"একি করলেন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার!"


Published: 2020-09-12 18:51:16 BdST, Updated: 2020-10-29 17:04:51 BdST

গবি লাইভ: সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় এনে ট্রাস্টি বোর্ডের সকল সদস্যের সম্মতিক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো: দেলোয়ার হোসেনকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ছাত্রীর সঙ্গে ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার পর ট্রাস্টি বোর্ডের জরুরি সভায় সকল সদস্যের সম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

শনিবার দুপুরে ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি প্রফেসর ড. সিরাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল ভবনের মেজর এটিএম হায়দার বীরউত্তম মিলনায়তনে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রফেসর সিরাজুল ইসলাম ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, 'এটা সত্য। বেশকিছু অভিযোগে উনাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। সভায় আলোচনার ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মিডিয়ার কাছেও উনার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল।'

এর আগে, গত মঙ্গলবার রেজিস্ট্রারের সাথে এক ছাত্রীর অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা সম্বলিত ২৬ মিনিট ৩২ সেকেন্ডের একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়। এ ঘটনার পর থেকে ক্যাম্পাসে তোলপাড় শুরু হয়। অবস্থার প্রেক্ষিতে জরুরী সভা আহ্বান করে ট্রাস্টি বোর্ড।

এ ঘটনায় ৩ দিনের মাঝে রেজিস্ট্রারকে বরখাস্তের দাবি জানিয়ে পরদিন ট্রাস্টি বোর্ডকে লিখিত বিবৃতি দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ। এছাড়া উনাকে বরখাস্ত এবং ঘটনার তদন্তের দাবি জানায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সাংস্কৃতিক সংগঠন অগ্নিসেতু, সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার ও ডিবেটিং সোসাইটি।

সার্বিক বিষয়ে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, 'উনি অব্যাহতি চেয়েছেন, তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।' অভিযোগের বিষয়ে কি ব্যবস্থা নেয়া হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

এ ব্যাপারে কেউ প্রমাণ নিয়ে আমাদের কাছে কমপ্লেইন করেনি।' এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত রেজিস্ট্রার মো. দেলোয়ার হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন কেটে দেন।

সভায় অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে প্রফেসর ড. আমিরুল ইসলাম চৌধুরী, প্রফেসর হোসনে আরা শাহেদ, প্রফেসর আলতাফুন্নেসা, প্রফেসর দিলারা চৌধুরী, ডা. জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ডা. লায়লা পারভীন বানু উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া জুমের মাধ্যমে সভায় যোগ দেন ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য বিচারপতি মোহাম্মদ আব্দুর রউফ, ড. সালেহ্ উদ্দিন আহমেদ, প্রফেসর ডা. সৈয়দ মোদ্দাচ্ছের আলী, ওয়ালিউল ইসলাম এবং শিরীন পারভীন হক ।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালেও রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে একই প্রতিষ্ঠানের একজন ছাত্রী যৌন নিপীড়ন সংক্রান্ত অভিযোগ ইউজিসিতে দাখিল করেন। প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করে তখন রেজিস্ট্রারের কাছে জবাব চাওয়া হয়। কিন্তু তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বলে ইউজিসি জানায়। এছাড়াও উনার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় নানা অভিযোগ উঠে এবং বিভিন্ন পত্রিকায় সেগুলো প্রকাশিত হয়।

ঢাকা, ১২ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।