দেশের সেরা শীর্ষ দশ স্টার্টআপে শাবির ‘টুন টেল’


Published: 2019-05-20 14:42:09 BdST, Updated: 2019-06-20 13:27:33 BdST

শাবি লাইভ: 'আমার উদ্ভাবন, আমার স্বপ্ন' এই শ্লোগানকে সামনে রেখে শুরু হওয়া জাতীয় পর্যায়ের প্রথম স্টার্টআপ প্রতিযোগিতার বাছাইকৃত দেশের সেরা দশ দলের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দল। বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থীদের উদ্যোগ দেশের সেরা দশটি স্টার্টআপে স্থান করে নেয়ায় পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন দশলাখ টাকা।

চলতি বছরের ৮ মার্চ শুরু হওয়া এ স্টার্টআপ গত মঙ্গলবার সাভারের শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন কেন্দ্রে শুরু হওয়া 'স্টুডেন্ট টু স্টার্টআপ: চ্যাপ্টার ওয়ান' এর জাতীয় ক্যাম্পের শেষ দিন ১৬ মে’তে বিজয়ী শীর্ষ ১০ দলের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেন ডাক, টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

আইসিটি ডিভিশনের 'ইনোভেশন ডিজাইন অ্যান্ড অন্টোপ্রনারশিপ একাডেমি' (আইডিয়া) প্রকল্প ও সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ইয়াং বাংলার আয়োজনে চলা এই কার্যক্রমের জাতীয় ক্যাম্পের প্রথম দিনে অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তা দলগুলোকে নিয়ে শুরু হয় কর্মশালা। কর্মশালায় দেশের ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নির্বাচিত ১২০টি উদ্যোক্তা দলের তিনশ’র বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন।

১০ লাখ টাকা করে পাওয়া বিজয়ী অন্যান্য স্টার্টআপ হলো, অলিক, অ্যাসাপ, এগ্রো ড্রোন, ল্যাব এআর, লেটস ফার্নিস পেনটেস্টার একাডেমি, ওয়েস্ট বিন, স্টেম ক্লাব ও স্টুডিও থান্ডার বোল্ট।

‘টুন টেল’ মূলত একটি এন্ড্রয়েড এপ্লিকেশন। যা দিয়ে খুব সহজে এনিমেটেড মুভি বানানো যাবে। যে কেউ ইচ্ছা করলে নিজের মতো করে চরিত্র ও গল্প সৃষ্টি করে সহজ এনিমেটেড মুভি বানাতে পারবে এই এপসের মাধ্যমে।

টুন টেল দলের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী

 

এই টিমে মোট পাঁচজন সদস্য ছিলো, যার মধ্যে শাবির শিক্ষার্থী তিনজন। এরা হলেন শাবির ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল এন্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মোঃ মুশফিকুর রহমান, জাহিন আব্দুল্লাহ, নাজমুল হক।

অন্য দুজন হলেন পিজিএফ কর্নার প্রতিষ্ঠানের ট্রেইনার রিয়াদ আকতার অভি ও খুলনা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট এর শিক্ষার্থী প্রান্ত মন্ডল। অভি এপসটির থ্রিডি মডেল ডেভেলপার ও ক্যারেক্টার ডিজাইনে যুক্ত ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী নাজমুল হক টুন টেল এর মার্কেটিং সংক্রান্ত বিষয়গুলো দেখেছেন। তিনি এই এপসটিকে আরো বৃহৎ ভাবে সমৃদ্ধ করার স্বপ্ন দেখেন। তার ভাষ্যমতে, আমরা এদেশ থেকেই তরুণ সৃষ্টিশীল শিক্ষার্থীদের চিন্তাধারার জগতকে আরো বৃহৎ করতে চাই। যার প্রেক্ষিতে আমাদের এই উদ্যোগ। মোঃ মুশফিকুর রহমান অ্যাপসের প্রধান ডেভেলপার ও ইউজার ইন্টারফেস ডিজাইনার হিসেবে ছিলেন। জাহিন আব্দুল্লাহ ছিলেন গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে। অন্যদিকে থ্রিডি মডেলের পাশাপাশি এনভায়রনমেন্ট ডিজাইনে যুক্ত ছিলেন প্রান্ত মন্ডল।

প্রাপ্ত দশলাখ টাকা অনুদানে এই অ্যাপসটিকে আরো বৃহৎকরে তৈরীর স্বপ্ন দেখেন তারা। নাজমুল হক বলেন, এপসটি বর্তমানে বেটা ভার্সন আকারে আছে। আরও ডেভেলপ করে খুব শীঘ্রই ফুল ভার্সন আকারে রিলিজ দেয়া হবে। আর ভবিষ্যতে ইমেজ প্রসেসিং টেকনোলজি ব্যবহার করে নিজের ছবি তুলে সেটাকে ক্যারেক্টার এর থ্রিডি মডেলে রুপান্তর করার সুবিধা দেয়া হবে। এছাড়া মুভি বানানোকে আরও সহজ করতে আরও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করার কথাও ভাবছেন তারা।


ঢাকা, ২০ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।