নাসিমের বিরুদ্ধে স্ট্যাটাসের জের,,,রাবি শিক্ষক জাহিদ যে কারণে বরখাস্ত...


Published: 2020-06-27 16:12:14 BdST, Updated: 2020-08-06 21:37:58 BdST

রাবি লাইভ: অবশেষে চাকুরি হারালেন সেই শিক্ষক। কেবল একটি স্ট্যাটাস তাকে প্রথমে গ্রেফতার পরে চাকরি থেকে টেনে নামানো হয়েছে। সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রয়াত মোহাম্মদ নাসিমকে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তির অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষক কাজী জাহিদুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

রাবি ভিসি অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান ২৭ জুন জানান তার বাসভবনে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন এটি আমার কোন একক সিদ্ধান্ত নয়। তিনি যে অন্যায় করেছেন সেই অন্যায়ের শাস্তি এটি।

ভিসি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষক কাজী জাহিদুর রহমানকে গত ১৮ জুন থেকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আর আইন অনুযায়ীই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কোন ব্যক্তিগত কারণে এই সিদ্ধান্ত হয়নি।

জাহিদুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সদ্য প্রয়াত সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়।

প্রসঙ্গত নগরীর সাগরপাড়া এলাকার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট তাপস কুমার সাহা বুধবার (১৭ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মতিহার থানায় শিক্ষক জাহিদের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা দায়ের করেন। মতিহার থানার ওসি মাসুদ পারভেজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজহারে উল্লেখ করা হয়, কাজী জাহিদুর রহমান গত ১, ২ ও ৫ জুন নিজের ফেসবুক ওয়ালে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমকে নিয়ে কল্পনাপ্রসূত, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করেন। সেখানে একটি পোস্টে মোহাম্মদ নাসিমের ছবি ও নাম উল্লেখ করা হয়। বাকি পোস্টগুলোতে মোহাম্মদ নাসিমকে ইঙ্গিত করা হয়।

এজহারে বলা হয়, মোহাম্মদ নাসিম বাংলাদেশ সরকারের সাবেক মন্ত্রী। তিনি জাতীয় চার নেতার অন্যতম ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর পুত্র। তার বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক এমন মিথ্যা তথ্য ফেসবুকে শেয়ার করায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষও সংক্ষুব্ধ।

গত ১ জুন রাতে মোহাম্মদ নাসিম অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে ‘তাঁর অসুস্থতা নিয়ে’ ব্যঙ্গ করে নিজের ফেসবুকে স্টাটাস দেন শিক্ষক কাজী জাহিদুর রহমান। সেই স্টাটাসে সরাসরি মোহাম্মদ নাসিমের নাম উল্লেখ না থাকলেও স্পষ্ট তাঁকে ইঙ্গিত করে ‘বিষোদাগার’ করার অভিযোগ উঠে কাজী জাহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে। সেখানে বিক্ষিপ্তভাবে ‘উগ্র’ ভাষা ব্যবহার করে জাতীয় চার নেতার অন্যতম ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলীর সন্তান মোহাম্মদ নাসিমকে তিনি পরামর্শ দেন- ‘করোনাকে ঘুষ দিয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে আসার’!

পরদিন ২ জুন বিকেলে ফের স্টাটাস দেন কাজী জাহিদুর রহমান। সেখানেও নাম উল্লেখ না করে চিকিৎসা খাত নিয়ে সমালোচনা করেন। ‘তাঁর আমলে’ শব্দের ব্যবহারে কৌশলে মোহাম্মদ নাসিমকে ইঙ্গিত করেন তিনি। সেখানে ‘অসুস্থ নাসিমকে’ ইঙ্গিত করে অক্সিজেনের পরিবর্তে তাঁকে কার্বনডাইঅক্সাইড দেওয়ার দাবি তোলেন তিনি।

আর ৫ জুন ‘কাজ করে না এমন ভেন্টিলেটর দিয়ে শ্বাস দেয়ার ব্যবস্থা করা হোক’ এমন বাক্যও লেখেন কাজী জাহিদুর। ওই স্টাটাসে সবশেষে নাসিমকে ইঙ্গিত করে ‘এসব চোর’ বলে সম্বোধন করা হয়।

ওই পোস্টগুলো প্রথমে সেভাবে সামনে না আসলেও মোহাম্মদ নাসিম মারা যাওয়ার পর এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক একই ধরনের অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর শিক্ষক জাহিদের মন্তব্য নিয়েও সমালোচনায় মুখর হয়েছেন ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে শিক্ষক কাজী জাহিদুর রহমানের শাস্তির দাবিও তুলেছেন তারা।

এর মধ্যে গত ১৫ জুন বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এম আব্দুস সোবহানের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে শিক্ষক কাজী জাহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু।

ঢাকা, ২৭ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআইটি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।