''অনেকদিন ধরেই মৌমিতাকে উত্যক্ত করে আসছিলো জবি ট্রেজারার ড. কামালউদ্দীনের ছেলে ও তার বন্ধুরা''জবি ট্রেজারারের বাসার ছাদ থেকে পড়ে ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু


Published: 2021-02-27 21:38:10 BdST, Updated: 2021-04-23 02:07:34 BdST
জবি লাইভ: রাজধানীর ধানমন্ডিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বর্তমান ট্রেজারারের বাসার ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে তাজরিয়ান মোস্তফা মৌমিতা (২০) নামের এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় জবি ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদের ছেলে ফাইজারের বন্ধু আদনানকে আটক করেছে পুলিশ।
 
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নিউমার্কেট জোনের এডিসি ইহসানুল ফেরদৌস। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করা হয়েছে। ওই ছাত্রীর ময়নাতদন্তের পর মৃত্যু আসল কারণ জানা যাবে।
 
তরুণীর স্বজনদের দাবি, মালয়েশিয়ার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্রী করোনার সময় দেশে আসেন। একই ভবনের চতুর্থ তলায় ভাড়া থাকেন মৌমিতা পরিবার। নিহত তরুণীকে একই ভবনের পঞ্চম তলায় থাকা বাড়ির মালিকের ছেলে ফাইজার ও তার বন্ধু আদনান উত্ত্যক্ত করতো। এ ব্যাপারে ছেলেটির পরিবারকে জানানো হলে তারা কোনো কর্ণপাত করেনি। বরং নিহত শিক্ষার্থীর মাকে হুমকি করে। 
 

পরিবারের সন্দেহ, মৌমিতাকে কেউ ছাদ থেকে ধাক্কা দিয়েছে। তাদের দাবি, অনেকদিন ধরেই মৌমিতাকে উত্যক্ত করে আসছিলো সাত তলা ভবনের মালিক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদের ছেলে ও তার ছেলের বন্ধুরা।

জানা যায়, ধানমন্ডির কলাবাগানের গ্রীনরোডের ওই ভবনের চার তলায় থাকেন ব্যবসায়ী শামীম। তার মেয়ে মৌমিতা পড়ালেখা করতো মালয়শিয়ার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরিবার নিয়ে সেখানেই বসবাস করতেন তারা। গত কোরবানি ঈদে দেশে এসে করোনার কারণে আর ফেরা হয়নি।

শামীম বলেন, মাগরিবের আজানের আগে মেয়েকে মেসেজ দিলাম যে, তুমি কই? মেয়ে বললো আসতেছি, মাগরিবের নামাজের পরে খবর পেলাম আমার মেয়ে আর নেই। এ ঘটনার কয়েকদিন আগে ভবনের মালিকের ছেলে ফাইজার এবং তার বন্ধু আদনানের বিরুদ্ধে নিহত ছাত্রীর মাকে হুমকি দেয়ার অভিযোগ করেন তার বাবা শামীম।

তবে ছেলের বিরুদ্ধে নিহত ওই মেয়েকে উত্যক্ত করার অভিযোগ অস্বীকার করেন ভবন মালিক ও জবি ট্রেজারার কামালউদ্দীন। তিনি বলেন, ঘটনায় আমার ছেলে জড়িত নয়।

এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ বলেন, এই ঘটনার সাথে আমার ছেলে জড়িত নয়। ঘটনার পরে আমি ছাদ বন্ধ করে দিতে বলি। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।
 
উল্লেখ্য যে, শুক্রবার রাতে রাজধানীর ধানমন্ডিতে মালয়েশিয়ার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া তরুণী তাজরিয়ান মোস্তফা মৌমিতাকে বাসার ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে হত্যার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে।
 
ঢাকা, ২৭ ফেব্রুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি
 
 

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।