকল্পনা মনে হচ্ছে বলে দাবী করেছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফোরাম।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফোরাম (প্রস্তাবিত) একটি বিবৃতি দিয়েছেন। যেখানে ১০০১ জন শিক্ষক স্বাক্ষর করেছেন। আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের নিয়োগ, পদোন্নতি/পদোন্নয়ন সংক্রান্ত অভিন্ন নীতিমালা সম্পর্কিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ সভায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের কোন প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়নি। আমরা মনে করি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচিৎ ছিল বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় হতে বরেণ্য গবেষক ও শিক্ষাবিদদের নিয়ে প্রথমে একটি সাব-কমিটি গঠন করে একটি বৃহত্তর আঙ্গিকে সুপারিশ নেওয়া।

এই কমিটির সুপারিশমালা সামনে রেখে, শিক্ষক প্রতিনিধিসহ মন্ত্রী মহোদয় সমন্বয়কের ভূমিকায় থেকে, একটি সিদ্ধান্তে আসা যেতে পারে, যা সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য এবং প্রশংসনীয় হবে বলে আশা করা যায়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, আগামী ০৪/০৮/২০১৯ তারিখের সভায় মূলত উচ্চপদস্থ সরকারী কর্মকর্তা এবং তাদের পাশাপাশি ইউজিসি চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্যদেরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ইউজিসি চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে নিজ নিজ পদে অবস্থানের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সরাসরি প্রতিনিধিত্ব করেন না।

অতীত অভিজ্ঞতা থেকে এটি প্রতীয়মান হয় যে, অনেক ক্ষেত্রেই তাঁদের ভূমিকা সরকারী কর্মকর্তাদের মতই। অথচ, এ জাতীয় একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যুগপোযোগী, কার্যকরী এবং টেকসই সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বিশেষজ্ঞ জ্ঞান একান্তভাবে অপরিহার্য যা সঙ্গত কারণেই মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের থাকবার কথা নয়। তাঁরা নিজ নিজ বিষয়ে জ্ঞানী এবং কর্মদক্ষ। অন্য দিকে পঠন-পাঠন ও গবেষণার মত বিষয়গুলো বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষকতার সাথে জড়িত।

অত্যন্ত উঁচু মানের বিষয়জ্ঞান, বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে আধুনিক ও মৌলিক ধ্যানধারণা এবং গবেষণায় উচ্চপর্যায়ে সাফল্য ও অভিজ্ঞতা যাদের আছে তাঁদের সরাসরি অংশগ্রহণ ছাড়া এই ধরণের অতি গুরুত্বপুর্ণ একটি সভা কতটুকু সফল হতে পারে সে বিষয়ে আমরা গভীরভাবে সন্দিহান। একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি বোঝানো যেতে পারে। সরকারী কর্মচারী এবং কর্মকর্তাদের নিয়োগ, পদোন্নতি ইত্যাদি বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়নে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংশ্লিষ্ট রাখা হয় না। রাখা সমীচীনও নয়।

কিন্তু দেখা যাচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য নীতিমালা নিয়ে অনুষ্ঠিতব্য এ সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে জড়িত নন এমন কর্মকর্তাদের শুধু রাখাই হয়নি উপরন্তু তাঁরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। আমাদের বিবেচনায় বিষয়টি দৃষ্টিকটুও বটে। এমতাবস্থায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পেশাগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে উক্ত সভায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষক সম্প্রদায়ের উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব না থাকাটা অত্যন্ত রহস্যজনক এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ও প্রক্রিয়াগত ভুল বলে আমরা মনে করছি। এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের মাঝে গভীর উদ্বেগ ও অনাস্থা সৃষ্টি করেছে।

শিক্ষকরা রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যারা শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে অতুলনীয় অবদান রেখে চলছেন। আমরা আশা করব, দেশে শিক্ষা ও গবেষণার স্বার্থে এবং পাশাপাশি শিক্ষকদের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা নিরসনকল্পে উল্লিখিত সভার আগে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ নিয়ে সেই সুপারিশসহ মন্ত্রী মহোদয়ের সভাপতিত্বে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি ও ফেডারেশনের প্রতিনিধি ও ইউজিসির চেয়ারম্যান এবং সদস্যদের নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবে।

এখানে উল্লেখ্য যে বিশেষজ্ঞ সাব কমিটিতে কেবল বিভিন্ন অনুষদের বরণ্য পণ্ডিতবর্গ থাকবেন। এই বরেণ্য শিক্ষকমণ্ডলীর সুপারিশের ভিত্তিতে শিক্ষক প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনার মধ্য দিয়ে একটি যথোপযুক্ত ও ভারসাম্যপূর্ণ নীতিমালা প্রণীত হবে বলে আমরা মনে করি। সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রণীত নীতিমালা দেশের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন এবং সর্বোপরি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আন্তর্জাতিক মান অর্জনে বিশেষভাবে অবদান রাখবে।

ঢাকা, ০২ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।