বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় এআইইউবি’র শিক্ষকের যেভাবে সলিল সমাধি


Published: 2021-07-04 00:31:23 BdST, Updated: 2021-09-18 03:34:23 BdST

চুয়াডাঙ্গা লাইভ: আর ফিরবেন না আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (এআইইউবি) কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের প্রভাষক মাইনুর রহমান মুন্না। তিনি বন্ধুদের নিয়ে গোসল করতে নেমে আর ফিরে আসেননি। চুয়াডাঙ্গা জেলার মাথাভাঙ্গা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হয়ে যান মাইনুর রহমান মুন্না। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে ডুবুরি দল। শনিবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যায় শহরের পৌর এলাকার সিএন্ডবি পাড়া থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এর আগে দুপুর ১টার দিকে মুন্নাসহ তিন বন্ধু নদীতে গোসল করতে নামেন। সেসময় থেকে মুন্না পানিতে ডুবে গিয়ে নিখোঁজ ছিলেন। নিহত মাইনুর রহমান মুন্না (২৭) পৌর এলাকার হাটকালুগঞ্জের আব্দুল মমিন বিশ্বাসের ছেলে। তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (এআইইউবি) কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগে কর্মরত ছিলেন।

মুন্নার বন্ধু আব্দুল মোমিন বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ির পাশেই মাথাভাঙ্গা নদীর ধারে বসে মাইনুর রহমান মুন্না ও সবুজসহ আমরা তিনজন গল্প করছিলাম। এর কিছুক্ষণ পর বৃষ্টি নামলে মুন্না ও সবুজ সাঁতার না জানলেও পানিতে নামে। এ সময় নদীতে পানি বেশি থাকায় মুহূর্তের মধ্যে তারা দুজন তলিয়ে যায়। আমি আশপাশের লোকজনকে ডাকলে তারা সবুজকে জীবিত উদ্ধার করতে পারলেও মুন্নাকে উদ্ধার করা যায়নি।

মৃত শিক্ষকের চাচা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, এই লকডাউনের মধ্যে সবকিছু বন্ধ থাকায় বাড়ি এসেছে মুন্না। পরে আজ দুপুরে সে তার দুই বন্ধু সবুজ ও মমিনুলকে নিয়ে মাথাভাঙ্গা নদীতে গোসল করতে নামে। মুন্না সাঁতার জানতো না। তার বন্ধু সবুজ ও মমিনুল নদীর তীরে উঠতে সক্ষম হলেও এক পর্যায়ে নদীর স্রোতে ভাসতে ভাসতে মুন্না পানিতে ডুবে যায়। এ সময় তাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে খবর দেয়া হয় চুয়াডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসে। তারা এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

মুন্নার চাচা কামরুজ্জামান আরো বলেন, মুন্না সাঁতার জানতো না। সে গত রোজার ঈদের আগে ঢাকা থেকে বাড়ি আসে। তার বাবা চুয়াডাঙ্গা পোস্ট অফিসের পোস্ট মাস্টার হিসেবে কর্মরত। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে মুন্না ছিল বড়। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে তার বাবা-মা পাগল প্রায়। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয়রা জানায়, শনিবর দুপুর ১টার দিকে মুন্না ও তার দুই বন্ধু সবুজ এবং মামুন পানিতে গোসল করার জন্য মাথাভাঙ্গা নদীতে নামেন। এসময় মুন্না নদীতে তলিয়ে যায়। এরপর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন তিনি। এসময় তার দুই বন্ধু ও স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেন।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে তারা খুঁজে না পেলে খুলনা থেকে ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার কাজ চালায়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নদীর তলদেশ থেকে মুন্নার মরদেহ উদ্ধার করে ডুবুরি দলের সদস্যরা।

চুয়াডাঙ্গা ফায়ার এন্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার আতিকুর রহমান জানান, ঘটনার পর থেকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালায়। সেসময় খুঁজে না পাওয়ায় খুলনা থেকে ডুবুরি দল আনা হয়। ডুবুরি দলের সদস্যরা নদীর তলদেশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। বিশ্ববিদ্যালয়ে তার সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরাও শোকে কাতর।

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান জানান, কোন অভিযোগ না থাকায় নিহতের মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ঢাকা, ০৩ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।