রাবি শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগের মারধর; বহিষ্কার ২


Published: 2019-11-17 16:54:11 BdST, Updated: 2019-12-09 18:38:59 BdST

রাবি লাইভঃ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ফাইন্যান্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সোহরাব মিয়াকে ছাত্রলীগের দুই কর্মীর মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিস্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বহিস্কৃতরা হলেন, ইসলামিক স্ট্যাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম ও বাংলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী কবির নাহিদ। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর প্রফেসর ড. লুৎফর রহমান।

এর আগে, প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। রোববার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে নিপীড়ন বিরোধী ছাত্র-শিক্ষক ঐক্যের ব্যানারে মানববন্ধন করেন তারা।

এদিকে হামলায় জড়িতদের বহিষ্কার দাবিতে বেলা ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত ঘন্টাব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবন ঘেরাও করে শিক্ষার্থীরা। এসময় হামলায় জড়িতদের সাত দিনের মধ্যে গ্রেপ্তার ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিস্কার করার আল্টিমেটাম দিয়ে অবস্থান কর্মসূচি থেকে সরে আসেন।

মানববন্ধনে আরবী বিভাগের প্রফেসর ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ এর সঞ্চলনায় বক্তব্য দেন সমাজকর্ম বিভাগের প্রফেসর আক্তার হোসেন মজুমদার, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর সালেহ হাসান নকীব, উদ্ভিদ বিভাগের সহযোগী প্রফেসর ইমতিয়াজ আহমেদ, আইইআর বিভাগের প্রফেসর আক্তার বানু আল্পনা প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পেশি শক্তির আস্তানা গড়ে উঠেছে। গুন্ডামী শিক্ষাতে ছাপিয়ে উঠেছে। বিভিন্ন সময় ছাত্রদের মানসিক ও দৈহিক নিপীড়নের মত ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেই চলেছে। বৈধ আবাসিক শিক্ষার্থীকে বের করে ছাত্র নামধারী দুর্বৃত্তরা হল থেকে বের করে দিয়েছে। অছাত্র বখাটে কর্তৃক ছাত্রী নিগ্রহ ঘটে চলেছে। কিন্তু প্রশাসনের নিরাপত্তার বিষয়ে তেমন কোন পদক্ষেপ নেয়নি।

এ সময় কয়েকটি দাবি জানান তারা। দাবিগুলো হলো, নিপীড়ক শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী বহিষ্কার, দায়িত্বে অবহেলার জন্য হল প্রশাসনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, কোন নির্যাতন হলে প্রশাসন মামলার তদারকি, ব্যয়ভার বহন করা, হলের সব জায়গায় সিসিটিভির ব্যবস্থা, বৈধ শিক্ষার্থীদের সিট দেওয়া, কোন সংগঠনের হস্তক্ষেপ না করা ইত্যাদি দাবি জানান তারা।

হামলায় জড়িতদের বহিষ্কার দাবিতে মানববন্ধন

 

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১২ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হলের তৃতীয় ব্লকের ২৫৪ নম্বর কক্ষে সোহরাবকে নিয়ে যান। সেখানে নানা রকম কথা জিজ্ঞাসা করে হল ছাত্রলীগ নেতা রাকিবুল ইসলাম ওরফে আসিফ লাক ও হুমায়ুন কবির নাহিদ। এক পর্যায়ে তারা দুইজন মিলে সোহরাবের মাথা ও হাতে আঘাত করা হয়।

এতে রক্তাক্ত হলে তারা মারধর বন্ধ করে। পরে তার বন্ধুরা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে পরে রামেকে ভর্তি করে।

ঢাকা, ১৭ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।