শতবর্ষে পদার্পণ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়


Published: 2020-07-01 09:32:01 BdST, Updated: 2020-08-14 17:39:05 BdST

ঢাবি লাইভ: জাতির অহংকার। জাতির গর্ব। বলতে গেলে গোটা জাতির আলোকবর্তিকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। এদেশের সকল নৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। ৯৯ বছর পেরিয়ে শত বছরে পদার্পণ করেছে। প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসের কারণে স্বল্প পরিসরে ৯৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। দেশের সব সংকট মুহূর্তে মুক্তির পথ দেখানো বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা ভালো নেই। নিজেদের মেধার পরিচয় দিয়ে এ বিদ্যাপীঠে ভর্তি হয়েও তারা রাজনৈতিক সংকট, আবাসন সংকট, যানবাহন সংকট, ক্লাসরুম সংকটসহ সর্বপরি মত প্রকাশের সংকট থেকে রেহাই পাচ্ছে না।

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনকালে স্বাধীন জাতিসত্তার বিকাশের লক্ষ্যে বিশ শতকের দ্বিতীয় দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ১৯২১ সালের ১ জুলাই শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টির দ্বার উন্মুক্ত হয়। সে সময়কার ঢাকার সবচেয়ে অভিজাত ও সৌন্দর্যমণ্ডিত রমনা এলাকায় প্রায় ৬০০ একর জমির ওপর গড়ে ওঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠাকালে তিনটি অনুষদ ও ১২টি বিভাগ নিয়ে একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এর যাত্রা শুরু হয়। প্রথম শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন বিভাগে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ছিল ৮৭৭ জন এবং শিক্ষক সংখ্যা ছিল মাত্র ৬০ জন।

বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৩টি অনুষদ, ১৩টি ইনস্টিটিউট, ৮৪টি বিভাগ, ৬০টি ব্যুরো ও গবেষণা কেন্দ্র এবং ছাত্র-ছাত্রীদের ১৯টি আবাসিক হল, ৪টি হোস্টেল ও ১৩৮টি উপাদানকল্প কলেজ ও ইনস্টিটিউট রয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ৪৬ হাজার ১৫০ জন। পাঠদান ও গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন প্রায় ২ হাজার ৮ জন শিক্ষক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সকাল সাড়ে ১০টায় নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন প্রাঙ্গণে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বেলুন উড়ানোর মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হবে। বেলা ১১টায় অধ্যাপক আবদুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে ভিসি অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনলাইন সভা অনুষ্ঠিত হবে।

এতে মূল বক্তা হিসেবে জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ‘শতবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, প্রসঙ্গ : আন্দোলন ও সংগ্রাম’ শীর্ষক বক্তব্য দেবেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি (প্রশাসন), প্রোভিসি (শিক্ষা), কোষাধ্যক্ষ, সাবেক দুই ভিসি, দুই ডিন, একজন প্রভোস্ট, একজন রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট, ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং ঢাবি শিক্ষক সমিতিসহ অন্যসব সমিতির পক্ষ থেকে নেতারা এ অনলাইন অনুষ্ঠানে সংযুক্ত হবেন।

১৯২১ সালের এ দিনে যাত্রা শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়টি। এরপর স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায়, জাতির মনন গঠনে বিশ্ববিদ্যালয়টির ভূমিকা অনন্য। আজকের এ দিনে বিশ্ববিদ্যালয়টি পা দিচ্ছে শতবর্ষে।

শতবর্ষ উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এক শুভেচ্ছা বক্তব্য দিয়েছেন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান শুভেচ্ছা বাণীতে বলেন, ‘পহেলা জুলাই ২০২০। ৯৯ বছর শেষ করে এদিন শতবর্ষে পা দিবে আমাদের এই চিরতরুণ প্রতিষ্ঠান। করোনার উদ্ভূত পরিস্থিতিতে লোকসমাবেশ এড়িয়ে প্রাণপ্রিয় ছাত্র-ছাত্রীবিহীন স্বল্পপরিসরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আয়োজনে নি:সন্দেহে আনন্দ, প্রশান্তি ও স্বস্তির ঘাটতি অনস্বীকার্য। তবে মুজিববর্ষের এই অলোকসামান্য কালপর্বে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এবারের বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের তাত্পর্য অত্যন্ত গভীর ও ব্যাপক।’

তিনি আরো বলেন, প্রকৃতপক্ষে, বঙ্গবন্ধু এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ নামক আমাদের প্রাণপ্রিয় মাতৃভূমির দুই অন্তহীন প্রেরণা-উত্স। জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষে পালিত হওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ২০২০ লাভ করবে এক অনন্য মাত্রা।

উপচার্য আরো বলেন, শিক্ষা ও গবেষণার বিস্তার, মুক্তচিন্তার উন্মেষ ও বিকাশ এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নতুন ও মৌলিক জ্ঞান সৃষ্টির লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনটি অনুষদ, ১২টি বিভাগ, ৬০ জন শিক্ষক, ৮৪৭ জন শিক্ষার্থী এবং তিনটি আবাসিক হল নিয়ে ১৯২১ সালের ১ জুলাই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল। ২০২১ সালে আমাদের অস্তিত্বপ্রতিম এই প্রতিষ্ঠান শতবর্ষপূর্তি উদ্যাপন করবে। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীও একই বছর উদ্যাপিত হবে। তাই এটি হবে আমাদের জন্য এক বিশেষ মর্যাদা, সম্মান, আবেগ, অনুভূতির সংশ্লেষে গৌরবদীপ্ত বছর।

তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের অতিসংক্রমণের কারণে সমগ্র বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশও গভীর সংকটময় মুহূর্ত অতিক্রম করছে। আশার কথা এই যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যবৃন্দ বিশেষ করে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলায় মানবিক সহায়তায় এগিয়ে এসেছে। তাদের প্রতি অসীম কৃতজ্ঞতা।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিস্ময়কর অভিযাত্রার নিরবচ্ছিন্ন সঙ্গী হয়ে এই জ্ঞানপীঠ যেন আরো বেশি করে পৃথিবীর সাম্প্রতিকতম জ্ঞানকে আয়ত্ব্ব করার সাধনায় নিয়োজিত থাকতে পারে আর মৌলিক গবেষণার সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার গুণগত মান ও পরিবেশ উন্নয়ন ঘটাতে পারে, সেই প্রত্যাশায় আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ২০২০-কে সফল করে তুলি।

ঢাকা, ০১ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআইটি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।