মমতাময়ী মাকে বাঁচাতে বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষার্থীর আকুতি


Published: 2020-06-07 00:31:02 BdST, Updated: 2020-07-04 05:29:50 BdST

বশেমুরবিপ্রবি লাইভ: মহিউদ্দিন ভূঁইয়া। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) ইংরেজি বিভাগের ২য় বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী। স্বপ্ন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক হয়ে শিক্ষার্থীদের মানবিক গুণসম্পন্ন শিক্ষা বিতরণ করবেন। নিজ পরিবার ও সমাজের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবেন।

কিন্তু স্বপ্ন লালিত সেই দিনগুলো তাঁর মা দেখতে পারবেন কিনা, এমন শঙ্কায় আছেন তিনি। এক মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত মা সিরিয়া বেগম। নিম্নবিত্ত পরিবারের সংসার। মা'কে বাঁচাতে সকলের সহযোগিতা কামনা করে আকুতি জানিয়েছেন তিনি।

মহিউদ্দিন ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, "শুরুতে ধরে নিয়েছিলাম আমরা পারিবারিকভাবেই পারব। মাকে প্রথমে গোপালগঞ্জ এরপর ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। সকল রকম পরীক্ষানিরীক্ষা শেষে রিপোর্টের ভিত্তিতে ডাক্তার জানায় তার লিভারে একটি এবং কোলনে দুইটি টিউমার হয়েছে।

টিউমার ফেটে লিভারে এবং কোলনে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়েছে যা জরুরী ভিত্তিতে অপারেশনের প্রয়োজন ছিলো।" তিনি আরও জানিয়েছেন, "অভাব অনটনে কাটলেও টুকটাক যা চলছিল ঢিমেতালে ভালোই চলছিল তাদের। বৃদ্ধ পিতার আয় অনেক আগেই বন্ধ। টিউশন পড়িয়ে নিজের খরচ মেটাতেন, মাঝেমধ্যে পরিবারেও অর্থের যোগান দিতেন।

কিন্তু মহামারী করোনা এখানে বিপত্তি ঘটাল। লকডাউনে দুই ভাইয়ের সামান্য ছোট ব্যাবসাটাও বন্ধ, নিজের টিউশনিও বন্ধ। এমন পরিস্থিতিতে অর্থাভাবে বন্ধ মায়ের চিকিৎসাও"। তাঁর সহপাঠীরা নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে ফেসবুকে একটি লেখা শেয়ার করেছেন।

তারা ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানায়, "তাঁর পরিবার অপারেশন ফি, প্যাথলজি ও ওষুধ বাবদ মোট চার লক্ষ টাকার অধিক দিয়ে অপারেশন করিয়েছে" মহিউদ্দিনের বড় ভাই মোঃ আল হাদিস ভূঁইয়া ক্যাম্পাসলাইভকে জানিয়েছেন, "রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আল-মানার হাসপাতালে মায়ের অপারেশন হয়। অপারেশনের পর কেমোথেরাপি জরুরী হয়ে পড়েছে।

ডাক্তার জানায় কেমোথেরাপি দিতে হবে। আমি পেশায় একজন হকার, করোনা মহামারীতে আমার ক্ষুদ্র ব্যবসা টিও বন্ধ। আমাদের পক্ষে এখন মায়ের চিকিৎসা করানো কঠিন হয়ে পড়েছে"। ডাক্তার সাইফুদ্দিন দেওয়ানের বরাত দিয়ে মহিউদ্দিন জানান, "প্রতিটি কেমোথেরাপির খরচ ৩০০০০ টাকা, ১১ দিন পরপর মোট ৮ টি কেমোথেরাপি লাগবে। গত ২২ এপ্রিল ছিল ২য় কেমোথেরাপি দেওয়ার তারিখ।

কিন্তু অর্থের অভাবে দেওয়া হয়নি। মায়ের অবস্থা বেশি ভালো যাচ্ছেনা। সময়মতো কেমোথেরাপি দিতে না পারলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাবে"। এ ব্যাপারে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মাহাবুদ শেখ ক্যাম্পাসলাইভ কে জানান , "আমাদের বন্ধু মহিউদ্দিন এখন না পারছে মায়ের কেমোথেরাপি দিতে আর না পারছে চোখের সামনে মাকে মৃত্যুর কোলে ঠেলে দেওয়ার সাক্ষী হতে।

এমতাবস্থায় আপনাদের দোয়া ও আর্থিক সহযোগিতায় হয়তো সে তার মাকে সুস্থভাবে ফিরে পাবে।" আশাবাদী মহিউদ্দিন। মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়ায় এমন দৃষ্টান্ত তো করোনার মহামারীতেই দেখা গেছে। সহৃদয়বান ব্যক্তিরা এগিয়ে আসুন এই শিক্ষার্থীর মাকে বাঁচাতে।

যোগাযোগঃ মহিউদ্দিন ভুঁইয়া, ইংরেজি বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্বিবদ্যালয়, গোপালগঞ্জ।
ব্যাক্তিগত বিকাশ নাম্বার:
০১৭৭৬৫৭৮৫৬২ (মহিউদ্দিন ভূইয়া)
ইসলামী ব্যাংক হিসাব নাম্বার:
আল হাদিস, ২০৫০২০৮০২০২৮১৪০১৩, ইসলামী ব্যাংক গোপালগঞ্জ।

ঢাকা, ০৬ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআইটি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।