ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতরা রাজপথে, ছাত্রদলের অনেকেই বিক্ষুদ্ধ!


Published: 2019-06-14 23:05:07 BdST, Updated: 2019-08-17 19:23:36 BdST

লাইভ প্রতিবেদকঃ দুই মেরুর দুই ছাত্র সংগঠনে চলছে নানান সমস্যা। চলছে দলবাজি। চলছে দোষারোপ আর মারমুখি অবস্থান। সরকারী দলের ছাত্রলীগ ও বিএনপির ছাত্রদলের অনেক নেতা-কর্মী আছেন রাজপথে। কি হবে এই সংগঠনের সুবিধাবঞ্চিতদের। তাদের সমস্যার কি আদৌ সমাধান হবে? এই প্রশ্ন এখন সব মহলে। ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধদের আন্দোলন কোন পথে যাবে! এই প্রশ্ন এখন বিএনপিসহ অঙ্গ সংগঠনের।

জানাগেছে বয়সসীমা তুলে দিয়ে ধারাবাহিক কমিটির দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছেন ছাত্রদলের আন্দোলনরত বিলুপ্ত কমিটির একাংশের নেতারা। অন্যদিকে ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থান ও অনশন করছেন। দীর্ঘ দিনেও এর সমাধান হয়নি। আদৌ হবে কি না তাও বলা মুশকিল।

তবে একইসঙ্গে বিএনপির হাইকমান্ডের ওপরও আস্থা রাখছেন তারা। সে কারণে শনিবার থেকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ফের অবস্থান কর্মসূচি শুরু করার সিদ্ধান্ত নিলেও দলটির সিনিয়র নেতাদের আশ্বাসে আপাতত তা স্থগিত করেছেন তারা।

দাবি মানতে বিএনপির হাইকমান্ডকে আরও সময় দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিতই থাকছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বয়সের সীমা না রাখা, স্বল্পমেয়াদী কমিটি গঠনসহ তিন দফা প্রস্তাবনার ভিত্তিতে ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের দাবিতে গত মঙ্গলবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিনব্যাপী বিক্ষোভ করেন সংগঠনের বিলুপ্ত কমিটির একাংশের নেতারা।

পরে ওইদিন রাতে দাবি পূরণে সাবেক ছাত্রনেতার আশ্বাসের প্রেক্ষিতে সাময়িকভাবে আন্দোলন স্থগিত করেন আন্দোলনরতরা। জানা গেছে, নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সাথে সাক্ষাৎ করেন আন্দোলনকারীরা।

দলে নেতাদের কাছে তাদের দাবির বিষয়টি তুলে ধরে এ নিয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলার অনুরোধ জানান তারা। এ সময় বিএনপির সিনিয়র নেতারা বিষয়টি নিয়ে শনিবার স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনার পাশাপাশি তারেক রহমানের সাথেও কথা বলবেন বলে আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করার পাশাপাশি তাদের ওপর আস্থা রাখতে বলেন।

একইসঙ্গে আন্দোলনকারীদের ছাত্রদলের কমিটি গঠনে দায়িত্বপ্রাপ্ত সার্চ কমিটির সদস্যদের সাথেও যোগাযোগ করার কথা বলেন তারা। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মির্জা আব্বাসের সঙ্গে তার শাহজাহানপুরের বাসায়ও সাক্ষাৎ করেন আন্দোলনকারীরা।

এছাড়া আন্দোলনকারীরা টেলিফোনসহ নানাভাবে দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গেও কথা বলেছেন বলে জানা গেছে। জানতে চাইলে আন্দোলনকারীদের অন্যতম নেতা ও ছাত্রদলের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সহ-সভাপতি ইখতিয়ার রহমান কবির শুক্রবার রাতে বলেন, আমাদের দাবির বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার বিএনপির মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সাথে আমরা সাক্ষাৎ করেছি।

তারা আমাদেরকে আশ্বস্ত করে তাদের ওপর আস্থা রাখতে বলেছেন। তাছাড়া সার্চ কমিটির সদস্যরাও আমাদেরকে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে বলেছেন। তাদের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে আমরা আরও অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

সে কারণে আমাদের আন্দোলন কর্মসূচি আপাতত স্থগিত থাকছে। জানতে চাইলে সার্চ কমিটির একজন সদস্য বলেন, নিয়মিত ছাত্রদের দিয়ে ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের গৃহীত পদক্ষেপ যৌক্তিক। আবার আন্দোলন-সংগ্রামে বিলুপ্ত কমিটির নেতাদের অবদানও অস্বীকার করা যায় না।

আমরা এর মাঝামাঝি একটা সমাধান চেয়েছি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এখন এর সমাধান দেবেন। জানা গেছে, ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন নিয়ে হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

এজন্য বিএনপির বিভিন্ন উপ-কমিটি ও দুই অঙ্গ সংগঠন যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলে ছাত্রদলের সদ্য সাবেক নেতাদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা চলছে। গত ৩ জুন ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দেয়ার পাশাপাশি কাউন্সিলের মাধ্যমে সংগঠনটির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের ঘোষণা দেয় বিএনপি।

আর কাউন্সিলে প্রার্থী হতে ২০০০ সাল থেকে পরবর্তী যেকোনো বছরে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং অবশ্যই বাংলাদেশের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী হওয়াসহ তিনটি শর্ত নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। এখন দেখার বিষয় এই দাবী মেনে নেয়া হবে কি মেনে নেবেনা।

ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতরা রাজপথেঃ
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে ঈদ করেছেন ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতরা। ৩০১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে বঞ্চিতদের পদায়নের দাবিতে ১৩তম দিনের মতো শুক্রবার তারা অবস্থান করেন। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও তারা টানা অবস্থান করছেন।

এ সময় আওয়ামী লীগের কোনো নেতা বা ছাত্রলীগের শীর্ষ কোনো নেতা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। ১৩ মে ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর প্রায় এক মাস অতিবাহিত হলেও বিতর্কিতদের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

প্রথম দফায় ১৭ জন বিতর্কিতের নাম ঘোষণা করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েও তা করা হয়নি। দ্বিতীয় দফায় ২৮ মে রাত ১টায় ১৯টি পদ শূন্য ঘোষণা করলেও তা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। কারণ এ ১৯ জনের নাম বা পদ প্রকাশ হয়নি।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সদ্য বিদায়ী কমিটির কর্মসূচি ও পরিকল্পনাবিষয়ক সম্পাদক রাকিব হোসেন বলেন, বিতর্কিতদের বাদ দেয়া নিয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বারবার যে নাটক জন্ম দিয়েছেন এর মাধ্যমে নেতাকর্মীদের মধ্যে তাদের নিয়ে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।

আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, নেত্রীর (শেখ হাসিনা) নির্দেশনা অনুযায়ী অন্যায়-অপকর্মে জড়িত ও বিতর্কিতদের সংগঠন থেকে বাদ দিতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

 

ঢাকা, ১৪ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।