ধর্ষণ: ছাত্রলীগ, যুবলীগের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের ধারাবাহিক অধ্যায় ধর্ষকদের শাস্তি দ্রুত কার্যকরের দাবিতে ইশা ছাত্রদের ৮ দফা


Published: 2020-10-15 22:13:25 BdST, Updated: 2020-11-25 08:21:14 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি দ্রুত কার্যকর করে নজির স্থাপন করতে হবে। বুঝাতে হবে ধর্ষণ করলে এই শাস্তি পেতে হবে। কেবল মাত্র আইন রচনা করলেই হবে না। শুধু আইন পাস করেই ক্ষ্ণান্ত হলে চলবে না। এমনিটি দাবী জানিয়েছে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন। বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগ চত্বরে ধর্ষণবিরোধী সমাবেশে এ দাবি জানায় সংগঠনটি। এ সময় ইশা ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি এম হাছিবুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ এক যুগ ধরে ক্ষমতায় রয়েছে।

তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দলের ছত্রচ্ছায়ায় ধর্ষণ আজ মহামারি আকার ধারণ করেছে। সরকারের নজিরবিহীন দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতি, অঙ্গসংগঠন বিশেষ করে ছাত্রলীগ, যুবলীগের আধিপত্যবাদ ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের ধারাবাহিক অধ্যায়। এভাবে ভোটবিহীন অবৈধ সরকার দেশের মধ্যে এক ক্ষমতাদানব সৃষ্টি করে রেখেছে। সমাবেশে প্রধান অতিথি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, যার ক্ষমতা আছে সে একধরনের বিচারহীনতার সুবিধা ভোগ করে। সেই সুবিধা তাকে নানা অপকর্মে প্ররোচিত করে। এর মধ্যে ধর্ষণ একটি। এর জন্য বর্তমান অবক্ষয়গ্রস্ত দলীয় রাজনীতি সবচেয়ে বেশি দায়ী। ক্ষমতার সুবিধা নিতে দলে দুর্বৃত্ত-অপরাধীরা নেতৃত্বের আসন পর্যন্ত বাগিয়ে নেয়।

যখনই কারো অপরাধের খবর ফাঁস হয়, তখন বলা হয়, সে আসলে আমাদের দলের কেউ নয় অথবা অনুপ্রবেশকারী। এটা রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব।
তিনি আরও বলেন, যে রাজনীতি মানুষকে স্বপ্ন দেখাবে, সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাবে, মানুষের পাশে থাকবে তাদের মধ্যে কেউ কেউ এখন দুর্বৃত্ত হয়ে উঠছে, খুন-ধর্ষণ-চাঁদাবাজির মতো অপরাধ করছে।

মিছিলের একাংশ

 

অপরাধীদের প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন। যে কারণে মাদক ব্যবসা, অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসা, চাঁদাবাজি, অর্থপাচার, খুন, রাহাজানির অভিযোগে তারা গ্রেফতার হন, ধর্ষণের আসামি হন। সমাবেশে তারা বলেন, বিদ্যমান ভঙ্গুর রাষ্ট্র ব্যবস্থার অধীনে আইন পাস করে ব্যভিচার ও ধর্ষণ রোধ করা সম্ভব নয়। অতএব আগে রাষ্ট্রযন্ত্র শুদ্ধিকরণের অভিযানে নামতে হবে। এজন্য বাংলাদেশের সর্বস্তরের সচেতন শিক্ষার্থী ও জনগণকে জাগতে হবে।

আট দফা সুপারিশমালা পেশ করা হয়:

১. দেশের সর্বস্তরের নারী-পুরুষদের প্রতি আহ্বান, পুরুষরা নারীকে সম্মান করুন। দৃষ্টি অবনত রাখুন ও নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করুন। অবৈধ সম্পর্ক নয় বরং বৈবাহিক বৈধ সম্পর্ক গড়ে তুলে নারীত্বের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করুন। নারীরা চালচলন ও পোশাকে শালীনতা বজায় রাখুন। দেশীয় ও মুসলিম সংস্কৃতি পরিপন্থী আচরণ পরিহার করুন। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, পরকীয়া ও প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিরত রাকুন।


২. পরিবার ও সমাজের প্রতি আহ্বান, আপনার সন্তানকে ধর্মীয় অনুশাসন ও নৈতিক মূল্যবোধ শিক্ষা দিন। সৎ সঙ্গে উৎসাহিত করুন। বিবাহবন্ধনকে সহজ করে তুলুন। যৌন, মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের বিরুদ্ধে ঘৃণা সৃষ্টি ও অপরাধীকে সামাজিকভাবে বয়কট এবং প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।

৩. শিক্ষক, ইমাম ও জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান, ব্যভিচার ও ধর্ষণ বন্ধে শিক্ষকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে, ইমামরা মসজিদ থেকে সামাজিক সচেতনতা ও জনমত গঠনে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করুন। জনপ্রতিনিধিরা ধর্ষককে আর্থিক লেনদেন, আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া থেকে বিরত থাকুন এবং নিপীড়িতকে বিচার পেতে ভূমিকা পালন করুন।

৪. বিচারক ও আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিতদের প্রতি আহ্বান, ব্যভিচার ও ধর্ষণ রোধে আইনের শাসন বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ কার্যকরী শক্তি রয়েছে আপনাদের হাতে। নিপীড়িতের প্রতি সদয় হোন এবং অপরাধীকে বিচারের মুখোমুখি করতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। ধর্ষণের মামলায় আরোপিত ফি বাতিল এবং শুধু আইনের নীতিগত অনুমোদন নয়, বরং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ও শরিয়াহ আইনের মাধ্যমে ধর্ষণের শাস্তি কার্যকর করুন।

 

৫. গণমাধ্যম ও ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান, ধর্ষণ ও ব্যভিচারে উসকানিমূলক নাটক-সিনেমা, কমিক্স ও বিজ্ঞাপন প্রদর্শনী বন্ধ করুন। অবাধ যৌনাচার, অবৈধ সম্পর্ক, পরকীয়া, লিভ টুগেদার তথা অবৈবাহিক সম্মতিসূচক যৌন সম্পর্ক ও নারীকে পণ্যরূপে উপস্থাপন থেকে বিরত থাকুন। পর্নোগ্রাফি, অশ্লীল ওয়েবসাইট, ওয়েব সিরিজ এবং ভারতীয় ও পশ্চিমাসহ ভিনদেশি অপসংস্কৃতি বিস্তার, ইতিবাচকভাবে প্রচার বন্ধ করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

৬. আইন প্রণেতাদের প্রতি ব্রিটিশ প্রবর্তিত ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৩৭২, ৩৭৩, ৩৭৫, ৩৭৬, ৪৯৭ এবং ৪৯৮ ধারাগুলো ধর্ষণের পৃষ্ঠপোষকতায় অনেকাংশে ভূমিকা পালন করে। এক্ষেত্রে এ ধারাগুলো পরিবর্তন করতে হবে এবং শরিয়াহ বোর্ডের মাধ্যমে নতুন আইন প্রণয়ন করতে হবে।

৭. সরকারের প্রতি আহ্বান, মাদক উৎপাদক, আমদানি, বৈধ অবৈধ মদের বার, নাইট ক্লাব, স্পা এবং সব পতিতালয় বন্ধ করুন।

৮. সর্বোপরি দেশের বিচারব্যবস্থা, সরকার ও বিরোধী দলের প্রতি সারাদেশে সরকারের ছত্রচ্ছায়ায় ব্যভিচার ও ধর্ষকদের উৎপাদন কারখানা বন্ধ করতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারি দল, বিরোধী দল, শিক্ষক, রাজনীতিবিদসহ দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ঐক্যবদ্ধভাবে এ মহামারি থেকে রক্ষা পেতে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। অন্যতায় সমাজ কুলষিত হয়ে যাবে।

ঢাকা, ১৫ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।