মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি, বেপরোয়া রাবি ছাত্রলীগ


Published: 2019-09-15 19:53:42 BdST, Updated: 2019-10-19 06:10:08 BdST

রাবি লাইভ: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির নেতাকর্মীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই 'নিয়ন্ত্রণহীন' হয়ে পড়ায় নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে বারবার অভিযুক্ত হচ্ছেন। সম্প্রতি দলীয় কর্মীদের মারধর, হলে সিট বাণিজ্য, অবৈধভাবে সিট দখল, আবাসিক শিক্ষার্থীকে সিট থেকে নামিয়ে দেওয়া ও সাংবাদিকের সিট দখলসহ নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন রাবি শাখা ছাত্রলীগ। নেতাকর্মীদের এমন কর্মকাণ্ডে ইমেজ সংকটে পড়েছে বলে মনে করছেন সংগঠনটির একাধিক সিনিয়র নেতা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সিনিয়র নেতা বলেন, 'কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে প্রায় দুই বছর আগে। এরপর থেকে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ এ শাখাটি। যার ফলে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মীর দ্বারা একের পর এক উশৃঙ্খল কর্মকাণ্ড সংগঠিত হচ্ছে। যেসব নেতাকর্মী বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার ফলে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।'

জানা যায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে এক শিক্ষার্থীকে সিটে তুলে দেয় হল প্রাধ্যক্ষ। পরে ওই দিনই সেই শিক্ষার্থীকে সিট থেকে নামিয়ে দেন শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মাহমুদুল হাসান শাকিল। এরপর ৯ সেপ্টেম্বর রাতে এক সাংবাদিকের সিট দখল করে হল থেকে বের করে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আইন অনুষদের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম।

এছাড়া ১০ সেপ্টেম্বর রাতে মোটরসাইকেল চালিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের বেদিতে উঠেন ছাত্রলীগের যুগ্ম-সম্পাদক গোলাম রাব্বানী রবি। পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে সমালোচনার মুখে পড়েন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শাখা ছাত্রলীগ।

সর্বশেষ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার বখশ হলের গেস্টরুমে বসাকে কেন্দ্র করে গত ১৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য সাকিবুল ইসলাম বাকির অনুসারীদের রাস্তায় ফেলে মারধর করে কিবরিয়া-রুনুর অনুসারীরা। দলীয় কর্মীদের মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এ ঘটনার দুই দিন পার হলেও ছাত্রলীগের দু'পক্ষের সংঘর্ষের আশঙ্কায় এখনো পর্যন্ত হলের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আবাসিক ছাত্র হলগুলোতে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছে। হলে কোনো সিট খালি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কর্মীরা কক্ষ ভাগ করে নিয়ে নিচ্ছেন। ফলে আবাসিকতা থাকা সত্ত্বেও অনেক শিক্ষার্থী হলে সিট পাচ্ছেন না। আবার ছাত্রলীগের শরণাপন্ন না হয়ে কোনো শিক্ষার্থী হলে উঠলে তাকে হল থেকে বের করেও দেওয়া হচ্ছে। ছাত্রলীগের মারমুখী আচরণের ফলে হল প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে হলের সিটসহ বিভিন্ন ইস্যুতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি হল প্রশাসনও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে।

হলের সিটের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক রেজাউল করিম বকশী বলেন, 'আমরা বিভিন্নভাবে জানতে পেরেছি হলগুলোতে এ ধরনের সমস্যা হচ্ছে। তবে নির্দিষ্ট কেউ এসে অভিযোগ করেনি। বিষয়টি সমাধানের জন্য আমরা উপাচার্যের সঙ্গে বসব।'

জানতে চাইলে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, 'নেতাকর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে। এরপরেও যদি কেউ কোনো নেতিবাচক কর্মকাণ্ড করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

 

ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।