মানবতার মৃত্যু: করোনা সন্দেহে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে পিটুনি!


Published: 2020-03-30 17:32:29 BdST, Updated: 2020-12-05 21:18:53 BdST

লাইভ প্রতিবেদকঃ করোনা সংক্রমণ রোধে যেখানে বিশ্ব সোচ্চার সেখানে বাংলাদেশে মানবতার মৃত্যু হয়েছে। করোনার চিকিৎসা না দিয়ে বাংলাদেশে ডাক্তাররা ঘরে বসে আছেন। হাসপাতালে চিকিৎসা নেই। রোগীশূন্য হয়ে গেছে। ঘরে থেকেই মারা যাচ্ছে রোগীরা।

এবার ঢাকার ধামরাইয়ে করোনা সন্দেহে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে পিটিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। এমন ঘটনা নিয়ে তোলপাড় মুরু হয়েছে। নিজে বাঁচো এমন নীতি অবলম্বন করছেন সমাজের মানুষ। তবে তাদের মাথায় এচিন্তা নেই. করোনা থেকে একা একা বাঁচা যাবে না। সচেতন না হলে সবাইকেই মরতে হবে। সচেতনতা মানে অন্যকে মেরে নিজে বাঁচা নয়।

জানা গেছে, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার এন্ড টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রিপল-ই’র (ইইই) ছাত্র মোঃ আলী আজম খান জরুরি কাজে সোমভাগ ইউনিয়ন পরিষদ বাজারে আসেন। এসময় তিনি মাস্ক পরিহিত ছিলেননা। বাজারে আসামাত্রই ষিয়টি নজরে আসে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে গণসচেতনতায় কর্তব্যরত সোমভাগ ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ সদস্যদের।

মাস্ক না পড়ে বাড়ির বাইরে আসার কারণ জানতে চাইলে ওই বিশআববিদ্যালয় পড়–য়া ছাত্র তাদের কথার কোন জবাব দেননি। এসময় ওই ছাত্র করোনায় আক্রান্ত এমন সন্দেহে গ্রাম পুলিশ সদস্যরা তাদের সঙ্গে হাতে থাকা লাঠি দিয়ে ওই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে।

এসময় তার শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। গ্রাম পুলিশর সদস্যরা এসময় উপস্থিত লোকজনদের জানান, আপনারা দেখছেনতো “ওর”শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। “ও” করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। “ওর” কাছে কেউ-ই নিরাপদ নন। তাই ওকে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করতে হবে। এরপর ওই দুই গ্রাম পুলিশ থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহাকে অবহিত করেন। এরপর উপ-পরিদর্শক(এসআই) তš§য় সাহা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া ছাত্রকে থানায় নিয়ে আসেন।

এ ব্যাপারে গ্রাম পুলিশ সাধন ও সাগর জানান, আমরা করোনা প্রতিরোধে মানুষকে সচেতন করতে চেয়্যারম্যান ও তানার ওসি স্যারের নির্দেশে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। দায়িত্ব পালনকালে সকালের দিকে দেখতে পাই ওই ছেলেটি হাঁপাতে হাঁপাতে ইউনিয়ন পরিষদ বাজারে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।

আবার দেখি মুখে মাস্ক ও হাতে গ্লাভস পরা নেই। তাকে ডেকে এসব না পড়ার কারণ জানতে চাইলে সে এর কোন সদুত্তোর না দিয়ে উল্টো আমাদের ওপর ক্ষেপে যায়। এছাড়া তার প্রচন্ড ঠান্ডা, কাঁশি ও শ্বাসকষ্ট রয়েছে। তাই তাকে আটক করে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করি।

ওই বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র মোহাম্মদ আলী আজম খান বলেন, আমার কোন শ্বাসকষ্ট, কাঁশি কিংবা ঠান্ডাজনিত কোন রোগই নেই। গ্রাম পুলিশ আমার ওপর অমানুষিক নির্যাতন করেছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের কথা বলে পুরিশে সোপর্দ করেছে।

ধামরাই থানার পরিদর্শক (এসআই) তন্বয় সাহা বলেন, ওই ছাত্রকে পরীক্ষা করে দেখা হবে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে “কোয়ারেন্টিনে” আর আক্রান্ত না হলে পরিবারের কাছে পাঠানো হবে বলে উলে­খ করেন তিনি।

ঢাকা, ৩০ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।