বাজেটে শিক্ষাখাতে ১৮ শতাংশ বরাদ্দের দাবীতে মানববন্ধন


Published: 2020-05-16 17:54:52 BdST, Updated: 2020-06-03 16:28:51 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: আসন্ন বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি সহ চারদফা দাবিতে সারাদেশে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষাখাতে ১৮ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে ও আগামী তিন বছরের মধ্যে ক্রমান্বয়ে ২৫ শতাংশে উন্নিতকরণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

এছাড়াও আসন্ন বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, করোনা ভাইরাস সংকটকালীন সময়ে বেসকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সেমিস্টারের টিউশন ফি বাতিল এবং শিক্ষার্থীদের মেসভাড়া মওকুফের দাবি জানিয়েছে তারা।

শনিবার সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্য, জাতীয় প্রেসক্লাব, সিলেট, মৌলভীবাজার, শরিয়তপুর, রাজবাড়ী, বরিশাল, ময়মনসিংহ(গৌরিপুর), পিরোজপুর(ভান্ডারিয়া), চট্টগ্রাম, সুনামগঞ্জসহ সারাদেশের বিভিন্ন জেলায় এই কর্মসূচী পালন করা হয়।

এ সম্পর্কে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল বলেন, “করোনা ভাইরাসের এই মহামারীর সময় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হওয়ার কথা ছিল মহামারী মোকাবেলার মূলকেন্দ্র। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সাথে সাথেই প্রতিবেশী ভারত, পাকিস্তানসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো করোনা ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স, প্রতিষেধক নিয়ে কাজ করতে শুরু করেছে।

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ল্যাবে তখন ধূলোর আস্তরণ আরো পুরু হয়েছে। দেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো সেই অর্থে কেবলমাত্র চাহিদার তুলনায় অল্প সংখ্যক টেস্ট করার মধ্যেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রেখেছে। অথচ বিল গেটস ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে সিএইচআরএফ নামক প্রতিষ্ঠানে করোনা ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স উন্মোচিত করেছে বাংলাদেশী দুই বিজ্ঞানী সমির সাহা ও সেঁজুতি সাহা। তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সরকারি সাধারণ ছুটির শীতনিদ্রার আড়মোড়া ভাঙ্গার চেষ্টা করছে। এর মূল কারণ, আমরা বিশ্ববিদ্যালগুলোকে মূলত চাকুরী প্রাপ্তির কুপন প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবেই তৈরি করেছি।

বিশ্ববিদ্যালয় ধারণার সাথে যে গবেষণাখাত ওতপ্রোতভাবে জড়িত তার গুরুত্ব অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ সরকার। করোনা প্রতিরোধে সরকারের ব্যর্থতা, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিষ্ক্রিয়তা শিক্ষাখাতে বাজেট বৃদ্ধির দাবির যৌক্তিকতা আরো একবার প্রমাণিত করেছে। তাই আমরা দাবি করছি, ইউনেস্কো শিক্ষাসনদে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে আসন্ন বাজেটেই শিক্ষাখাতে স্বতন্ত্রভাবে ১৮ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে, এবং ক্রমান্বয়ে আগামী তিন বছরে ২৫ শতাংশে রূপান্তরিত করতে হবে।”

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অনিক রায় বলেন, “বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের বেহাল দশা আমাদের সামনে উন্মোচিত হয়েছে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। অবিলম্বে আসন্ন বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে এবং রাষ্ট্রের প্রত্যেক নাগরিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। একইসাথে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি বাতিল এবং শিক্ষার্থীদের অর্থনৈতিক অবস্থার চিন্তা করে সকল শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়া মওকুফ করতে হবে।”

সরকারের প্রতি চার দফা দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, “মানুষ বাঁচলে অর্থনীতি বাঁচবে। ব্যবসায়ীদের স্বার্থরক্ষা করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের বিপদগ্রস্থ করলে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ। তাই সরকারকে শিক্ষা ও দেশরক্ষার পক্ষে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।”

এ সময় তারা চারদফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান।

ঢাকা, ১৬ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআইটি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।