৪ রাবি শিক্ষার্থীর বাণিজ্যিক আইডিয়া “ধুয়ে দেই”


Published: 2020-03-07 16:30:16 BdST, Updated: 2020-04-06 22:59:03 BdST

রাশেদ রাজনঃ বেশ কয়েক বছর ধরে পাবলিক, বেসরকারী কিংবা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মাঝে বিসিএস অথবা সরকারী চাকরী করার একটি ট্রেন্ড ভয়াবহভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে এদিকেই ঝুঁকছেন অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা।

এতে করে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিপুল পরিমাণে শ্রম শক্তির নষ্ট হচ্ছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। এতকিছুর মধ্যে থেকেও ট্রেডিশনের বাইরে গিয়ে নিজেদের উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করতে প্রস্তুতি নিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ জন শিক্ষার্থী। ইতিমধ্যেই এই শিক্ষার্থীরা নতুন বাণিজ্যিক আইডিয়া নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। যার নাম দিয়েছেন “ধুয়ে দেই”।

“ধুয়ে দেই” বাণিজ্যিক আইডিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাবির আবাসিক ছাত্রদের দৈনন্দিন ব্যবহৃত কাপড় ধুয়ে পরিষ্কার করে দিবে। সাথে থাকছে ফ্রি হোম ডেলিভারি সার্ভিস।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী সালমান খান ফারসি, হামিম শেঠ, অভিষেক বিশাল চৌধুরী, পলাশ বিন ফারুকের যৌথ উদ্যোগে এই বাণিজ্যিক আইডিয়ার যাত্রা শুরু হয় গত ফেব্রæয়ারি মাসের ২০ তারিখে। তারা জানিয়েছেন, প্রতিদিনের খরচ কমিয়ে একবছরের জমানো অর্থ দিয়ে এই উদ্যোগটি শুরু করেন তারা।

“ধুয়ে দেই” এর উদ্যোক্তা সালমান ফারসি বলেন, প্রাথমিকভাবে উনারা রাবির হোসেন শহীদ সোহরওয়ার্দী হল দিয়ে যাত্র শুরু করেন তারা। বর্তমানে ছেলেদের ১১টি হলের শিক্ষার্থীদের অর্ডার নিচ্ছেন তারা। এছাড়ও পাশ্বর্তী রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ছাত্রদের থেকেও বেশ সাড়া পাচ্ছেন তারা।

এবিষয়ে ফারসি আরো বলেন, “ধুয়ে দেই” ফেসবুক পেজে থেকে মেসেজ ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অর্ডার নিয়ে থাকেন। আর এই অর্ডারের ভিত্তিতে উনারা রাত ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত কাপড় সংগ্রহ এবং হোম ডেলিভারি করে থাকেন।

অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর ড. কে বি এম মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা এদের মত শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করি। তারা যদি যথাযথভাবে কাজটি করতে পারে এটা খুবই ভাল। বর্তমানে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার উপ-মহাদেশের মধ্যে সবচেয়ে কম যেটি ভাল দিক। আমাদের দেশে যে পরিমাণ মানবসম্পদ আছে সে পরিমাণ উদ্যোক্তা নেই। দেশকে এগিয়ে নিতে যেটি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন উদ্যোক্তা সৃষ্টি করা।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক মাহবুবুর রহমান আরো বলেন, ছেলে মেয়েদের এধরণে নতুন নতুন আইডিয়াগুলোকে কাজে লাগিয়ে উদ্যোক্তা সৃষ্টির পথ প্রশস্ত করতে হবে। এই মুহুর্তে আমাদের দেশে খুব মেধাবী ছাত্রছাত্রীর দরকার নেই। উদ্যোগী ছেলে মেয়ে দরকার। একজন উদ্যোগী হলে আরো ৫জন সেখানে কাজ পায়। এধরণের আইডিয়া নিয়ে যারা কাজ করতে চান তাদেরকে সহযোগীতার জন্য সরকারকে অবশ্যই এগিয়ে আসতে হবে। এরকম যৌথ উদ্যোগে যদি কাজ করা যায় তাহলে দেশে অর্থনীতিতে ব্যাপক উন্নয়ন করা সম্ভব।

ড. মাহবুবুর রহমান আরো জানান, বিপুল পরিমাণ জনগোষ্ঠী যদি বেকার থাকে তাহলে আরো কিছু জনগোষ্ঠীর উপর চাপ সৃষ্টি করে ফলে অর্থনীতিতে ভাল অবস্থানে যাওয়া যায় না। আমাদের দেশে সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে ১৫ থেকে ৫৯ বছর বয়সের মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। যে বয়সের মানুষগুলোকে “কার্যকর শ্রমশক্তি” বলে যা অনেক উন্নত দেশরে চেয়ে এর সংখ্যা অনেক বেশি। এই বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীকে যদি বসে থাকে তাহলে দেশ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ঢাকা, ০৭ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//টিআর

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।