ডিজিটাল আইনে আটক রাবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মুক্তি দাবি


Published: 2020-06-26 21:26:54 BdST, Updated: 2020-08-06 22:23:54 BdST

রাবি লাইভঃ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-ছাত্রসহ বিভিন্ন পেশার মানুষকে আটকের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ এবং প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিপীড়ন বিরোধী ছাত্র-শিক্ষক ঐক্য। শুক্রবার সন্ধ্যায় এই বিবৃতি লিখিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়।

নিপীড়ন বিরোধী ছাত্র-শিক্ষক ঐক্য-এর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একটি বহুমাত্রিক, উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের আকাঙ্খা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা। স্বাধীন বাংলাদেশের সকল নাগরিক তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার নির্বিঘ্নে চর্চা করবেন, রাষ্ট্র সকল নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করবে এই আমাদের চাওয়া।

কিন্তু আজ গভীর উদ্বেগের সাথে আমরা লক্ষ্য করছি, নির্দ্বিধায় মত প্রকাশের নাগরিক অধিকার সংকুচিত হয়ে পড়ছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের লাগামহীন ব্যবহার এবং অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত আক্রোশ চরিতার্থ করতে এই আইনের অপব্যবহার এক ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। একটি রাষ্ট্রের সুষ্ঠু এবং সুস্থ পরিচালনার জন্যই নাগরিকের মত প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা থাকা প্রয়োজন। এর যেকোনো বিচ্যুতি রাষ্ট্র এবং সরকারের ভাবমূর্তি বিশ্বের দরবারে দারুণভাবে ক্ষুণ্ণ করে।

সাম্প্রতিক সময়ে আমরা দুঃখের সাথে লক্ষ্য করলাম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক, ছাত্র, কার্টুনিস্ট, সংবাদকর্মী, রাজনীতিবিদ, এমনকি ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আটক করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে কোন কোন ঘটনা প্রকাশিত হয়েছে। এটি বাংলাদেশের মর্যাদা বিশ্ববাসীর চোখে ক্ষুণ্ণ করেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে: নাগরিক অধিকারের সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। রাষ্ট্র থাকলে, সরকার থাকবে। আর সেই সরকারের অথবা সরকারে দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গের প্রশংসা ও সমালোচনা অত্যন্ত স্বাভাবিক ঘটনা। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সমালোচনা একটি নৈমিত্তিক চর্চা। একটি গণতান্ত্রিক সরকার এই সমালোচনার বিরুদ্ধে রাষ্ট্র ক্ষমতা প্রদর্শন করে না।
আমরা মনে করি, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের এই লাগামহীন অপপ্রয়োগ বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি মোটেই কাম্য নয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আটক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-ছাত্রসহ সকলের আশু মুক্তি দাবী করছি।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সাথে সাংবিধানিক নাগরিক অধিকার সাংঘর্ষিক বলে আমাদের ধারণা। বর্তমান সময়ে এই আইনের অপপ্রয়োগ যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্টকারী এবং স্বাধীন ও নির্ভয় মত প্রকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী এই আইনটি অতি শীঘ্র বাতিল করাই সঙ্গত বলে আমাদের মনে হয়। এ ব্যাপারে সরকার একটি কল্যাণকামী ও সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে, এই আমাদের প্রত্যাশা।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর কারী শিক্ষকবৃন্দের মধ্যে রয়েছেন, প্রফেসর ড. সালেহ্ হাসান নকীব, প্রফেসর ড. আফরীনা মামুন, প্রফেসর ড. মো. আক্তার আলী, প্রফেসর ড. দিল আরা হোসেন, প্রফেসর ড. এফ নজরুল ইসলাম, প্রফেসর ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ, প্রফেসর ড. আহমেদ ইমতিয়াজ, প্রফেসর ড. মো. শামসুজ্জোহা এছামী, প্রফেসর ড.সৈয়দ সরওয়ার জাহান লিটন, প্রফেসর ড. আকতার বানু আল্পনা, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী, অধ্যাপক মো. ছাইফুল ইসলাম শামীম।

প্রফেসর ড. মো. আতিকুর রহমান পাটোয়ারী, ড. মো. আখতার হোসেন মজুমদার, ড. মোহা. মনিরুল হক, অধ্যাপক মোহাম্মদ হাবিবুল ইসলাম, ড. মো.ছামিউল ইসলাম সরকার, অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুস ছালাম, অধ্যাপক মো. সাইফুর রহমান, অধ্যাপক মো. রিজু খন্দকার প্রমূখ।

ঢাকা, ২৬ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।